০১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিও

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • 3

দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরো গরু কিনে একা কোরবানি দেওয়া অনেক নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই কারণে অনেকেই ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। কিন্তু শহুরে জীবনে পরিচিত ও হালাল উপার্জন করা অংশীদার খুঁজে পাওয়াও কঠিন। পশু কেনা থেকে শুরু করে মাংস কাটা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তৈরি হয় নানান ঝামেলা। সেই জটিলতার সমাধান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে ভাগে কোরবানির সেবা।

এখন বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আগাম টাকা পরিশোধ করে গরুর শেয়ার বুকিং দেওয়া যাচ্ছে। পরে প্রতিষ্ঠানগুলো শরিয়তসম্মতভাবে গরু কোরবানি করে নির্দিষ্ট সময়ে মাংস পৌঁছে দিচ্ছে ক্রেতাদের বাসায়। প্রবাসী ও ব্যস্ত নগরবাসীর মধ্যে এ সেবার চাহিদা বাড়ছে দ্রুত। দেশে অনলাইনে পশু বিক্রির পাশাপাশি জনপ্রিয়তা বাড়ছে ভাগে কোরবানিরও।

শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ছোট উদ্যোক্তারাও এখন অনলাইনে ভাগে কোরবানির সুযোগ দিচ্ছে। এতে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি মিলে গরু কিনে কোরবানি সম্পন্ন করতে পারছেন, যা অনেকের জন্য আর্থিকভাবে সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভাগে কোরবানির ক্ষেত্রে সব অংশীদারের নিয়ত হতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও হালাল উপার্জনের টাকা।

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিও

জানতে চাইলে বেঙ্গল মিটের হেড অব বিজনেস শেখ ইমরান আজিজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনলাইনে পশু বিক্রির পাশাপাশি ভাগে কোরবানির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। ক্রেতারা এখন ঘরে বসেই নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোরবানির পশু বুকিং দিতে আগ্রহী হচ্ছেন। আমাদের ভাগের কোরবানির প্যাকেজ ২৭ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সাইজের গরু রয়েছে, যার মধ্যে সর্বনিম্ন গরুর দাম প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত।’

ইমরান আরও বলেন, ‘যারা চান তারা পুরো গরুও এককভাবে নিতে পারেন। অনলাইনে কোরবানির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আস্থা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, যার কারণে প্রতি বছরই ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিও

ই-কমার্স সাইট সরোবর অনলাইনে কোরবানির পশুর হাটের সুবিধা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে পশু বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে ভাগে কোরবানির সুবিধাও দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির হেড অব অপারেশন মো. গোলাম সরোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমরা ভাগা সার্ভিস চালু করেছি। প্রথম বছর ১০-১৫টি গরু দিয়ে শুরু করেছিলাম। দ্বিতীয় বছরে প্রায় ২৪টি গরু ভাগে বুকিং হয়। আর এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৬টি গরু ভাগে বুকিং হয়েছে, যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

‘আমরা তিন ধরনের শেয়ার রেখেছি—১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২২ হাজার টাকা। প্রতিটির সঙ্গে তিন হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত আছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকার শেয়ার, অর্থাৎ মোট ১৮ হাজার টাকার প্যাকেজে সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলছে।’

গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমাদের রিপিট কাস্টমার অনেক বেশি। একবার যারা আমাদের কাছ থেকে কোরবানির পশু নিয়েছেন, তাদের অনেকেই পরের বছর আবারও আমাদের কাছেই ফিরে আসছেন।’

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিওকোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত গরু। ছবিটি ছায়াবিথী অ্যাগ্রো ফার্মের ফেসবুক থেকে নেওয়া

দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে কোরবানির পশু ও ভাগে কোরবানির গরু বিক্রি করছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আটিবাজারের ছায়াবিথী অ্যাগ্রো ফার্ম। এরই মধ্যে তাদের আস্ত সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে। এখন তারা ভাগে কোরবানির দ্বিতীয় ধাপের অর্ডার নিচ্ছে। ভাগে গরু কোরবানির জন্য তাদের ১৯ হাজার ৯০০ টাকা, ২৫ হাজার ৯০০ টাকা ও ৩০ হাজার ৯০০ টাকার প্যাকেজ আছে। এই প্যাকেজের সঙ্গে প্রসেসিং, প্যাকেজিং ও ডেলিভারি সার্ভিস চার্জ আছে এক হাজার টাকা।

ভাগে কোরবানির ব্যবস্থা চালু করার কারণ জানতে চাইলে ছায়াবিথী অ্যাগ্রো লিমিটেডের পরিচালক মোজাম্মেল হক জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশে অনেক মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি আছেন যাদের পুরো গরু কেনার সামর্থ্য নেই কিংবা গরু কেনা থেকে শুরু করে কোরবানি করানোর মতো লোকবল বাসায় নেই, তাদের কথা চিন্তা করে ভাগে কোরবানির ব্যবস্থা চালু করেছি। ক্রেতাদের সুবিধার্থে আমরা শরিয়তসম্মতভাবে কোরবানি সম্পন্ন করি। এরপর তা সাত ভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক ভাগাকে সুন্দর প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে ভাগাদাতার বাসায় পৌঁছে দিয়ে থাকি।

আরও পড়ুন
কোরবানির বাজারে ডিজিটাল পশুর হাটের দাপট

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করলে মাংস সদকা করে দিতে হবে?
কোরবানি ওয়াজিব না সুন্নত?
জবাইয়ের সময় পশুর মাথা আলাদা হয়ে গেলে কোরবানি হবে?

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাসান আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন,‘ঢাকায় আমার তেমন পরিচিত কেউ নেই। ভাগে কোরবানি দেওয়ার মতো পরিচিত কাউকে পাচ্ছি না। ভাবছি এবার অনলাইনে ভাগে কোরবানিতেই অংশ নেবো।’

সদ্য বিবাহিত হাবিব ও নীলা ঢাকার মিরপুরের বসবাস করেন। পরিবার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন তারা। হাবিব জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার গ্রামে যাওয়া হবে না। ঢাকাতেই কোরবানি দিতে হবে। এখানে পরিচিত কাউকে পাচ্ছি না যে শেয়ারে কোরবানি দেবো। বাজেটের মধ্যে হয়তো নিজে একা ছাগল কোরবানি দেওয়া যাবে, কিন্তু গরুতে অংশ নিতে চাই। অনলাইনে ভাগে কোরবানিতে অংশ নেওয়ার অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান দেখেছি। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় হয়তো কোরবানিতে অংশ নিতে পারবো।’

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিওকোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত গরু। ছবিটি ছায়াবিথী অ্যাগ্রো ফার্মের ফেসবুক থেকে নেওয়া

তবে নানা অসুবিধায় অনলাইনে ভাগা কোরবানি ও অনলাইনে গরু বিক্রি থেকে সরে এসেছে দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানিটির চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এ এইচ এম হাসিনুল কুদ্দুস রুশো জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন আর অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি করি না। তবে ২০২১-২২ সালের দিকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলাম। সে সময় আমরা শুধু গরু-ছাগল বিক্রিই নয়, কোরবানির পুরো কার্যক্রম শেষে পশু জবাই করে মাংস ডেলিভারির ব্যবস্থাও করতাম। কিন্তু পরে দেখা যায়, ফ্রিজার ভ্যান ছাড়া সঠিকভাবে মানসম্মত মাংস পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে ৷ এজন্য আমাদের অনেক ক্রেতাকে রিফান্ডও করতে হয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল মাধ্যমে পশু বিক্রির জন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকার নির্ধারিত কোনো জায়গাও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি ৷ সব মিলিয়ে এটা আমাদের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। তাই আমরা এই আয়োজন থেকে সরে আসি ।’

জানতে চাইলে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেকের এককভাবে গরু কেনার সামর্থ্য থাকে না কিংবা আশপাশে ভাগের সঙ্গী পাওয়া কঠিন হয়। অনলাইনে ভাগে কোরবানির ব্যবস্থা সেই সমস্যার সমাধান করছে। নির্ভরযোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান এখন সঠিকভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে, এতে মানুষ সহজেই ঘরে বসে কোরবানিতে অংশ নিতে পারছেন।’

আরও পড়ুন
কোরবানির পশুর দাঁত না উঠলে কোরবানি হবে?
গরু কোরবানিতে সাত নাম থাকা কি জরুরি?
যাদের কোরবানি কবুল হবে না
নিজের পরিবর্তে বাবার নামে কোরবানি করলে ওয়াজিব আদায় হবে কি?

সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘এই ব্যবস্থায় বাজারে যাওয়ার ঝামেলা কমে, নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি ও মাংস প্যাকেটজাত করে সময়মতো বাসায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষও সহজে কোরবানিতে অংশ নিতে পারছেন। সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পরিচালিত হলে অনলাইনে ভাগে কোরবানির এই সেবা ভবিষ্যতে আরও জনপ্রিয় হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি এই খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায় এবং প্রচারণায় সহযোগিতা করে, তাহলে অনলাইন পশুর হাট ও ডিজিটাল কোরবানি সেবার প্রসার আরও বাড়বে।’

ইএইচটি/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিও

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরো গরু কিনে একা কোরবানি দেওয়া অনেক নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই কারণে অনেকেই ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। কিন্তু শহুরে জীবনে পরিচিত ও হালাল উপার্জন করা অংশীদার খুঁজে পাওয়াও কঠিন। পশু কেনা থেকে শুরু করে মাংস কাটা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তৈরি হয় নানান ঝামেলা। সেই জটিলতার সমাধান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে ভাগে কোরবানির সেবা।

এখন বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আগাম টাকা পরিশোধ করে গরুর শেয়ার বুকিং দেওয়া যাচ্ছে। পরে প্রতিষ্ঠানগুলো শরিয়তসম্মতভাবে গরু কোরবানি করে নির্দিষ্ট সময়ে মাংস পৌঁছে দিচ্ছে ক্রেতাদের বাসায়। প্রবাসী ও ব্যস্ত নগরবাসীর মধ্যে এ সেবার চাহিদা বাড়ছে দ্রুত। দেশে অনলাইনে পশু বিক্রির পাশাপাশি জনপ্রিয়তা বাড়ছে ভাগে কোরবানিরও।

শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ছোট উদ্যোক্তারাও এখন অনলাইনে ভাগে কোরবানির সুযোগ দিচ্ছে। এতে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি মিলে গরু কিনে কোরবানি সম্পন্ন করতে পারছেন, যা অনেকের জন্য আর্থিকভাবে সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভাগে কোরবানির ক্ষেত্রে সব অংশীদারের নিয়ত হতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও হালাল উপার্জনের টাকা।

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিও

জানতে চাইলে বেঙ্গল মিটের হেড অব বিজনেস শেখ ইমরান আজিজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনলাইনে পশু বিক্রির পাশাপাশি ভাগে কোরবানির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। ক্রেতারা এখন ঘরে বসেই নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোরবানির পশু বুকিং দিতে আগ্রহী হচ্ছেন। আমাদের ভাগের কোরবানির প্যাকেজ ২৭ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সাইজের গরু রয়েছে, যার মধ্যে সর্বনিম্ন গরুর দাম প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত।’

ইমরান আরও বলেন, ‘যারা চান তারা পুরো গরুও এককভাবে নিতে পারেন। অনলাইনে কোরবানির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আস্থা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, যার কারণে প্রতি বছরই ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিও

ই-কমার্স সাইট সরোবর অনলাইনে কোরবানির পশুর হাটের সুবিধা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে পশু বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে ভাগে কোরবানির সুবিধাও দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির হেড অব অপারেশন মো. গোলাম সরোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমরা ভাগা সার্ভিস চালু করেছি। প্রথম বছর ১০-১৫টি গরু দিয়ে শুরু করেছিলাম। দ্বিতীয় বছরে প্রায় ২৪টি গরু ভাগে বুকিং হয়। আর এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৬টি গরু ভাগে বুকিং হয়েছে, যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

‘আমরা তিন ধরনের শেয়ার রেখেছি—১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২২ হাজার টাকা। প্রতিটির সঙ্গে তিন হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত আছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকার শেয়ার, অর্থাৎ মোট ১৮ হাজার টাকার প্যাকেজে সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলছে।’

গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমাদের রিপিট কাস্টমার অনেক বেশি। একবার যারা আমাদের কাছ থেকে কোরবানির পশু নিয়েছেন, তাদের অনেকেই পরের বছর আবারও আমাদের কাছেই ফিরে আসছেন।’

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিওকোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত গরু। ছবিটি ছায়াবিথী অ্যাগ্রো ফার্মের ফেসবুক থেকে নেওয়া

দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে কোরবানির পশু ও ভাগে কোরবানির গরু বিক্রি করছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আটিবাজারের ছায়াবিথী অ্যাগ্রো ফার্ম। এরই মধ্যে তাদের আস্ত সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে। এখন তারা ভাগে কোরবানির দ্বিতীয় ধাপের অর্ডার নিচ্ছে। ভাগে গরু কোরবানির জন্য তাদের ১৯ হাজার ৯০০ টাকা, ২৫ হাজার ৯০০ টাকা ও ৩০ হাজার ৯০০ টাকার প্যাকেজ আছে। এই প্যাকেজের সঙ্গে প্রসেসিং, প্যাকেজিং ও ডেলিভারি সার্ভিস চার্জ আছে এক হাজার টাকা।

ভাগে কোরবানির ব্যবস্থা চালু করার কারণ জানতে চাইলে ছায়াবিথী অ্যাগ্রো লিমিটেডের পরিচালক মোজাম্মেল হক জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশে অনেক মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি আছেন যাদের পুরো গরু কেনার সামর্থ্য নেই কিংবা গরু কেনা থেকে শুরু করে কোরবানি করানোর মতো লোকবল বাসায় নেই, তাদের কথা চিন্তা করে ভাগে কোরবানির ব্যবস্থা চালু করেছি। ক্রেতাদের সুবিধার্থে আমরা শরিয়তসম্মতভাবে কোরবানি সম্পন্ন করি। এরপর তা সাত ভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক ভাগাকে সুন্দর প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে ভাগাদাতার বাসায় পৌঁছে দিয়ে থাকি।

আরও পড়ুন
কোরবানির বাজারে ডিজিটাল পশুর হাটের দাপট

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করলে মাংস সদকা করে দিতে হবে?
কোরবানি ওয়াজিব না সুন্নত?
জবাইয়ের সময় পশুর মাথা আলাদা হয়ে গেলে কোরবানি হবে?

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাসান আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন,‘ঢাকায় আমার তেমন পরিচিত কেউ নেই। ভাগে কোরবানি দেওয়ার মতো পরিচিত কাউকে পাচ্ছি না। ভাবছি এবার অনলাইনে ভাগে কোরবানিতেই অংশ নেবো।’

সদ্য বিবাহিত হাবিব ও নীলা ঢাকার মিরপুরের বসবাস করেন। পরিবার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন তারা। হাবিব জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার গ্রামে যাওয়া হবে না। ঢাকাতেই কোরবানি দিতে হবে। এখানে পরিচিত কাউকে পাচ্ছি না যে শেয়ারে কোরবানি দেবো। বাজেটের মধ্যে হয়তো নিজে একা ছাগল কোরবানি দেওয়া যাবে, কিন্তু গরুতে অংশ নিতে চাই। অনলাইনে ভাগে কোরবানিতে অংশ নেওয়ার অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান দেখেছি। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় হয়তো কোরবানিতে অংশ নিতে পারবো।’

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানিওকোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত গরু। ছবিটি ছায়াবিথী অ্যাগ্রো ফার্মের ফেসবুক থেকে নেওয়া

তবে নানা অসুবিধায় অনলাইনে ভাগা কোরবানি ও অনলাইনে গরু বিক্রি থেকে সরে এসেছে দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানিটির চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এ এইচ এম হাসিনুল কুদ্দুস রুশো জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন আর অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি করি না। তবে ২০২১-২২ সালের দিকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলাম। সে সময় আমরা শুধু গরু-ছাগল বিক্রিই নয়, কোরবানির পুরো কার্যক্রম শেষে পশু জবাই করে মাংস ডেলিভারির ব্যবস্থাও করতাম। কিন্তু পরে দেখা যায়, ফ্রিজার ভ্যান ছাড়া সঠিকভাবে মানসম্মত মাংস পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে ৷ এজন্য আমাদের অনেক ক্রেতাকে রিফান্ডও করতে হয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল মাধ্যমে পশু বিক্রির জন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকার নির্ধারিত কোনো জায়গাও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি ৷ সব মিলিয়ে এটা আমাদের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। তাই আমরা এই আয়োজন থেকে সরে আসি ।’

জানতে চাইলে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেকের এককভাবে গরু কেনার সামর্থ্য থাকে না কিংবা আশপাশে ভাগের সঙ্গী পাওয়া কঠিন হয়। অনলাইনে ভাগে কোরবানির ব্যবস্থা সেই সমস্যার সমাধান করছে। নির্ভরযোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান এখন সঠিকভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে, এতে মানুষ সহজেই ঘরে বসে কোরবানিতে অংশ নিতে পারছেন।’

আরও পড়ুন
কোরবানির পশুর দাঁত না উঠলে কোরবানি হবে?
গরু কোরবানিতে সাত নাম থাকা কি জরুরি?
যাদের কোরবানি কবুল হবে না
নিজের পরিবর্তে বাবার নামে কোরবানি করলে ওয়াজিব আদায় হবে কি?

সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘এই ব্যবস্থায় বাজারে যাওয়ার ঝামেলা কমে, নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি ও মাংস প্যাকেটজাত করে সময়মতো বাসায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষও সহজে কোরবানিতে অংশ নিতে পারছেন। সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পরিচালিত হলে অনলাইনে ভাগে কোরবানির এই সেবা ভবিষ্যতে আরও জনপ্রিয় হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি এই খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায় এবং প্রচারণায় সহযোগিতা করে, তাহলে অনলাইন পশুর হাট ও ডিজিটাল কোরবানি সেবার প্রসার আরও বাড়বে।’

ইএইচটি/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।