০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চৈত্রের শেষে পদ্মায় ঢেউ, ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয়রা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

চৈত্রের শেষে পদ্মা যেন আবারো তার পুরোনো রূপে ফিরেছে। জোয়ারের বাড়তি পানি, সঙ্গে প্রবল বাতাস। দুইয়ের মিলিত প্রভাবে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন। নদীর পাড় ধসে পড়ছে চোখের সামনে, আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা।

জানা যায়, গত দুই দশকে এই উপজেলার চরাঞ্চলসহ নদীর উভয় তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ১৩টি মৌজা হারিয়ে গেছে নদীতে। শুধু গত বছরেই প্রায় ১০০০ বিঘা ফসলি জমি এবং শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে।

সরেজমিনে নতুন করে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে ভাঙনের চিহ্ন দেখা গেছে। কোথাও মাটি ফেটে যাচ্ছে, কোথাও বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে নদীতে। পানির তীব্র স্রোত আর বাতাসে সৃষ্ট ঢেউ একসঙ্গে আঘাত হেনে যেন গিলে নিচ্ছে পাড়ের মাটি। এই নদীভাঙন দেখে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, নদীর এ অংশে পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় ভাঙন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার এলাকা, যেখানে এখনো কোনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। অন্যদিকে যেসব স্থানে আগে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ধসে পড়ছে।

চৈত্রের শেষে পদ্মায় ঢেউ, ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয়রা

সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলীর বলেন, আমার বাড়ি তিনবার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন ভিটা একেবারে পাড়ের কাছে। যেকোনো সময় শেষ হয়ে যেতে পারে। অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে আর কাজ হবে না, আমাদের একটা স্থায়ী বেড়িবাঁধ দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা লিপি বেগম বলেন, প্রায় আট বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছি। জিও ব্যাগ থাকায় কোনোভাবে টিকে আছি। কিন্তু পানি বাড়লেই আবার ভাঙন শুরু হয়। ভয়ে গাছপালা বিক্রি করে দিয়েছি। জানি না আর কতদিন এখানে থাকতে পারব।

কুশিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা শাকিল গাজী বলেন, যেখানে জিও ব্যাগ নেই, সেখানে বড় বড় অংশ একসঙ্গে ধসে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে গ্রামটাই একসময় হারিয়ে যাবে।

‎এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, হরিরামপুর উপজেলার ‎মালুচি, গোপিনাথপুর, কাঞ্চনপুরসহ‌ অন্যান্য এলাকাসমূহের নদীর পাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাছাড়া স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন চলমান রয়েছে। ডিপিপি অনুমোদনের আগে যদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে আপদকালীন জরুরি ভিত্তিতে কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

মো. সজল আলী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

চট্টগ্রামের শীর্ষ ছিনতাইকারী শাফায়েত গ্রেফতার

চৈত্রের শেষে পদ্মায় ঢেউ, ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয়রা

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

চৈত্রের শেষে পদ্মা যেন আবারো তার পুরোনো রূপে ফিরেছে। জোয়ারের বাড়তি পানি, সঙ্গে প্রবল বাতাস। দুইয়ের মিলিত প্রভাবে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন। নদীর পাড় ধসে পড়ছে চোখের সামনে, আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা।

জানা যায়, গত দুই দশকে এই উপজেলার চরাঞ্চলসহ নদীর উভয় তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ১৩টি মৌজা হারিয়ে গেছে নদীতে। শুধু গত বছরেই প্রায় ১০০০ বিঘা ফসলি জমি এবং শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে।

সরেজমিনে নতুন করে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে ভাঙনের চিহ্ন দেখা গেছে। কোথাও মাটি ফেটে যাচ্ছে, কোথাও বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে নদীতে। পানির তীব্র স্রোত আর বাতাসে সৃষ্ট ঢেউ একসঙ্গে আঘাত হেনে যেন গিলে নিচ্ছে পাড়ের মাটি। এই নদীভাঙন দেখে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, নদীর এ অংশে পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় ভাঙন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার এলাকা, যেখানে এখনো কোনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। অন্যদিকে যেসব স্থানে আগে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ধসে পড়ছে।

চৈত্রের শেষে পদ্মায় ঢেউ, ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয়রা

সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলীর বলেন, আমার বাড়ি তিনবার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন ভিটা একেবারে পাড়ের কাছে। যেকোনো সময় শেষ হয়ে যেতে পারে। অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে আর কাজ হবে না, আমাদের একটা স্থায়ী বেড়িবাঁধ দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা লিপি বেগম বলেন, প্রায় আট বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছি। জিও ব্যাগ থাকায় কোনোভাবে টিকে আছি। কিন্তু পানি বাড়লেই আবার ভাঙন শুরু হয়। ভয়ে গাছপালা বিক্রি করে দিয়েছি। জানি না আর কতদিন এখানে থাকতে পারব।

কুশিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা শাকিল গাজী বলেন, যেখানে জিও ব্যাগ নেই, সেখানে বড় বড় অংশ একসঙ্গে ধসে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে গ্রামটাই একসময় হারিয়ে যাবে।

‎এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, হরিরামপুর উপজেলার ‎মালুচি, গোপিনাথপুর, কাঞ্চনপুরসহ‌ অন্যান্য এলাকাসমূহের নদীর পাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাছাড়া স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন চলমান রয়েছে। ডিপিপি অনুমোদনের আগে যদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে আপদকালীন জরুরি ভিত্তিতে কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

মো. সজল আলী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।