০৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত ছাড়ার ব্যবস্থা করবে ইরান

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • 3

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজগুলো দ্রুত হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে পারবে। তিনি বলেন, “যুদ্ধাবস্থার জন্য অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের কিছু জাহাজও হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে। আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করব। বাংলাদেশের জাহাজ ছাড়ার ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ। অতি দ্রুত জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা ব্যবস্থাগ্রহণ করব।”

রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক এক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইরানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। বাংলাদেশকে আমরা ভাইয়ের দেশ হিসাবেই মনে করি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নাই।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় আলোচনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেন, “যুদ্ধ বিরতির আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ওমানসহ যারা আমাদের সহযোগিতা করেছে তাদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান বলে দিয়েছে, ইসলামাবাদে মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে আলোচনা করবে নয়তো তারা কোনো আলোচনা করবে না। আমরা আমেরিকাকে এই বার্তা দিয়েছি তারা যদি মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা করে তাহলে আমরা আলোচনা করব নয়তো করব না। আর যতদিন পর্যন্ত আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ততদিন আমরা হামলা করব না। তবে আমেরিকা যদি যুদ্ধবিরতি না মেনে হামলা চালায় তাহলে ইরানও হামলা করতে বাধ্য হবে।”

ইসলামাবাদ আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এর আগেও আলোচনা করেছিলাম তার মধ্যেও আমেরিকা আমাদের উপর হামলা করেছে। আমরা এবারও নিশ্চিত ছিলাম আমেরিকা আসলে আমাদের জন্য কোনো শান্তি বা শান্তি চুক্তির জন্য আসেনি। তারা মূলত বিশ্বের কাছে দেখাতে চেয়েছে তারা শান্তি চায় আর ইরান যুদ্ধ চায়। আসলে আমেরিকা কখনো শান্তি চায় না। তারা ইরানের উপর এজন্য অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। যে ইরান কখনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে পারবে না। আমেরিকার ভাষ্য হলো বিশ্বের সব দেশ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে পারবে কিন্তু ইরান হতে পারবে না।”

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সফল হয়নি জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “আমেরিকা মূলত ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হামলা চালিয়েছিল। তারা ভেবেছিল হামলা চালালে ইরান বিরোধীরা রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকার পতন হবে। কিন্তু দেখা গেল ইরানের জনগণ রাস্তায় ঠিকই নেমেছে কিন্তু সরকারের পক্ষে, আমেরিকার বিরুদ্ধে। আমেরিকার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, তারা সফল হয়নি। আমেরিকা চেয়েছে হরমুজ প্রণালী নিজেদের মতো চালাবে কিন্তু সেখানেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। তারা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা চালিয়েছে, স্কুলে হামলা চালিয়েছে। তারা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে এবং স্কুলে হামলা চালিয়ে নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করেছে। ইরান এসব হামলার বিরুদ্ধে মূলত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আসলে ইরান কখনোই যুদ্ধ চায় না। কারণ যুদ্ধের দ্বারা মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্ববাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আমেরিকা ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ হোক চায় না।”

এসময় অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আবেগঘন এ প্রতিবাদী কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় শহীদ ইরানি শহীদ শিশুদের প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুল ব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী এবং যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। এ সময় স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানি শিশুদের রক্ষায় মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন বিরোধী লড়াইয়ে শামিল হতে রক্ত ভেজা হাতের ছাপ দেন।

এছাড়াও কর্মসূচিতে একটি ‘যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচি’ পালিত হয়। যেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে স্বাক্ষর করেন। এই গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপিটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে পাঠানো হবে। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় নিহত শিশুদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া কামনার মাধ্যমে।

কুশল/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত ছাড়ার ব্যবস্থা করবে ইরান

আপডেট সময়ঃ ১২:০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজগুলো দ্রুত হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে পারবে। তিনি বলেন, “যুদ্ধাবস্থার জন্য অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের কিছু জাহাজও হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে। আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করব। বাংলাদেশের জাহাজ ছাড়ার ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ। অতি দ্রুত জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা ব্যবস্থাগ্রহণ করব।”

রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক এক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইরানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। বাংলাদেশকে আমরা ভাইয়ের দেশ হিসাবেই মনে করি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নাই।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় আলোচনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেন, “যুদ্ধ বিরতির আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ওমানসহ যারা আমাদের সহযোগিতা করেছে তাদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান বলে দিয়েছে, ইসলামাবাদে মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে আলোচনা করবে নয়তো তারা কোনো আলোচনা করবে না। আমরা আমেরিকাকে এই বার্তা দিয়েছি তারা যদি মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা করে তাহলে আমরা আলোচনা করব নয়তো করব না। আর যতদিন পর্যন্ত আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ততদিন আমরা হামলা করব না। তবে আমেরিকা যদি যুদ্ধবিরতি না মেনে হামলা চালায় তাহলে ইরানও হামলা করতে বাধ্য হবে।”

ইসলামাবাদ আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এর আগেও আলোচনা করেছিলাম তার মধ্যেও আমেরিকা আমাদের উপর হামলা করেছে। আমরা এবারও নিশ্চিত ছিলাম আমেরিকা আসলে আমাদের জন্য কোনো শান্তি বা শান্তি চুক্তির জন্য আসেনি। তারা মূলত বিশ্বের কাছে দেখাতে চেয়েছে তারা শান্তি চায় আর ইরান যুদ্ধ চায়। আসলে আমেরিকা কখনো শান্তি চায় না। তারা ইরানের উপর এজন্য অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। যে ইরান কখনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে পারবে না। আমেরিকার ভাষ্য হলো বিশ্বের সব দেশ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে পারবে কিন্তু ইরান হতে পারবে না।”

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সফল হয়নি জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “আমেরিকা মূলত ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হামলা চালিয়েছিল। তারা ভেবেছিল হামলা চালালে ইরান বিরোধীরা রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকার পতন হবে। কিন্তু দেখা গেল ইরানের জনগণ রাস্তায় ঠিকই নেমেছে কিন্তু সরকারের পক্ষে, আমেরিকার বিরুদ্ধে। আমেরিকার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, তারা সফল হয়নি। আমেরিকা চেয়েছে হরমুজ প্রণালী নিজেদের মতো চালাবে কিন্তু সেখানেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। তারা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা চালিয়েছে, স্কুলে হামলা চালিয়েছে। তারা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে এবং স্কুলে হামলা চালিয়ে নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করেছে। ইরান এসব হামলার বিরুদ্ধে মূলত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আসলে ইরান কখনোই যুদ্ধ চায় না। কারণ যুদ্ধের দ্বারা মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্ববাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আমেরিকা ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ হোক চায় না।”

এসময় অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আবেগঘন এ প্রতিবাদী কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় শহীদ ইরানি শহীদ শিশুদের প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুল ব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী এবং যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। এ সময় স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানি শিশুদের রক্ষায় মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন বিরোধী লড়াইয়ে শামিল হতে রক্ত ভেজা হাতের ছাপ দেন।

এছাড়াও কর্মসূচিতে একটি ‘যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচি’ পালিত হয়। যেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে স্বাক্ষর করেন। এই গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপিটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে পাঠানো হবে। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় নিহত শিশুদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া কামনার মাধ্যমে।

কুশল/সাএ