০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাপদাহ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • 9

তাপদাহ এখন আর কেবল একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়, এটি একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ। তাপদাহ বৃদ্ধির মতো এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনেকটাই মনুষ্যসৃষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং নাগরিক আচরণের পরিবর্তন জরুরি। তাপদাহ থেকে পরিত্রাণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর ভয়াবহ প্রভাব মৃত্যু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ‘তাপদাহ ও জনস্বাস্থ্য: সচেতনতা, সুরক্ষা ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন এআইইউবি’র বিভাগীয় প্রধান (পাবলিক হেলথ) ড. মুহাম্মাদ ওয়াসিফুল আলম। সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের শিক্ষার্থী মাশরাফী সুলতানা সীমু, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল শেখ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’র শিক্ষার্থী এশা সানজিদা, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী জোবায়ের বিন হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তার।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসহনীয় তাপদাহ জনজীবনে স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত সংকট তৈরি করছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলে তাপদাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকা শহরের মতো বড় নগরীতে প্রায় ১.২৫ কোটি মানুষ উচ্চ তাপদাহ ঝুঁকিতে রয়েছে। যেখানে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। নগরায়ণের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে তা এক ধরনের নীরব বিপর্যয় ডেকে আনছে।

তারা বলেন, অতিরিক্ত কংক্রিটের দালান নির্মাণ, খোলা জায়গার অভাব এবং যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন, পরিবেশ দূষণ,অতিরিক্ত জীবাশ্ম জালানির ব্যবহার, গ্রিনহাউস ইফেক্ট মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন, মাটির স্বাস্থ্যের অবনতি এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অতিরিক্ত খাদ্য চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার ক্ষতিগ্রস্থ করছে পরিবেশকে। রাসায়নিক সার উৎপাদন এবং ফসলের জমিতে এর প্রয়োগ—উভয় ক্ষেত্রেই নির্গত শক্তিশালী গ্রিনহাউজ ইফেক্ট পরিবেশকে উষ্ণ করে তোলে। পর্যাপ্ত জলাধারের সংকট এবং তীব্র তাপ প্রবাহে পানির স্তর নীচে চলে যাচ্ছে, যার ফলে তীব্র পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, তাপদাহের কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন), হিট স্ট্রোক, তীব্র মাথাব্যথা, ক্লান্তি, হিট ক্র্যাম্পস, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতা, শ্বাসকষ্ট এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, তীব্র গরমে উদ্বেগ ও হতাশার মতো মানসিক সমস্যা বাড়ছে। পাশাপাশি বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য তা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত গরমের কারণে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে যা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ইএইচটি/এমএমকে

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

তাপদাহ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য

তাপদাহ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য

আপডেট সময়ঃ ১২:০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

তাপদাহ এখন আর কেবল একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়, এটি একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ। তাপদাহ বৃদ্ধির মতো এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনেকটাই মনুষ্যসৃষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং নাগরিক আচরণের পরিবর্তন জরুরি। তাপদাহ থেকে পরিত্রাণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর ভয়াবহ প্রভাব মৃত্যু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ‘তাপদাহ ও জনস্বাস্থ্য: সচেতনতা, সুরক্ষা ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন এআইইউবি’র বিভাগীয় প্রধান (পাবলিক হেলথ) ড. মুহাম্মাদ ওয়াসিফুল আলম। সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের শিক্ষার্থী মাশরাফী সুলতানা সীমু, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল শেখ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’র শিক্ষার্থী এশা সানজিদা, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী জোবায়ের বিন হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তার।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসহনীয় তাপদাহ জনজীবনে স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত সংকট তৈরি করছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলে তাপদাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকা শহরের মতো বড় নগরীতে প্রায় ১.২৫ কোটি মানুষ উচ্চ তাপদাহ ঝুঁকিতে রয়েছে। যেখানে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। নগরায়ণের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে তা এক ধরনের নীরব বিপর্যয় ডেকে আনছে।

তারা বলেন, অতিরিক্ত কংক্রিটের দালান নির্মাণ, খোলা জায়গার অভাব এবং যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন, পরিবেশ দূষণ,অতিরিক্ত জীবাশ্ম জালানির ব্যবহার, গ্রিনহাউস ইফেক্ট মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন, মাটির স্বাস্থ্যের অবনতি এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অতিরিক্ত খাদ্য চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার ক্ষতিগ্রস্থ করছে পরিবেশকে। রাসায়নিক সার উৎপাদন এবং ফসলের জমিতে এর প্রয়োগ—উভয় ক্ষেত্রেই নির্গত শক্তিশালী গ্রিনহাউজ ইফেক্ট পরিবেশকে উষ্ণ করে তোলে। পর্যাপ্ত জলাধারের সংকট এবং তীব্র তাপ প্রবাহে পানির স্তর নীচে চলে যাচ্ছে, যার ফলে তীব্র পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, তাপদাহের কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন), হিট স্ট্রোক, তীব্র মাথাব্যথা, ক্লান্তি, হিট ক্র্যাম্পস, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতা, শ্বাসকষ্ট এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, তীব্র গরমে উদ্বেগ ও হতাশার মতো মানসিক সমস্যা বাড়ছে। পাশাপাশি বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য তা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত গরমের কারণে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে যা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ইএইচটি/এমএমকে