যারা বলেন, ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ আকর্ষণ, জৌলুস আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হারিয়েছে- সে অর্থে প্রিমিয়ার লিগ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো খেলা সম্ভব নয়, তারা আজ ৯ জুন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুর্দান্ত ফেরা দেখে কী বলবেন?
মোসাদ্দেক তো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো পারফর্ম করেই আবার জাতীয় দলে ফিরেছেন। আর আজ চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স (৭০ বলে ৮৬ রান ও ২/৩৭) দেখিয়ে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর নায়ক, রূপকার বনে গেলেন।
তিনি সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান কিংবা হালের নাহিদ রানা নন যে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও আইপিএল, বিগ ব্যাশ, পিএসএল, সিপিএলসহ আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর খেলে কাটাবেন। গত চার বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সামনে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটই ছিল একমাত্র বিকল্প।
সেই সময়টা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের কেটেছে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেই। এর মধ্যে বিপিএলে খুব ভালো সময় কাটেনি কখনো। সর্বশেষ বিপিএল, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ মৌসুমেও খেলেননি। আর বিসিএল, এনসিএলেও সে অর্থে আহামরি পারফরম্যান্স নেই সৈকতের।
তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগটা দারুণ খেলেছেন এ অলরাউন্ডার। এক কথায়, গত কয়েক বছর- বিশেষ করে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শেষ তিন আসরে- ব্যাট ও বল হাতে আবাহনীর সাফল্যের প্রধান রূপকার ছিলেন এ অলরাউন্ডার এবং দুর্দান্ত পারফর্মও করেছেন। যখন যেমন দরকার, তেমন পারফরম্যান্স করেছেন।
ব্যাট হাতে দলের সব দায়দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে খেলেছেন। যখন ধরে খেলার দরকার, তখন ধরে খেলে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আবার একটা সময় খোলস ছেড়ে বেরিয়ে হাত খুলে মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন। আবার বল হাতেও ভাইটাল ব্রেক-থ্রু দিয়ে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন, না হয় ম্যাচ জিতিয়েছেন।
বললে এতটুকু অত্যুক্তি হবে না যে, শুধু প্রিমিয়ার লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্সই তাকে আবার জাতীয় দলে ফিরিয়ে এনেছে।
আসুন, এক নজরে ঢাকা লিগে মোসাদ্দেকের গত তিন বছরের পরিসংখ্যানটা দেখে নেওয়া যাক। ২০২৩ সালে আবাহনীর হয়ে ৩২.৯১ গড়ে ৩৯২ রান করার পাশাপাশি ৪.৮০ ইকোনমিতে ৮ উইকেট শিকার করেন মোসাদ্দেক।
তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট ও বল হাতে আরও উজ্জ্বল এ অলরাউন্ডার। ৭৯.২০ গড়ে ৩৯৬ রান আর ৩.৮৪ ইকোনমিতে ২০ উইকেট দখল করে অসামান্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্স উপহার দেন।
আর গত লিগে সৈকত আরও দ্যুতি ছড়িয়েছেন। আবাহনীকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়ন করার কৃতিত্বটা তার। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে ব্যাট ও বল হাতে যতটা ভালো খেলা যায়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ততটাই ভালো খেলেছেন। ৪৮.৭০ গড়ে ৪৮৭ রানের সঙ্গে ৪.০৪ ইকোনমিতে ৩০ উইকেট ঝুলিতে পুরে সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে গত লিগের সেরা পারফরমারের পুরস্কারটাও জেতেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
ঢাকা লিগে পারফর্ম করে জাতীয় দলে ফেরা যায়, এবং আবার দলে ফিরে সেই ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলকেও ম্যাচ জেতানো সম্ভব- তাও অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে। আজ ৯ জুন শেরেবাংলায় সে সত্যটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন সৈকত।
খেলা শেষে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে এসে অকপটে জানিয়ে দিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেট- বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগ এখনো তার কাছে অনেক মূল্যবান। এবং তিনি ঢাকা লিগে পারফর্ম করে যে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করেছেন, সেটাই তাকে জাতীয় দলের হয়ে আজ মঙ্গলবার অসিদের বিপক্ষে ব্যাট ও বল হাতে ভালো খেলতে বড় ভূমিকা রেখেছে- এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।
এআরবি/আইএইচএস
এডমিন 

















