০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিয়মিত দুঃস্বপ্ন মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায় তিন গুণ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 5

দীর্ঘমেয়াদি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখেন, তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, ঘুমের এই সমস্যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার দুঃস্বপ্নে ভোগেন, তাদের ৭৫ বছরের আগেই মৃত্যুর ঝুঁকি সেই ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি, যারা খুব কম দুঃস্বপ্ন দেখেন।

ফলাফলগুলো এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত চারটি বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত তথ্য বিশ্লেষণ থেকে। এসব গবেষণায় ২৬ থেকে ৭৪ বছর বয়সি ৪ হাজারের বেশি মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষণার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখে। এই তথ্যকে ভিত্তি করে পরবর্তী বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ২২৭ জন অংশগ্রহণকারী ৭৫ বছর বয়সের আগেই মারা যান।

গবেষকরা বয়স, লিঙ্গ, মানসিক স্বাস্থ্য, ধূমপান ও ওজনের মতো সাধারণ ঝুঁকির বিষয়গুলো হিসাবের বাইরে রেখেও ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন। তারপরও দেখা গেছে, নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখা ব্যক্তিদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় তিন গুণই বেশি থাকে।

গবেষকদের মতে, এই ঝুঁকি মাত্রা ভারী ধূমপানের ফলে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, তার সঙ্গে তুলনীয়।

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করা হয়—এপিজেনেটিক ক্লক। এটি ডিএনএ-তে থাকা কিছু রাসায়নিক চিহ্নের মাধ্যমে একজন মানুষের প্রকৃত জৈবিক বয়স বোঝাতে সাহায্য করে।

তিন ধরনের এপিজেনেটিক ক্লক বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, যারা ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখেন, তাদের শরীরের জৈবিক বয়স বাস্তব বয়সের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ, নিয়মিত দুঃস্বপ্ন শরীরের দ্রুত বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

দুঃস্বপ্নে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায় এবং শরীরে চাপ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। গবেষকদের ধারণা, এ ধরনের বারবার রাতের চাপ শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ গবেষণাটি এখনো স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচিত হয়নি। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

নিয়মিত দুঃস্বপ্ন শুধু মানসিক অস্বস্তির বিষয় নয়, এটি শরীরের গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। ঘুমের গুণগত মান ঠিক রাখা তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কুশল/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

খতিয়ান-ম্যাপ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের জন্য ৯৯ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন

নিয়মিত দুঃস্বপ্ন মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায় তিন গুণ

আপডেট সময়ঃ ১১:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘমেয়াদি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখেন, তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, ঘুমের এই সমস্যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার দুঃস্বপ্নে ভোগেন, তাদের ৭৫ বছরের আগেই মৃত্যুর ঝুঁকি সেই ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি, যারা খুব কম দুঃস্বপ্ন দেখেন।

ফলাফলগুলো এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত চারটি বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত তথ্য বিশ্লেষণ থেকে। এসব গবেষণায় ২৬ থেকে ৭৪ বছর বয়সি ৪ হাজারের বেশি মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষণার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখে। এই তথ্যকে ভিত্তি করে পরবর্তী বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ২২৭ জন অংশগ্রহণকারী ৭৫ বছর বয়সের আগেই মারা যান।

গবেষকরা বয়স, লিঙ্গ, মানসিক স্বাস্থ্য, ধূমপান ও ওজনের মতো সাধারণ ঝুঁকির বিষয়গুলো হিসাবের বাইরে রেখেও ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন। তারপরও দেখা গেছে, নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখা ব্যক্তিদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় তিন গুণই বেশি থাকে।

গবেষকদের মতে, এই ঝুঁকি মাত্রা ভারী ধূমপানের ফলে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, তার সঙ্গে তুলনীয়।

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করা হয়—এপিজেনেটিক ক্লক। এটি ডিএনএ-তে থাকা কিছু রাসায়নিক চিহ্নের মাধ্যমে একজন মানুষের প্রকৃত জৈবিক বয়স বোঝাতে সাহায্য করে।

তিন ধরনের এপিজেনেটিক ক্লক বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, যারা ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখেন, তাদের শরীরের জৈবিক বয়স বাস্তব বয়সের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ, নিয়মিত দুঃস্বপ্ন শরীরের দ্রুত বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

দুঃস্বপ্নে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায় এবং শরীরে চাপ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। গবেষকদের ধারণা, এ ধরনের বারবার রাতের চাপ শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ গবেষণাটি এখনো স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচিত হয়নি। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

নিয়মিত দুঃস্বপ্ন শুধু মানসিক অস্বস্তির বিষয় নয়, এটি শরীরের গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। ঘুমের গুণগত মান ঠিক রাখা তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কুশল/সাএ