০৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিএমএসএমই অর্থায়নে ব্র্যাক ব্যাংক বেশি সক্ষম

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • 3

সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবায় আনা এবং জামানতহীন ঋণ বিতরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামসুল হক মো. মিরাজ

এসএমইর জন্য বিশেষ তহবিলের সুবিধা প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে আপনারা কী ভূমিকা রাখবেন?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: আমাদের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ শুরু থেকেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। গত ২৫ বছরের যাত্রায় আমরা দেশজুড়ে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি লোকেশনে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছি। এই বিশাল নেটওয়ার্ক প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত রাখছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছি। সব মিলিয়ে সরকারি তহবিল ব্যবহারে ব্র্যাক ব্যাংকই যোগ্যতম অংশীদার।

দেশের ৬০ শতাংশ সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনতে আপনাদের জামানতবিহীন ঋণের অভিজ্ঞতা কতটুকু কাজে লাগবে?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: জামানতবিহীন ঋণ দিতে ব্র্যাক ব্যাংকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ২০ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তাকে ২ লাখ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছি, যার ৮৫ শতাংশই দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের জামানত ছাড়া। এই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হয় এবং প্রোডাক্ট নিয়মিত উদ্ভাবন করতে হয়। দেশব্যাপী ৩১৫টি শাখা-উপশাখা ও ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট অফিসের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কারণে এ কাজে অনেক এগিয়ে আছি।

অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সাধারণত ঋণবঞ্চিত হন। এই বৈষম্য দূর করতে আপনাদের বিশেষ কৌশল কী?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: এই উদ্যোক্তাদের ব্যাংক হিসাব এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে লেনদেনের ইতিহাস না থাকাটা বড় বাধা। এটি না থাকলে ব্যাংকের পক্ষে ঋণঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব হয় না। এই বাধা দূর করতে প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করছি। উদ্যোক্তারা আমাদের ‘আস্থা’ অ্যাপে সহজে লেনদেন করতে পারেন।

গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার যে সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে আপনাদের ব্যাংকের বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: রিফাইন্যান্স স্কিমের মাধ্যমে স্বল্প সুদে অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হবে না। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘আর্থিক সাক্ষরতা’ দিতে পেরেছি। সুদৃঢ় কাঠামো থাকায় মূলত, কটেজ ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে দেশে ব্র্যাক ব্যাংকই সবচেয়ে বেশি সক্ষমতা রাখে।

নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণের ক্ষেত্রে নতুন অর্থবছরে ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা ‘তারা’ আছে।  তাঁদের দেওয়া আমাদের ঋণের ৯৬ শতাংশই সম্পূর্ণ জামানতবিহীন। একই সঙ্গে ব্যবসার বয়স মাত্র এক বছর হলেই একজন নারী উদ্যোক্তা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। নারী উদ্যোক্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণে আমাদের ‘উদ্যোক্তা ১০১’ এবং পণ্য বিপণনের জন্য ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা’ আছে। ভবিষ্যতে সেবা আরও বাড়বে।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য অর্জনে ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবে কতটুকু অবদান রাখতে চায়?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ২০ লাখ উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। গত এক বছরে ৩ হাজার ৬০০ নারীকে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত করেছি এবং দেড় লাখ নারী উদ্যোক্তার সফলতায় অবদান রেখেছি। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা সমাধানে ‘এসএমই ইনোভেশন ল্যাব’ চালু করেছি। সরকারের নীতি ও সহযোগিতা পেলে ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবেই ৩০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যের বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

সিএমএসএমই অর্থায়নে ব্র্যাক ব্যাংক বেশি সক্ষম

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবায় আনা এবং জামানতহীন ঋণ বিতরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামসুল হক মো. মিরাজ

এসএমইর জন্য বিশেষ তহবিলের সুবিধা প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে আপনারা কী ভূমিকা রাখবেন?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: আমাদের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ শুরু থেকেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। গত ২৫ বছরের যাত্রায় আমরা দেশজুড়ে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি লোকেশনে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছি। এই বিশাল নেটওয়ার্ক প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত রাখছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছি। সব মিলিয়ে সরকারি তহবিল ব্যবহারে ব্র্যাক ব্যাংকই যোগ্যতম অংশীদার।

দেশের ৬০ শতাংশ সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনতে আপনাদের জামানতবিহীন ঋণের অভিজ্ঞতা কতটুকু কাজে লাগবে?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: জামানতবিহীন ঋণ দিতে ব্র্যাক ব্যাংকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ২০ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তাকে ২ লাখ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছি, যার ৮৫ শতাংশই দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের জামানত ছাড়া। এই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হয় এবং প্রোডাক্ট নিয়মিত উদ্ভাবন করতে হয়। দেশব্যাপী ৩১৫টি শাখা-উপশাখা ও ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট অফিসের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কারণে এ কাজে অনেক এগিয়ে আছি।

অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সাধারণত ঋণবঞ্চিত হন। এই বৈষম্য দূর করতে আপনাদের বিশেষ কৌশল কী?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: এই উদ্যোক্তাদের ব্যাংক হিসাব এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে লেনদেনের ইতিহাস না থাকাটা বড় বাধা। এটি না থাকলে ব্যাংকের পক্ষে ঋণঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব হয় না। এই বাধা দূর করতে প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করছি। উদ্যোক্তারা আমাদের ‘আস্থা’ অ্যাপে সহজে লেনদেন করতে পারেন।

গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার যে সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে আপনাদের ব্যাংকের বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: রিফাইন্যান্স স্কিমের মাধ্যমে স্বল্প সুদে অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হবে না। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘আর্থিক সাক্ষরতা’ দিতে পেরেছি। সুদৃঢ় কাঠামো থাকায় মূলত, কটেজ ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে দেশে ব্র্যাক ব্যাংকই সবচেয়ে বেশি সক্ষমতা রাখে।

নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণের ক্ষেত্রে নতুন অর্থবছরে ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা ‘তারা’ আছে।  তাঁদের দেওয়া আমাদের ঋণের ৯৬ শতাংশই সম্পূর্ণ জামানতবিহীন। একই সঙ্গে ব্যবসার বয়স মাত্র এক বছর হলেই একজন নারী উদ্যোক্তা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। নারী উদ্যোক্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণে আমাদের ‘উদ্যোক্তা ১০১’ এবং পণ্য বিপণনের জন্য ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা’ আছে। ভবিষ্যতে সেবা আরও বাড়বে।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য অর্জনে ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবে কতটুকু অবদান রাখতে চায়?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান: ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ২০ লাখ উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। গত এক বছরে ৩ হাজার ৬০০ নারীকে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত করেছি এবং দেড় লাখ নারী উদ্যোক্তার সফলতায় অবদান রেখেছি। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা সমাধানে ‘এসএমই ইনোভেশন ল্যাব’ চালু করেছি। সরকারের নীতি ও সহযোগিতা পেলে ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবেই ৩০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যের বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম।