১০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানির সব বাধা দূর করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • 4

আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানির সব বাধা দূর করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আম রপ্তানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের কৃষিখাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য বিশ্বের অন্যতম উপযোগী দেশ হলেও নীতিগত ও আইনগত কিছু জটিলতার কারণে এ খাত এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কৃষি ও কৃষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ঋণ মওকুফ এবং খাল খননের মতো উদ্যোগ কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কৃষিখাতে সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোও কৃষিখাতে ব্যাপক ভর্তুকি প্রদান করে থাকে। একই সঙ্গে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পণ্যের মান বজায় রাখাকে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে সফলতার প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

চীনে কাঁঠাল রপ্তানির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চীন বাংলাদেশ থেকে বড় পরিসরে কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে একটি আধুনিক প্যাকিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

jagonews24আম রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী/ছবি: জাগো নিউজ

বাংলাদেশের আদি ফলের স্বাদ ও গুণগত মান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিজ্ঞানীদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ফলের রঙ, স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন করা উচিত নয়, যাতে ফলের স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট হয়।

রপ্তানি খাতের অন্যতম সমস্যা হিসেবে তিনি উচ্চ এয়ার কার্গো ভাড়ার কথা উল্লেখ করেন। এ সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।

খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন শুধু স্বাদ নয়, নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. সেলিম খান। অনুষ্ঠানে আম রপ্তানির সম্ভাবনা ও প্রকৃত অর্জন বিষয়ে কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।

পরে মন্ত্রী উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে আম উৎপাদনকারী চাষিদের হাতে গ্যাপ সার্টিফিকেট তুলে দেন। এর আগে মন্ত্রী আম রপ্তানির উদ্বোধন করেন।

এনএইচ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানির সব বাধা দূর করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানির সব বাধা দূর করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানির সব বাধা দূর করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আম রপ্তানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের কৃষিখাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য বিশ্বের অন্যতম উপযোগী দেশ হলেও নীতিগত ও আইনগত কিছু জটিলতার কারণে এ খাত এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কৃষি ও কৃষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ঋণ মওকুফ এবং খাল খননের মতো উদ্যোগ কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কৃষিখাতে সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোও কৃষিখাতে ব্যাপক ভর্তুকি প্রদান করে থাকে। একই সঙ্গে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পণ্যের মান বজায় রাখাকে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে সফলতার প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

চীনে কাঁঠাল রপ্তানির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চীন বাংলাদেশ থেকে বড় পরিসরে কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে একটি আধুনিক প্যাকিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

jagonews24আম রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী/ছবি: জাগো নিউজ

বাংলাদেশের আদি ফলের স্বাদ ও গুণগত মান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিজ্ঞানীদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ফলের রঙ, স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন করা উচিত নয়, যাতে ফলের স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট হয়।

রপ্তানি খাতের অন্যতম সমস্যা হিসেবে তিনি উচ্চ এয়ার কার্গো ভাড়ার কথা উল্লেখ করেন। এ সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।

খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন শুধু স্বাদ নয়, নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. সেলিম খান। অনুষ্ঠানে আম রপ্তানির সম্ভাবনা ও প্রকৃত অর্জন বিষয়ে কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।

পরে মন্ত্রী উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে আম উৎপাদনকারী চাষিদের হাতে গ্যাপ সার্টিফিকেট তুলে দেন। এর আগে মন্ত্রী আম রপ্তানির উদ্বোধন করেন।

এনএইচ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।