০১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইরানি জনগণের অধিকার আদায়ে বিন্দুমাত্র ছাড় নয়’

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:১৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • 3

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির আজ (শনিবার) তেহরানে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সাথে দেখা করেছেন। বৈঠকে তারা চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

আইআরআইবি নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিকার কলিবফ সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং পরবর্তী আলোচনা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান সরকার ও জনগণের আন্তরিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি এই সহযোগিতাকে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা অন্য দেশগুলোর জন্যও আদর্শ হতে পারে।

মার্কিন সরকারের সাথে আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রশংসা করে কলিবফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “আমরা আমাদের জনগণের অধিকার আদায়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। বিশেষ করে এমন এক পক্ষের সাথে কোনো আপস হতে পারে না, যাদের কথায় কোনো সততা নেই এবং যাদের একদমই বিশ্বাস করা যায় না। ইরান যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের সাথে নিজের দেশকে রক্ষা করেছে, ঠিক তেমনি কূটনৈতিক অঙ্গনেও দেশের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে বুদ্ধিমত্তা ও শক্তির সাথে লড়ে যাবে।”

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে ইরানের স্পিকার বলেন, “সাধারণ মানুষের চেয়ে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারাই শান্তির গুরুত্ব সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তবে এই সামরিক কর্মকর্তারাই আবার দেশের সম্মান ও অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেখলে কখনো চুপ করে থাকবেন না।”

আমেরিকার নানা অপরাধ ও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কথা টেনে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে যে মানসিক ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন: “আমরা যখন আলোচনার টেবিলে ছিলাম, তখন আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করল; আর এখন যুদ্ধ শেষ করতে আবার আলোচনার কথা বলছে! আপনারা (পাকিস্তান) যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন, আমেরিকা সেই চুক্তি ভেঙে আমাদের ওপর নৌ-অবরোধ দিল, আর এখন তারা সেই অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলছে!”

ইরানের স্পিকার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: “যুদ্ধবিরতির এই সময়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের নতুন করে ও আরও শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলেছে। ট্রাম্প যদি আবার কোনো বোকামি করে যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করেন, তবে তা নিশ্চিতভাবেই আমেরিকার জন্য যুদ্ধের প্রথম দিনের চেয়েও আরও বেশি ধ্বংসাত্মক ও তিক্ত হবে।”

সাজু/নিএ

ট্যাগঃ

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম

‘ইরানি জনগণের অধিকার আদায়ে বিন্দুমাত্র ছাড় নয়’

আপডেট সময়ঃ ০৬:১৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির আজ (শনিবার) তেহরানে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সাথে দেখা করেছেন। বৈঠকে তারা চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

আইআরআইবি নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিকার কলিবফ সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং পরবর্তী আলোচনা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান সরকার ও জনগণের আন্তরিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি এই সহযোগিতাকে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা অন্য দেশগুলোর জন্যও আদর্শ হতে পারে।

মার্কিন সরকারের সাথে আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রশংসা করে কলিবফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “আমরা আমাদের জনগণের অধিকার আদায়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। বিশেষ করে এমন এক পক্ষের সাথে কোনো আপস হতে পারে না, যাদের কথায় কোনো সততা নেই এবং যাদের একদমই বিশ্বাস করা যায় না। ইরান যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের সাথে নিজের দেশকে রক্ষা করেছে, ঠিক তেমনি কূটনৈতিক অঙ্গনেও দেশের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে বুদ্ধিমত্তা ও শক্তির সাথে লড়ে যাবে।”

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে ইরানের স্পিকার বলেন, “সাধারণ মানুষের চেয়ে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারাই শান্তির গুরুত্ব সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তবে এই সামরিক কর্মকর্তারাই আবার দেশের সম্মান ও অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেখলে কখনো চুপ করে থাকবেন না।”

আমেরিকার নানা অপরাধ ও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কথা টেনে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে যে মানসিক ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন: “আমরা যখন আলোচনার টেবিলে ছিলাম, তখন আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করল; আর এখন যুদ্ধ শেষ করতে আবার আলোচনার কথা বলছে! আপনারা (পাকিস্তান) যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন, আমেরিকা সেই চুক্তি ভেঙে আমাদের ওপর নৌ-অবরোধ দিল, আর এখন তারা সেই অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলছে!”

ইরানের স্পিকার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: “যুদ্ধবিরতির এই সময়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের নতুন করে ও আরও শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলেছে। ট্রাম্প যদি আবার কোনো বোকামি করে যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করেন, তবে তা নিশ্চিতভাবেই আমেরিকার জন্য যুদ্ধের প্রথম দিনের চেয়েও আরও বেশি ধ্বংসাত্মক ও তিক্ত হবে।”

সাজু/নিএ