মাসউদুর রহমান, ঢাকা: কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী কিন্তু বিতর্কিত মোড় নিতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের গ্লাসগো আসর। যেখানে এক সময় গেমসের কলেবর বৃদ্ধিই ছিল লক্ষ্য, সেখানে এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য আয়োজক হিসেবে নাম প্রত্যাহার করার পর, গ্লাসগো যখন এই আসরের দায়িত্ব নিল, তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল—এবারের গেমস হবে ‘মিনি’ সংস্করণ। তবে সম্প্রতি ঘোষিত ১০টি ডিসিপ্লিনের তালিকা ক্রীড়াবিশ্বে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
গ্লাসগো ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন, কুস্তি এবং টেবিল টেনিসের মতো জনপ্রিয় ইভেন্টগুলো বাদ পড়া। এই সিদ্ধান্তটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান) জন্য এক বড় দুঃসংবাদ। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের জন্য কমনওয়েলথ গেমস মানেই ছিল কুস্তি ও হকিতে পদকের ছড়াছড়ি। শ্যুটিং আগে থেকেই বাদ ছিল, এবার ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন বাদ পড়ায় এই অঞ্চলের ক্রীড়াবিদদের জন্য পদক জয়ের মঞ্চ সংকুচিত হয়ে এলো।
কেন এই কাটছাঁট? উত্তরটা সহজ—অর্থনীতি। আধুনিক যুগে অলিম্পিক বা কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসর আয়োজন করতে গিয়ে অনেক দেশ ঋণের জালে আটকে পড়ে। গ্লাসগো কর্তৃপক্ষ এবার কোনো নতুন অবকাঠামো তৈরি করবে না। ২০১৪ সালের গেমসে ব্যবহৃত ভেন্যুগুলোকেই সংস্কার করে ব্যবহার করা হবে। গ্লাসগোর এই ‘লো-কস্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবল’ মডেলটি সফল হলে ভবিষ্যতে হয়তো অলিম্পিকের মতো মেগা ইভেন্টগুলোও এই পথে হাঁটবে। এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং গেমসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক মরিয়া চেষ্টা।
খেলার সংখ্যা কমলেও রোমাঞ্চ ধরে রাখতে সাঁতার এবং অ্যাথলেটিক্সকে মূল আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে। এবারের ১০টি ডিসিপ্লিন হলো- ১. অ্যাথলেটিক্স ২. সাঁতার ৩. আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস ৪. সাইক্লিং ৫. নেটবল ৬. ভারোত্তোলন ৭. বক্সিং ৮. জুডো ৯. বাস্কেটবল (৩x৩) ১০. লন বোলস।
অনেকের মতে, ক্রিকেট বা হকির মতো বৈশ্বিক জনপ্রিয় খেলা না থাকলে গেমসের ব্র্যান্ড ভ্যালু বা দর্শকপ্রিয়তা কমবে। তবে আয়োজকদের যুক্তি—১০ দিনের এই ছোট সংস্করণে দর্শকদের মনোযোগ আরও নিবিড় হবে এবং খরচ কমার ফলে গেমসের স্থায়িত্ব বাড়বে।
গ্লাসগো ২০২৬ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমনওয়েলথ গেমস। এটি কি তার পুরনো গৌরব পুনরুদ্ধার করবে নাকি স্রেফ একটি আঞ্চলিক আসরে পরিণত হবে, তা সময় বলবে। তবে আপাতত বিশ্ববাসী দেখবে এক “স্মার্ট এবং টেকসই” ক্রীড়া আসরের নতুন রূপ, যা হয়তো বদলে দেবে আগামীর ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা।
সালাউদ্দিন/সাএ
এডমিন 



















