০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশকে বিপুল অর্থের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • 4

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে কাছে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

শুক্রবার (১ মে) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েলের জন্যেও অ্যাডভান্স প্রিসিশন কিল উইপেন সিস্টেম (এপিকেডব্লিওএস) দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ-ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মোট ৮.৬ বিলিয়ন (৮৬০ কোটি) ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর নবম সপ্তাহ এবং একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর এই ঘোষণাটি এলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল—

কাতার: ৪.০১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম এবং ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS)-যা একটি লেজার-নির্দেশিত অস্ত্র কিট।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের APKWS সরঞ্জাম।

কুয়েত: ২.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Integrated Battle Command System)।

ইসরায়েল: ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS)।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কাতার, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে APKWS বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হলো বিএই সিস্টেমস (BAE Systems)।

অন্যদিকে, কুয়েতের সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কাতারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে আরটিএক্স (RTX) এবং লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin)। এছাড়া কুয়েতের চুক্তিতে নর্থরপ গ্রুম্যান (Northrop Grumman)-ও অন্যতম প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০টি কার্গো বিমানে করে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল একাই পেয়েছে হাজার হাজার টন অস্ত্র ও সরঞ্জাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

জেনেভায় আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিনা উসকানিতে ইরানের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর আছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান-মার্কিন সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

সালাউদ্দিন/সাএ

ট্যাগঃ

মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশকে বিপুল অর্থের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে কাছে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

শুক্রবার (১ মে) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েলের জন্যেও অ্যাডভান্স প্রিসিশন কিল উইপেন সিস্টেম (এপিকেডব্লিওএস) দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ-ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মোট ৮.৬ বিলিয়ন (৮৬০ কোটি) ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর নবম সপ্তাহ এবং একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর এই ঘোষণাটি এলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল—

কাতার: ৪.০১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম এবং ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS)-যা একটি লেজার-নির্দেশিত অস্ত্র কিট।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের APKWS সরঞ্জাম।

কুয়েত: ২.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Integrated Battle Command System)।

ইসরায়েল: ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS)।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কাতার, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে APKWS বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হলো বিএই সিস্টেমস (BAE Systems)।

অন্যদিকে, কুয়েতের সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কাতারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে আরটিএক্স (RTX) এবং লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin)। এছাড়া কুয়েতের চুক্তিতে নর্থরপ গ্রুম্যান (Northrop Grumman)-ও অন্যতম প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০টি কার্গো বিমানে করে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল একাই পেয়েছে হাজার হাজার টন অস্ত্র ও সরঞ্জাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

জেনেভায় আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিনা উসকানিতে ইরানের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর আছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান-মার্কিন সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

সালাউদ্দিন/সাএ