০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা: রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • 8

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি যুবককে আট দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন দেশটির লারনাকা জেলা আদালত।

রিমান্ডে ইমনকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। জানা গেছে, ঘাতকের নাম শাহিন বাবু। সে তুর্কি সাইপ্রাস থেকে অবৈধভাবে গ্রিক সাইপ্রাসে প্রবেশ করে বসবাস করতো।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে শাহিন বাবু জানিয়েছেন, গত ৭ জুন একটি বাসে তার সঙ্গে ইমনের পরিচয় হয়। সেখানে ইমন তার কাছে কাজ খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং তারা মোবাইল নম্বর বিনিময় করেন।

অভিযুক্ত বাবু দাবি করেন, বাসে কথা বলার একপর্যায়ে সে ইমনের কাছে মোবাইলের ওয়াই-ফাই হটস্পট শেয়ার করতে বললে ইমন তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে অপমান করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আরও পড়ুন

সাইপ্রাস / চাকরির কথা বলে ইমনকে হত্যার পর কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেয় বাংলাদেশি

জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘাতক ৯ জুন একটি সুপারমার্কেট থেকে ছুরি কিনে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১১ জুন সে ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রতিদিন ৫০ ইউরো মজুরিতে কাজের প্রলোভন দেয়।

ওইদিন সন্ধ্যায় ইমন কোফিনু এলাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে তারা কোফিনু কসাইখানার দিকে হাঁটতে থাকেন। সেখানে অভিযুক্ত যুবক ইমনকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। এরপর সে ইমনকে টেনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে তখনও জীবিত ছিল। পরে ঘাতক কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।

হত্যার পর ঘাতক নিহত ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বাবার কাছে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণের বার্তা পাঠায়।

রিমান্ড আদেশে বলা হয়েছে, রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে ইমনের বাবার মোবাইলে বাংলায় একটি বার্তা আসে, যেখানে লেখা ছিল, “Please save me, otherwise they will kill me” (দয়া করে আমাকে বাঁচান, না হলে তারা আমাকে হত্যা করবে)।

পরে আরও কয়েকটি বার্তায় রোববারের মধ্যে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বার্তাগুলোতে সতর্ক করে বলা হয়, অর্থ পরিশোধ না করলে বাবা আর কখনো তার ছেলেকে দেখতে পাবেন না। এমনকি ভুক্তভোগীর কিডনি অপসারণ করে বিক্রি করারও হুমকি দেওয়া হয়। ইমনের বাবা ছেলেকে দেখতে চাইলে তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পুলিশের বিজ্ঞপ্তি

তদন্তে পুলিশ ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল কোফিনু এলাকায় শনাক্ত করে। পরে অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে ইমনের সিম কার্ড পাওয়া যায়। গ্রেফতারের সময় তার কাছে দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। সে স্বীকার করে যে, দ্বিতীয় ফোনটি ইমনের।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, গুরুতর অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, গুরুতর ক্ষতির উদ্দেশ্যে অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ, চাঁদাবাজি, হুমকি দিয়ে সম্পত্তি দাবি এবং প্রজাতন্ত্রে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির উদ্দিনের বড় ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্টুডেন্ট ভিসায় চার মাস আগে সাইপ্রাসে যান ইমন। তিনি দেশটির লারনাকা জেলার ওরোক্লিনি এলাকায় থাকতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কারখানায় খণ্ডকালীন কাজ করতেন।

নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পর তার মাটিচাপা লাশ উদ্ধারের খবরে এখন শোকে স্তব্ধ পরিবার ও স্বজনরা। গ্রামের বাড়িতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এমআরএম

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা: রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি যুবককে আট দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন দেশটির লারনাকা জেলা আদালত।

রিমান্ডে ইমনকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। জানা গেছে, ঘাতকের নাম শাহিন বাবু। সে তুর্কি সাইপ্রাস থেকে অবৈধভাবে গ্রিক সাইপ্রাসে প্রবেশ করে বসবাস করতো।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে শাহিন বাবু জানিয়েছেন, গত ৭ জুন একটি বাসে তার সঙ্গে ইমনের পরিচয় হয়। সেখানে ইমন তার কাছে কাজ খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং তারা মোবাইল নম্বর বিনিময় করেন।

অভিযুক্ত বাবু দাবি করেন, বাসে কথা বলার একপর্যায়ে সে ইমনের কাছে মোবাইলের ওয়াই-ফাই হটস্পট শেয়ার করতে বললে ইমন তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে অপমান করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আরও পড়ুন

সাইপ্রাস / চাকরির কথা বলে ইমনকে হত্যার পর কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেয় বাংলাদেশি

জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘাতক ৯ জুন একটি সুপারমার্কেট থেকে ছুরি কিনে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১১ জুন সে ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রতিদিন ৫০ ইউরো মজুরিতে কাজের প্রলোভন দেয়।

ওইদিন সন্ধ্যায় ইমন কোফিনু এলাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে তারা কোফিনু কসাইখানার দিকে হাঁটতে থাকেন। সেখানে অভিযুক্ত যুবক ইমনকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। এরপর সে ইমনকে টেনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে তখনও জীবিত ছিল। পরে ঘাতক কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।

হত্যার পর ঘাতক নিহত ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বাবার কাছে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণের বার্তা পাঠায়।

রিমান্ড আদেশে বলা হয়েছে, রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে ইমনের বাবার মোবাইলে বাংলায় একটি বার্তা আসে, যেখানে লেখা ছিল, “Please save me, otherwise they will kill me” (দয়া করে আমাকে বাঁচান, না হলে তারা আমাকে হত্যা করবে)।

পরে আরও কয়েকটি বার্তায় রোববারের মধ্যে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বার্তাগুলোতে সতর্ক করে বলা হয়, অর্থ পরিশোধ না করলে বাবা আর কখনো তার ছেলেকে দেখতে পাবেন না। এমনকি ভুক্তভোগীর কিডনি অপসারণ করে বিক্রি করারও হুমকি দেওয়া হয়। ইমনের বাবা ছেলেকে দেখতে চাইলে তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পুলিশের বিজ্ঞপ্তি

তদন্তে পুলিশ ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল কোফিনু এলাকায় শনাক্ত করে। পরে অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে ইমনের সিম কার্ড পাওয়া যায়। গ্রেফতারের সময় তার কাছে দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। সে স্বীকার করে যে, দ্বিতীয় ফোনটি ইমনের।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, গুরুতর অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, গুরুতর ক্ষতির উদ্দেশ্যে অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ, চাঁদাবাজি, হুমকি দিয়ে সম্পত্তি দাবি এবং প্রজাতন্ত্রে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির উদ্দিনের বড় ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্টুডেন্ট ভিসায় চার মাস আগে সাইপ্রাসে যান ইমন। তিনি দেশটির লারনাকা জেলার ওরোক্লিনি এলাকায় থাকতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কারখানায় খণ্ডকালীন কাজ করতেন।

নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পর তার মাটিচাপা লাশ উদ্ধারের খবরে এখন শোকে স্তব্ধ পরিবার ও স্বজনরা। গ্রামের বাড়িতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এমআরএম