০৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাম থেকে শিশুর সুরক্ষায় সতর্কতা ও টিকাদানের তাগিদ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললেই এই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

রোববার (৪ এপ্রিল) জরুরি হামের টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে বুকলেটে এ জাতীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  

এতে বলা হয়, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং চোখের জটিলতাসহ নানা গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

সাধারণত হামের লক্ষণ হিসেবে প্রথমে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত উচ্চ জ্বর থাকে। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা প্রথমে মুখে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা পানি পড়া এবং খাওয়ার অনীহা বা দুর্বলতা দেখা যায়।
এই রোগ খুব দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে তার সংস্পর্শে আসা অন্যদের মধ্যে সহজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আলাদা রাখা ও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যার সময় মাস্ক ব্যবহার করা ও বারবার সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আক্রান্ত শিশুর যত্নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ সময় শিশুকে বেশি পরিমাণে তরল খাবার, পানি ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে। বুকের দুধপানকারী শিশুদের নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, শাকসবজি খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সেই সব শিশু, যারা এখনও হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নেয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, যে কোনো বয়সের মানুষ হাম আক্রান্ত হতে পারলেও টিকা না নেওয়া ছোট শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা। শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দিতে হবে। পাশাপাশি ২ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু এখনও টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও সমাজের সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

এসইউজে/এমকেআর 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

নওগাঁয় ফুয়েল অ্যাপে তেল বিক্রি শুরু, ভোগান্তি থাকলেও ফিরছে শৃঙ্খলা

হাম থেকে শিশুর সুরক্ষায় সতর্কতা ও টিকাদানের তাগিদ

আপডেট সময়ঃ ১২:০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললেই এই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

রোববার (৪ এপ্রিল) জরুরি হামের টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে বুকলেটে এ জাতীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  

এতে বলা হয়, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং চোখের জটিলতাসহ নানা গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

সাধারণত হামের লক্ষণ হিসেবে প্রথমে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত উচ্চ জ্বর থাকে। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা প্রথমে মুখে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা পানি পড়া এবং খাওয়ার অনীহা বা দুর্বলতা দেখা যায়।
এই রোগ খুব দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে তার সংস্পর্শে আসা অন্যদের মধ্যে সহজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আলাদা রাখা ও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যার সময় মাস্ক ব্যবহার করা ও বারবার সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আক্রান্ত শিশুর যত্নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ সময় শিশুকে বেশি পরিমাণে তরল খাবার, পানি ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে। বুকের দুধপানকারী শিশুদের নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, শাকসবজি খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সেই সব শিশু, যারা এখনও হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নেয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, যে কোনো বয়সের মানুষ হাম আক্রান্ত হতে পারলেও টিকা না নেওয়া ছোট শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা। শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দিতে হবে। পাশাপাশি ২ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু এখনও টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও সমাজের সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

এসইউজে/এমকেআর 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।