০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে প্রাণ গেল ছেলের

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • 14

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মায়ের মৃত্যুর খবরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন ছেলে আবু বাক্কার ছিদ্দিক (৩৫)। পরে মা ও ছেলেকে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অগ্রেরকোনা গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার স্ত্রী জুলেখা খাতুন (৬৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় কর্মরত ছেলে আবু বাক্কার ছিদ্দিক দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবু বাক্কার ছিদ্দিক ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার স্ত্রীকে ননদ সালমা মোবাইলে শাশুড়ির মৃত্যুর খবর দেন। তবে মানসিক চাপ ও শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিবার আবু বাক্কার ছিদ্দিককে সরাসরি মৃত্যুর খবর না জানিয়ে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে দ্রুত বাড়িতে আসতে বলেন।

বিকেলে বাড়িতে পৌঁছে মায়ের লাশ দেখে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের স্ত্রী শরিফা আক্তার বলেন, আমার স্বামী মাকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। মায়ের মৃত্যু তিনি সহ্য করতে পারবেন না-এই আশঙ্কায় আমরা সরাসরি মৃত্যুর খবর দিইনি। বাড়িতে এসে মায়ের লাশ দেখে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন আমি দুই সন্তান নিয়ে কীভাবে সংসার চালাব।

একই রাতে মা জুলেখা খাতুনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টায় আবু বাক্কার ছিদ্দিকের জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রানা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ইসিজি করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া হয়।

সাজু/নিএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে প্রাণ গেল ছেলের

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মায়ের মৃত্যুর খবরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন ছেলে আবু বাক্কার ছিদ্দিক (৩৫)। পরে মা ও ছেলেকে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অগ্রেরকোনা গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার স্ত্রী জুলেখা খাতুন (৬৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় কর্মরত ছেলে আবু বাক্কার ছিদ্দিক দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবু বাক্কার ছিদ্দিক ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার স্ত্রীকে ননদ সালমা মোবাইলে শাশুড়ির মৃত্যুর খবর দেন। তবে মানসিক চাপ ও শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিবার আবু বাক্কার ছিদ্দিককে সরাসরি মৃত্যুর খবর না জানিয়ে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে দ্রুত বাড়িতে আসতে বলেন।

বিকেলে বাড়িতে পৌঁছে মায়ের লাশ দেখে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের স্ত্রী শরিফা আক্তার বলেন, আমার স্বামী মাকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। মায়ের মৃত্যু তিনি সহ্য করতে পারবেন না-এই আশঙ্কায় আমরা সরাসরি মৃত্যুর খবর দিইনি। বাড়িতে এসে মায়ের লাশ দেখে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন আমি দুই সন্তান নিয়ে কীভাবে সংসার চালাব।

একই রাতে মা জুলেখা খাতুনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টায় আবু বাক্কার ছিদ্দিকের জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রানা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ইসিজি করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া হয়।

সাজু/নিএ