মেঘনা নদীর ওপারে অবস্থিত ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর। চারদিকে নদীবেষ্টিত এই প্রত্যন্ত চরাঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অবহেলিত এই জনপদে শিক্ষার আলো পৌঁছানো যেখানে ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, সেখানে এখন নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালা। মাঝেরচরে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল না। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর দূরত্বের কারণে অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অকালেই থমকে যেত। বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা ছিল প্রকট। এমন এক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে গড়ে তোলা হয় মদনপুর আলোর পাঠশালা। বর্তমানে এই অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার একমাত্র নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল এই প্রতিষ্ঠানটি।
এই বিদ্যালয়েরই সপ্তম শ্রেণির এক মেধাবী শিক্ষার্থী মিম। হাজারো সীমাবদ্ধতার মাঝেও পড়াশোনার প্রতি মিমের আগ্রহ চরের বাকি শিশুদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে সে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে মিমের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার লালিত স্বপ্ন। সে বড় হয়ে একজন স্কুল শিক্ষিকা হতে চায়। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত মিম বলে, ‘ আমি বড় হয়ে শিক্ষিকা হতে চাই। আমাদের এলাকায় অনেক ছেলে-মেয়ে সুযোগের অভাবে লেখাপড়া করতে পারে না। আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি চাই সবাই শিক্ষার আলো পাক।’ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মিম অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও স্বপ্নবান একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তার নেতৃত্বগুণ ও সৃজনশীলতা সহপাঠীদের মাঝেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চরের নানা প্রতিকূলতা আর সীমাবদ্ধতাকে জয় করে মিমের মতো শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করছে যে, স্বপ্ন দেখার জন্য বড় শহর বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন শুধু দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক দিকনির্দেশনা। মেঘনার এই প্রত্যন্ত চর থেকে উঠে আসা মিমের চোখের এই স্বপ্নের দীপ্তি একদিন পুরো মাঝেরচরকে আলোকিত করবে।
এডমিন 








