০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় পাওয়া সেই লাশ কি ফোরকানের, যা জানাল পুলিশ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • 4

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনকে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার লাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক যুবকের মরদেহকে। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন জানান, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে পদ্মা সেতুর ওপর এক ব্যক্তি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর নদীতে ঝাঁপ দেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ও জামাকাপড় ছিল।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ফোরকান কিনা তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ জানায়, পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এছাড়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইলটি তিনি পদ্মা সেতুর ওপর পড়ে থাকতে দেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল।

এর আগে গত ৮ মে রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে পাঁচজনকে হত্যার কথা স্বীকার করে পালিয়ে যাওয়ার কথা জানান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে তিন শিশুর গলাকাটা লাশ পাশাপাশি পড়ে ছিল। নিহত শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। অন্যদিকে শ্যালক রসুল মিয়ার লাশ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়ের বোতল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এরই মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

সাজু/নিএ

ট্যাগঃ

সীমান্তে লাশ মাড়িয়ে দুই দেশের সত্যিকারের বন্ধুত্ব হতে পারে না

পদ্মায় পাওয়া সেই লাশ কি ফোরকানের, যা জানাল পুলিশ

আপডেট সময়ঃ ১১:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনকে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার লাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক যুবকের মরদেহকে। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন জানান, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে পদ্মা সেতুর ওপর এক ব্যক্তি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর নদীতে ঝাঁপ দেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ও জামাকাপড় ছিল।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ফোরকান কিনা তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ জানায়, পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এছাড়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইলটি তিনি পদ্মা সেতুর ওপর পড়ে থাকতে দেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল।

এর আগে গত ৮ মে রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে পাঁচজনকে হত্যার কথা স্বীকার করে পালিয়ে যাওয়ার কথা জানান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে তিন শিশুর গলাকাটা লাশ পাশাপাশি পড়ে ছিল। নিহত শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। অন্যদিকে শ্যালক রসুল মিয়ার লাশ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়ের বোতল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এরই মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

সাজু/নিএ