০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা, বাড়ল তেলের দাম

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • 4

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি কতটা টেকসই, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলও আবার ধীর হয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৮ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৭২.৫৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডুব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৮ সেন্ট বা ১.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০.১১ ডলারে ওঠে।

ডাচ ব্যাংক আইএনজি-এর বিশ্লেষকরা এক প্রতিবেদনে বলেন, তেলের বাজারে এখনও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা মূলত তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে বৈশ্বিক বাজারে তার কী প্রভাব পড়বে, সেদিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।

তাদের মতে, এই আত্মতুষ্টি কিছুটা অস্বাভাবিক। কারণ, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাহলে তেলের দামে আরও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতির ঝুঁকি রয়েছে।

গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০.৬ শতাংশ কমেছিল। এটি ছিল টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরপতন। কারণ, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন বেড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

তবে বৃহস্পতিবার থেকে প্রণালিতে জাহাজের ওপর নতুন করে হামলার পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। কাতার-সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়, যা অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে তেলের দাম আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। কারণ, রোববার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাত বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধের সমাধানে আবার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার এখন পারস্য উপসাগর থেকে দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এই ধারণা নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো শুক্রবার রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে আবার অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে অবস্থিত এই টার্মিনালে প্রায় চার মাস ধরে তেল লোডিং বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী চুক্তির আগে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর অংশ হিসেবে কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।

রোববার রাস তানুরায় আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নাগরিক নিহত হন। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। এরপরও টার্মিনালে তেল লোডিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এএনজেডের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেল সরবরাহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্যাংকারের দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ থাকা। তাদের ধারণা, চলতি বছরের বাকি সময় লেগে যেতে পারে সংঘাত শুরুর আগের পর্যায়ে তেল সরবরাহ ফিরতে।

সূত্র: আরব নিউজ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা, বাড়ল তেলের দাম

আপডেট সময়ঃ ১১:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি কতটা টেকসই, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলও আবার ধীর হয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৮ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৭২.৫৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডুব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৮ সেন্ট বা ১.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০.১১ ডলারে ওঠে।

ডাচ ব্যাংক আইএনজি-এর বিশ্লেষকরা এক প্রতিবেদনে বলেন, তেলের বাজারে এখনও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা মূলত তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে বৈশ্বিক বাজারে তার কী প্রভাব পড়বে, সেদিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।

তাদের মতে, এই আত্মতুষ্টি কিছুটা অস্বাভাবিক। কারণ, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাহলে তেলের দামে আরও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতির ঝুঁকি রয়েছে।

গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০.৬ শতাংশ কমেছিল। এটি ছিল টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরপতন। কারণ, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন বেড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

তবে বৃহস্পতিবার থেকে প্রণালিতে জাহাজের ওপর নতুন করে হামলার পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। কাতার-সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়, যা অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে তেলের দাম আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। কারণ, রোববার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাত বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধের সমাধানে আবার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার এখন পারস্য উপসাগর থেকে দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এই ধারণা নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো শুক্রবার রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে আবার অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে অবস্থিত এই টার্মিনালে প্রায় চার মাস ধরে তেল লোডিং বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী চুক্তির আগে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর অংশ হিসেবে কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।

রোববার রাস তানুরায় আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নাগরিক নিহত হন। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। এরপরও টার্মিনালে তেল লোডিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এএনজেডের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেল সরবরাহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্যাংকারের দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ থাকা। তাদের ধারণা, চলতি বছরের বাকি সময় লেগে যেতে পারে সংঘাত শুরুর আগের পর্যায়ে তেল সরবরাহ ফিরতে।

সূত্র: আরব নিউজ