০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ির দাবি, ডিসি বরাবর স্মারকলিপি

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৫১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এলপি গ্যাসের মূল্য তদারকিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের নিকট এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটি তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- সকল পণ্যের ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলক করা, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সকল সরকারি সংস্থার সমন্বিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।

ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলক করার দাবি: স্মারকলিপিতে বলা হয়, পূর্ববর্তী বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হিসেবে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করা এবং প্রশাসনের পক্ষে প্রকৃত ক্রয়মূল্য যাচাইয়ে জটিলতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে রমজান মাসে সকল ব্যবসায়ীর জন্য পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের বৈধ ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

সমন্বিত বাজার মনিটরিংয়ের প্রস্তাব: স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা- জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আলাদাভাবে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এতে অনেক এলাকায় একাধিক সংস্থার উপস্থিতি দেখা গেলেও কিছু এলাকা মনিটরিংয়ের বাইরে থেকে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত ও পরিকল্পিত একটি যৌথ বাজার মনিটরিং টিম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিআরবি। তাদের দাবি, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে জেলার সর্বত্র নজরদারি নিশ্চিত হবে এবং ভোক্তারা সুফল পাবেন।

এলপি গ্যাসের মূল্য তদারকি ও শাস্তির দাবি: স্মারকলিপিতে এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়মের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা করা হলেও তা যথেষ্ট প্রতিরোধমূলক ভূমিকা রাখছে না বলে উল্লেখ করা হয়।

সিআরবি খাগড়াছড়ি জেলা শাখা এলপি গ্যাসের নির্ধারিত মূল্য কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি)র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ বলেন, “রমজান মাসে সাধারণ মানুষ যেন অতিরিক্ত দামের চাপের মধ্যে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা চাই বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হোক। ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলক করা হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে এলপি গ্যাসের নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি জরুরি। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এমনটাই আমরা প্রত্যাশা করছি।”

এসময় সিআরবি খাগড়াছড়ি শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বিনোদন ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সবুজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল দাশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্য মনিটরিং সম্পাদক মো. সাব্বির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে রমজানে খাগড়াছড়ির বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবে।

কুশল/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে বিশাল জয়ে সুপার এইট শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের

খাগড়াছড়িতে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ির দাবি, ডিসি বরাবর স্মারকলিপি

আপডেট সময়ঃ ১০:৫১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এলপি গ্যাসের মূল্য তদারকিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের নিকট এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটি তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- সকল পণ্যের ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলক করা, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সকল সরকারি সংস্থার সমন্বিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।

ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলক করার দাবি: স্মারকলিপিতে বলা হয়, পূর্ববর্তী বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হিসেবে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করা এবং প্রশাসনের পক্ষে প্রকৃত ক্রয়মূল্য যাচাইয়ে জটিলতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে রমজান মাসে সকল ব্যবসায়ীর জন্য পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের বৈধ ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

সমন্বিত বাজার মনিটরিংয়ের প্রস্তাব: স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা- জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আলাদাভাবে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এতে অনেক এলাকায় একাধিক সংস্থার উপস্থিতি দেখা গেলেও কিছু এলাকা মনিটরিংয়ের বাইরে থেকে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত ও পরিকল্পিত একটি যৌথ বাজার মনিটরিং টিম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিআরবি। তাদের দাবি, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে জেলার সর্বত্র নজরদারি নিশ্চিত হবে এবং ভোক্তারা সুফল পাবেন।

এলপি গ্যাসের মূল্য তদারকি ও শাস্তির দাবি: স্মারকলিপিতে এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়মের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা করা হলেও তা যথেষ্ট প্রতিরোধমূলক ভূমিকা রাখছে না বলে উল্লেখ করা হয়।

সিআরবি খাগড়াছড়ি জেলা শাখা এলপি গ্যাসের নির্ধারিত মূল্য কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি)র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ বলেন, “রমজান মাসে সাধারণ মানুষ যেন অতিরিক্ত দামের চাপের মধ্যে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা চাই বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হোক। ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলক করা হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে এলপি গ্যাসের নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি জরুরি। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এমনটাই আমরা প্রত্যাশা করছি।”

এসময় সিআরবি খাগড়াছড়ি শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বিনোদন ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সবুজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল দাশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্য মনিটরিং সম্পাদক মো. সাব্বির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে রমজানে খাগড়াছড়ির বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবে।

কুশল/সাএ