০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘প্রবাসী কার্ড’ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, মিলবে বিশেষ সুবিধা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • 3

বহুল আলোচিত ‘প্রবাসী কার্ড’ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা জানতে চাইছেন কারা আগে এই কার্ড পাবেন এবং এতে কী ধরনের সুবিধা মিলবে।

বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই বিশেষ পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রবাসী সংগঠন ও বিদেশে বিভিন্ন কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি মো. রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা অনেক বছর ধরে দেশের জন্য কাজ করছি। সরকার যদি আমাদের জন্য আলাদা পরিচয় ও সুযোগ-সুবিধা দেয়, তাহলে সেটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ হবে।’

আরেক প্রবাসী শরীফুল ইসলাম জানান, প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। যদি এই কার্ডের মাধ্যমে দূতাবাস ও সরকারি সেবা দ্রুত পাওয়া যায়, তাহলে অনেক উপকার হবে।

মালয়েশিয়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি সালাহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন কাজ করে দেশে ফিরে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মালয়েশিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) একটি সরকার স্বীকৃত প্রবাসী পরিচয়পত্র দেয়, যেখানে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও কল্যাণ সেবার কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে এটি পেতে নানা ধাপে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই কার্ডকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করা অথবা আলাদা প্রবাসী কার্ড চালু করলেই প্রবাসীরা প্রকৃত সুফল পাবেন।

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে পিএলকেএসের হিসাব অনুযায়ী বৈধ প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় আট লাখ। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবাখাত, প্ল্যান্টেশন, কৃষি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত এই প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধভাবে বিদেশে কর্মরত এবং সরকার অনুমোদিত উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানো বাংলাদেশিরাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর বৈধ পাসপোর্ট, কর্ম অনুমতি এবং নিবন্ধিত তথ্য রয়েছে, তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম ধাপে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমঘন দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। কারণ এসব দেশ থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া দক্ষকর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরও পরবর্তী ধাপে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন
‘প্রবাসী কার্ড’ চান মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরা 
প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দেয়ার উদ্যোগ ইসির 

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, প্রবাসী কার্ডে থাকবে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর পরিচয় ব্যবস্থা। এতে কার্ডধারীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, এনআইডি নম্বর, বিদেশে অবস্থানের তথ্য, কর্মক্ষেত্র এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই কার্ডের সঙ্গে অনলাইন ডাটাবেস সংযুক্ত করা হলে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাস বা সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, বিমানবন্দর সেবায় বিশেষ সহায়তা, ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স সেবায় অগ্রাধিকার, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগে সহায়তা, সরকারি বিভিন্ন সেবায় দ্রুততা, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণমূলক সুবিধা, জরুরি সহায়তা ও আইনি সহযোগিতা ও দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন সুবিধা।

এছাড়া ভবিষ্যতে প্রবাসীদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা সুবিধা এবং সন্তানদের শিক্ষাবিষয়ক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক গণমাধ্যমকে জানান, বিএমইটি কার্ডে যে তথ্যগুলো আছে, প্রবাসী কার্ডেও সেই বিষয়গুলো থাকবে। তবে এই কার্ডে আরও বাড়তি কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই সঙ্গে ব্যাংকিং সিস্টেমও যুক্ত থাকবে এই কার্ডে।

তিনি জানান, অনেক সময় দেশের বাইরে যারা থাকে, তারা যে টাকা পাঠান সেটি অনেক সময় তাদের নিকটআত্মীয় বা পরিবারের লোকেরা খরচ করে ফেলেন। এই কার্ডটা চালু হলে পরিবার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খরচ করতে পারবে। আনলিমিটেড টাকা খরচ করতে পারবেন না।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বিভাগীয় শহর থেকে জেলা শহর পর্যন্ত প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী সিটি গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে যাদের কাছে এই প্রবাসী কার্ড থাকবে তারা প্রবাসী সিটিতে আবাসন বা প্লট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে যে বিএমইটি কার্ড দেওয়া হয়েছিল, সেটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের খুব একটা কাজে আসেনি। নতুন করে এই কার্ড চালু করা হলে সেটিতে যেন নাগরিকরা সত্যিকারে উপকৃত হয়, সেই চিন্তাও করতে হবে সরকারকে।

আরও পড়ুন
শুরুতেই ফ্যামিলি কার্ড পাবে সাড়ে ৬ হাজার পরিবার, লাগবে ২ কোটি টাকা 
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কারা পাবেন, কারা পাবেন না 

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে তার সঠিক সংখ্যা সরকারের কাছেও নেই। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সেই হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা অন্তত দেড় কোটি। এর বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি আছে কিন্তু তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নতুন নতুন অনেক কার্ড চালু করেছে। যার ধারাবাহিকতায় নতুন করে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ একটি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডটি প্রবাসীদের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সেবা কার্ড হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে তারা দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সুবিধা পাবেন।

বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই চালু হয়েছিল বিএমইটি কার্ড। এই কার্ড ছাড়া কোনো শ্রমিক বৈধভাবে বিদেশ যেতে পারবে না। বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, এই প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে এবং দেশে ফেরত প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া হবে।

সবমিলিয়ে, বহুল প্রত্যাশিত প্রবাসী কার্ড এখন প্রবাসীদের আলোচনার কেন্দ্রে। কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হবে এবং ঘোষিত সুবিধাগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী।

এমআরএম/এমএমএআর

ট্যাগঃ

‘প্রবাসী কার্ড’ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, মিলবে বিশেষ সুবিধা

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বহুল আলোচিত ‘প্রবাসী কার্ড’ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা জানতে চাইছেন কারা আগে এই কার্ড পাবেন এবং এতে কী ধরনের সুবিধা মিলবে।

বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই বিশেষ পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রবাসী সংগঠন ও বিদেশে বিভিন্ন কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি মো. রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা অনেক বছর ধরে দেশের জন্য কাজ করছি। সরকার যদি আমাদের জন্য আলাদা পরিচয় ও সুযোগ-সুবিধা দেয়, তাহলে সেটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ হবে।’

আরেক প্রবাসী শরীফুল ইসলাম জানান, প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। যদি এই কার্ডের মাধ্যমে দূতাবাস ও সরকারি সেবা দ্রুত পাওয়া যায়, তাহলে অনেক উপকার হবে।

মালয়েশিয়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি সালাহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন কাজ করে দেশে ফিরে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মালয়েশিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) একটি সরকার স্বীকৃত প্রবাসী পরিচয়পত্র দেয়, যেখানে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও কল্যাণ সেবার কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে এটি পেতে নানা ধাপে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই কার্ডকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করা অথবা আলাদা প্রবাসী কার্ড চালু করলেই প্রবাসীরা প্রকৃত সুফল পাবেন।

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে পিএলকেএসের হিসাব অনুযায়ী বৈধ প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় আট লাখ। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবাখাত, প্ল্যান্টেশন, কৃষি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত এই প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধভাবে বিদেশে কর্মরত এবং সরকার অনুমোদিত উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানো বাংলাদেশিরাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর বৈধ পাসপোর্ট, কর্ম অনুমতি এবং নিবন্ধিত তথ্য রয়েছে, তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম ধাপে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমঘন দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। কারণ এসব দেশ থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া দক্ষকর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরও পরবর্তী ধাপে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন
‘প্রবাসী কার্ড’ চান মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরা 
প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দেয়ার উদ্যোগ ইসির 

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, প্রবাসী কার্ডে থাকবে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর পরিচয় ব্যবস্থা। এতে কার্ডধারীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, এনআইডি নম্বর, বিদেশে অবস্থানের তথ্য, কর্মক্ষেত্র এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই কার্ডের সঙ্গে অনলাইন ডাটাবেস সংযুক্ত করা হলে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাস বা সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, বিমানবন্দর সেবায় বিশেষ সহায়তা, ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স সেবায় অগ্রাধিকার, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগে সহায়তা, সরকারি বিভিন্ন সেবায় দ্রুততা, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণমূলক সুবিধা, জরুরি সহায়তা ও আইনি সহযোগিতা ও দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন সুবিধা।

এছাড়া ভবিষ্যতে প্রবাসীদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা সুবিধা এবং সন্তানদের শিক্ষাবিষয়ক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক গণমাধ্যমকে জানান, বিএমইটি কার্ডে যে তথ্যগুলো আছে, প্রবাসী কার্ডেও সেই বিষয়গুলো থাকবে। তবে এই কার্ডে আরও বাড়তি কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই সঙ্গে ব্যাংকিং সিস্টেমও যুক্ত থাকবে এই কার্ডে।

তিনি জানান, অনেক সময় দেশের বাইরে যারা থাকে, তারা যে টাকা পাঠান সেটি অনেক সময় তাদের নিকটআত্মীয় বা পরিবারের লোকেরা খরচ করে ফেলেন। এই কার্ডটা চালু হলে পরিবার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খরচ করতে পারবে। আনলিমিটেড টাকা খরচ করতে পারবেন না।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বিভাগীয় শহর থেকে জেলা শহর পর্যন্ত প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী সিটি গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে যাদের কাছে এই প্রবাসী কার্ড থাকবে তারা প্রবাসী সিটিতে আবাসন বা প্লট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে যে বিএমইটি কার্ড দেওয়া হয়েছিল, সেটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের খুব একটা কাজে আসেনি। নতুন করে এই কার্ড চালু করা হলে সেটিতে যেন নাগরিকরা সত্যিকারে উপকৃত হয়, সেই চিন্তাও করতে হবে সরকারকে।

আরও পড়ুন
শুরুতেই ফ্যামিলি কার্ড পাবে সাড়ে ৬ হাজার পরিবার, লাগবে ২ কোটি টাকা 
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কারা পাবেন, কারা পাবেন না 

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে তার সঠিক সংখ্যা সরকারের কাছেও নেই। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সেই হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা অন্তত দেড় কোটি। এর বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি আছে কিন্তু তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নতুন নতুন অনেক কার্ড চালু করেছে। যার ধারাবাহিকতায় নতুন করে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ একটি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডটি প্রবাসীদের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সেবা কার্ড হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে তারা দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সুবিধা পাবেন।

বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই চালু হয়েছিল বিএমইটি কার্ড। এই কার্ড ছাড়া কোনো শ্রমিক বৈধভাবে বিদেশ যেতে পারবে না। বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, এই প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে এবং দেশে ফেরত প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া হবে।

সবমিলিয়ে, বহুল প্রত্যাশিত প্রবাসী কার্ড এখন প্রবাসীদের আলোচনার কেন্দ্রে। কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হবে এবং ঘোষিত সুবিধাগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী।

এমআরএম/এমএমএআর