০১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিটি-সিসিটি ইজারার উদ্যোগ বন্ধের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • 2

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (২৮ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এ সময় আগামী ১ জুলাই বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাব চত্বরে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বন্দর রক্ষা কমিটির চট্টগ্রাম অঞ্চলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।

আরও পড়ুন

এনসিটি ইজারা নিয়ে ফের উত্তাপ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিল স্কপ

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের কেন্দ্র। তাই এর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এনসিটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি ১২ সদস্যের সহায়ক দলও গঠন করেছে।

বক্তারা বলেন, এনসিটি ও সিসিটি বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত জাতীয় সম্পদ এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, এনসিটির বার্ষিক সক্ষমতা ১১ লাখ টিইইউস হলেও বর্তমানে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ডও হয়েছে, যা দেশীয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার প্রমাণ।

আরও পড়ুন

এনসিটি ইস্যুতে উত্তাল চট্টগ্রাম বন্দর, ২ দিনের শাটডাউন ঘোষণা শ্রমিকদের

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চূড়ান্ত চুক্তির আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ৩৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বেড়ে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে বন্দরের আয়ের একটি বড় অংশ মুনাফা হিসেবে বিদেশে চলে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।

তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ প্রবেশপথে অবরোধ / ‘জীবন থাকতে বন্দর বিদেশিদের দিতে দেব না, প্রয়োজনে হরতাল’

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে —এনসিটি ও সিসিটি কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় সব টার্মিনাল পরিচালনা, বন্দর-সংক্রান্ত সব চুক্তি প্রকাশ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো গোপন সমঝোতা না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা, জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম এবং বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।

এমআরএএইচ/এমএমকে

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা

এনসিটি-সিসিটি ইজারার উদ্যোগ বন্ধের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (২৮ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এ সময় আগামী ১ জুলাই বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাব চত্বরে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বন্দর রক্ষা কমিটির চট্টগ্রাম অঞ্চলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।

আরও পড়ুন

এনসিটি ইজারা নিয়ে ফের উত্তাপ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিল স্কপ

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের কেন্দ্র। তাই এর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এনসিটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি ১২ সদস্যের সহায়ক দলও গঠন করেছে।

বক্তারা বলেন, এনসিটি ও সিসিটি বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত জাতীয় সম্পদ এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, এনসিটির বার্ষিক সক্ষমতা ১১ লাখ টিইইউস হলেও বর্তমানে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ডও হয়েছে, যা দেশীয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার প্রমাণ।

আরও পড়ুন

এনসিটি ইস্যুতে উত্তাল চট্টগ্রাম বন্দর, ২ দিনের শাটডাউন ঘোষণা শ্রমিকদের

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চূড়ান্ত চুক্তির আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ৩৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বেড়ে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে বন্দরের আয়ের একটি বড় অংশ মুনাফা হিসেবে বিদেশে চলে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।

তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ প্রবেশপথে অবরোধ / ‘জীবন থাকতে বন্দর বিদেশিদের দিতে দেব না, প্রয়োজনে হরতাল’

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে —এনসিটি ও সিসিটি কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় সব টার্মিনাল পরিচালনা, বন্দর-সংক্রান্ত সব চুক্তি প্রকাশ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো গোপন সমঝোতা না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা, জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম এবং বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।

এমআরএএইচ/এমএমকে