প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারকসহ ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
শনিবার (২০ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সম্ভাব্য দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ও একটি প্রটোকল। এছাড়া সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া সফরে ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল থাকবে। আমরা প্রতিনিধিদলের আকার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, আগামীকাল (রোববার) থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুরু হতে যাচ্ছে। এ সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সোমবার বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি চীন সফর করবেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সম্মেলন ‘সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬’-এ অংশ নেবেন।
আয়োজকরা জানিয়েছে, চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশের বন্দরনগরী দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন এ ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠানের এক মুখপাত্র জানান, ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ এর বেশি অংশগ্রহণকারী এ সম্মেলনে যোগ দেবেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা, ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’। এতে চীনের অর্থনীতির পরবর্তী ধাপের গতিপথ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে কীভাবে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরের মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএএইচ/
এডমিন 












