০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • 9

উজানের ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ব্রহ্মপুত্র নদ নুনখাওয়া পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার এক দশমিক ৬৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর জুয়ান সতরা এলাকার কৃষক আবদুস ছালাম বলেন, পানি বাড়ার কারণে চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে মরিচ ও পটলক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে বাদাম তুলে নিয়েছি। তবে পাটক্ষেতসহ অন্যান্য সবজিক্ষেতে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন মানুষ।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনো সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোকনুজ্জামান মানু/এনএইচআর/এমএস

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

উজানের ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ব্রহ্মপুত্র নদ নুনখাওয়া পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার এক দশমিক ৬৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর জুয়ান সতরা এলাকার কৃষক আবদুস ছালাম বলেন, পানি বাড়ার কারণে চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে মরিচ ও পটলক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে বাদাম তুলে নিয়েছি। তবে পাটক্ষেতসহ অন্যান্য সবজিক্ষেতে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন মানুষ।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনো সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোকনুজ্জামান মানু/এনএইচআর/এমএস