আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক আহসান হাবিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সন্তানকে নিজের কাছে নিতে জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে স্ত্রীকে মানসিকভাবে অসুস্থ হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগে করা মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, সমন জারির পর নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রিদওয়ান হোসেন রবিন জানান, আদালতে হাজিরার দিন থাকলেও আহসান হাবিব উপস্থিত না হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, আহসান হাবিব ভূঁইয়া পরিবারের অগোচরে আয়েশা আতিককে বিয়ে করেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আয়েশা অন্তঃসত্ত্বা হলে তিনি স্বামীর পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এ সময় তিনি জানতে পারেন, আহসান হাবিবের অন্য নারীর সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে।
সন্তান জন্মের জন্য ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর আয়েশা স্বামীর পরিবারের সঙ্গে ব্যাংককে যান এবং গত বছরের ১ জানুয়ারি তাদের পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। ১২ জানুয়ারি তারা দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে আয়েশার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ২৭ জানুয়ারি তাকে সন্তান রেখে বাড়ি ছাড়তে বলা হয় এবং দুইদিন পর সন্তানসহ তাকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় তার গয়না, ক্যামেরা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন
গুমে জড়িতরা আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাবেন, তা মনে করার কারণ নেই
সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ, যানবাহন কেনায় কড়াকড়ি
মামলায় আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আয়েশা জানতে পারেন তাকে মানসিক রোগী প্রমাণ করে সন্তানের হেফাজত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ উদ্দেশ্যে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য ব্যবহার করে তার স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে মনোবিদের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, অথরাইজেশন লেটার এবং পাসপোর্টের কপিতে জাল স্বাক্ষর দিয়ে এসব নথি প্রস্তুত করা হয়।
এছাড়া ২১ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে ব্যাংকক সফরের সময় পুনরায় তার নামে মানসিক অসুস্থতার মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে আদালতে জমা দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ৬ এপ্রিল আয়েশা আতিক তালাকের নোটিস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আহসান হাবিব ৩০ জুলাই দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারের দাবিতে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আয়েশার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ আতিকুর রহমান গত বছরের ১৬ অক্টোবর আদালতে মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যে সময়ের কথা উল্লেখ করে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয়েছে, সে সময় আয়েশা ব্যাংককে যাননি।
আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে সিআইডি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে সহ-আসামি হিসেবে থাকা আহসান হাবিবের বাড়ির ম্যানেজার রিপন ও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে আদালত আহসান হাবিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এমডিএএ/কেএসআর
এডমিন 


















