বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ ও স্টোরেজ উপাদানের তীব্র সংকটের কারণে ভবিষ্যতে অ্যাপলের পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অ্যাপলের সিইও টিম কুক।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে মূল্যবৃদ্ধি এখন আর এড়ানো সম্ভব নয়। আমরা খরচ কমানোর চেষ্টা করছি এবং গ্রাহকদের চাপ থেকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেছি, তবে পরিস্থিতি এখন আর টেকসই নয়।’
তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিশ্বব্যাপী দ্রুত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মেমোরি ও স্টোরেজ কম্পোনেন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দামও বেড়ে গেছে।
টিম কুক আরও বলেন, ‘একই সময়ে চাহিদা অনেক বেশি এবং সরবরাহ তুলনামূলক কম। মেমোরি নির্মাতারা বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি চাপিয়ে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় কনজ্যুমার ডিভাইসের দাম দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল রাখা কঠিন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৪০ বছরে প্রযুক্তি শিল্পে এমন সংকট তিনি আর দেখেননি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামীতে নতুন আইফোন, ম্যাকবুক ও আইপ্যাড সিরিজে দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে আসন্ন আইফোন ১৮ সিরিজে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু অ্যাপল নয়, স্যামসাং, মাইক্রোসফট, এইচপি, নিন্টেন্ডো, ভালভসহ একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের মূল্যচাপের মুখে রয়েছে।
কেন দাম বাড়ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করছে
- প্রথমত, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্ফোরক চাহিদা। ডাটা সেন্টার, এআই সার্ভার এবং উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিংয়ের জন্য প্রচুর পরিমাণে র্যাম ও স্টোরেজ প্রয়োজন হচ্ছে।
- দ্বিতীয়ত, উৎপাদন খাতে সীমিত সরবরাহ। মেমোরি চিপ তৈরির বড় কয়েকটি কোম্পানি উৎপাদন বাড়াতে পারলেও চাহিদার সঙ্গে তাল মিলাতে পারছে না।
- তৃতীয়ত, কাঁচামাল ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। উন্নত প্রযুক্তির চিপ তৈরিতে খরচ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
- চতুর্থত, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে অস্থিরতা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার চাপও দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে প্রযুক্তি শিল্পে বর্তমানে ‘র্যাম ও স্টোরেজ সংকট’ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা আগামী দিনে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: এনগ্যাজেট
শাহজালাল/কেএসকে
এডমিন 












