জুলাই ছিল মানুষের অধিকার, রক্ত আর ত্যাগের প্রতীক-কারও ব্যক্তিগত ব্যবসার লাইসেন্স নয়। মানুষের আবেগ, সংগ্রাম আর ত্যাগকে পুঁজি করে যারা আজ সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের মুখোশ একদিন খুলবেই।
পেছন ফিরে তাকালে আজ চরম ক্ষোভ আর হতাশা জাগে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ফুঁসে উঠেছিল, তখন আমি মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরে এসেছিলাম। নিজের এলাকাতেই ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজপথে সক্রিয় ছিলাম।
রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আন্দোলন করেছি, জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবাদ করেছি। তখন মনে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না, পদ-পদবির লোভ ছিল না; ছিল কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস।
কিন্তু আজ দুই বছর পার হয়ে গেলেও (২০২৪-২০২৬) দেখা যাচ্ছে, জুলাইয়ের সেই পবিত্র চেতনা বিক্রি করে অনেকে নিজের আখের গোছাচ্ছে। কেউ পদ-পদবি দখল করছে, কেউ প্রভাব বিস্তার করছে, আবার কেউ আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে নিজের পকেট ভারী করছে।
অথচ যারা সত্যিকার অর্থে মাঠে ছিল, ত্যাগ স্বীকার করেছে, নির্যাতন সহ্য করেছে, তাদের অনেকেই আজ অবহেলিত। কারণ, তারা তোষামোদ করতে জানে না, চেতনার ব্যবসা করতে জানে না।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, যারা আন্দোলনের সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে আশপাশেও ছিল না, তারাই আজ বড় বড় ‘জুলাই বিশেষজ্ঞ’ হয়ে গেছে! কেউ চেতনার ঠিকাদার, কেউ আবার বিপ্লবের মালিক সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখে মনে হয়, জুলাইয়ের চেতনাও বুঝি এখন টেন্ডারে চলে গেছে!
মানুষের রক্ত আর আবেগকে পুঁজি করে যারা আজ বড় বড় কথা বলছেন, তারা আগে সাধারণ মানুষের বাস্তব কষ্টের জবাব দিন। বিগত হাসিনা সরকারের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মালদ্বীপ থেকে পাঠানো আমার রেমিট্যান্সের টাকা আর জমানো ডিপিএসের সঞ্চয় তুলতে পারছি না।
সাধারণ মানুষ নিজেদের কষ্টের টাকা তুলতে ব্যাংকে ব্যাংকে ঘুরবে আর হয়রানির শিকার হবে, আর কিছু লোক চেতনার গল্প শুনিয়ে নিজের পকেট ভরবে এই ভণ্ডামি আর কতদিন মেনে নেওয়া যায়?
এখানে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই- এমপি হাসানাত, আপনাকে বলছি; শুধু মুখে চেতনার মিষ্টি কথা বলে কোনো লাভ নেই। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিন, মানুষের কষ্টের টাকা তোলার ব্যবস্থা করুন। না হলে এই সাধারণ মানুষই একদিন আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে এবং কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব চাইবে।
আমি জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা চাইনি, এখনও চাই না। কিন্তু মানুষের রক্ত আর ত্যাগ নিয়ে এই নোংরা ব্যবসা বন্ধ হতে হবে। জুলাই কোনো রাজনৈতিক দোকান নয়, কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, কিংবা কোনো ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডও নয়।
মানুষের ত্যাগকে পুঁজি করে এই নাটক বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, সাধারণ মানুষ হয়তো চুপ থাকে, কিন্তু তারা সব দেখে এবং সব বোঝে। আর সময় হলে সাধারণ মানুষই এর যোগ্য জবাব দেয়।
এমআরএম
এডমিন 


















