০৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে চায় আরেক দেশ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • 2

শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল যুক্তরাজ্য সরকার। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার।

সোমবার এক বক্তব্যে স্টার্মার জানান, বিষয়টি বর্তমানে নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াই নয়, কিছু গেমিং এবং লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ওপরও বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরের শুরুতেই এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা কার্যকর হতে পারে।

স্টার্মারের মতে, শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তার ভাষায়, অনলাইন দুনিয়ায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিতর্কগুলোর একটি।’

আরও পড়ুন

গুগল ফটোসের স্টোরেজ ক্লিয়ার করবেন যেভাবে

যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এমন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। বয়স যাচাই, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নীতির কারণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে। তবুও সরকার এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা ও বিধিনিষেধ চালু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, কম বয়সে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে মনোযোগের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, খেলাধুলা ও শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে।

তবে বিপরীত মতও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বয়সভিত্তিক সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং ডিজিটাল শিক্ষা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। শিশুদের অনলাইন আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার যুক্তিতে দেশটি এই পদক্ষেপ নেয়।

ভারতেও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে কর্নাটক সরকার কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। রাজ্য সরকারের মতে, অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগও কমে যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে যখন শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত সরকার কী ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।

আরও পড়ুন

গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহারেও হ্যাকারের ফাঁদে পড়তে পারেন

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কেএসকে

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

হাসপাতালের লিফটে আটকা পড়েন ১০ জন, দুই ঘণ্টার পর উদ্ধার

এবার ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে চায় আরেক দেশ

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল যুক্তরাজ্য সরকার। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার।

সোমবার এক বক্তব্যে স্টার্মার জানান, বিষয়টি বর্তমানে নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াই নয়, কিছু গেমিং এবং লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ওপরও বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরের শুরুতেই এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা কার্যকর হতে পারে।

স্টার্মারের মতে, শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তার ভাষায়, অনলাইন দুনিয়ায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিতর্কগুলোর একটি।’

আরও পড়ুন

গুগল ফটোসের স্টোরেজ ক্লিয়ার করবেন যেভাবে

যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এমন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। বয়স যাচাই, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নীতির কারণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে। তবুও সরকার এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা ও বিধিনিষেধ চালু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, কম বয়সে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে মনোযোগের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, খেলাধুলা ও শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে।

তবে বিপরীত মতও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বয়সভিত্তিক সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং ডিজিটাল শিক্ষা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। শিশুদের অনলাইন আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার যুক্তিতে দেশটি এই পদক্ষেপ নেয়।

ভারতেও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে কর্নাটক সরকার কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। রাজ্য সরকারের মতে, অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগও কমে যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে যখন শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত সরকার কী ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।

আরও পড়ুন

গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহারেও হ্যাকারের ফাঁদে পড়তে পারেন

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কেএসকে