০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাইফ-নাইমের ব্যাটে বিসিএল ওয়ানডের শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো সেন্ট্রাল জোন

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • 2

বাকিদের ব্যর্থতার দিনে তাওহীদ হৃদয় একাই আগলে রেখেছিলেন একপ্রান্ত। মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার আগে নর্থ জোনকে এনে দেন লড়াকু সংগ্রহ। তবে সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাইমের ম্যারাথন জুটিতে সহজেই সেই লক্ষ্য তাড়া করেছে সেন্ট্রাল জোন। একই সঙ্গে ১২তম বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ওয়ানডের শিরোপা ঘরে তুললো বিসিবি সেন্ট্রাল জোন।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সাইফ ও নাঈমের ১৬৪ রানের বিশাল জুটিতে চড়ে নর্থ জোনকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে সেন্ট্রাল জোন। ২৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ৩৮ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। সাইফ ও নাইমের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০২১-২২ মৌসুমের পর আবারও শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো সেন্ট্রাল জোন। অন্যদিকে নর্থ জোনের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

রান তাড়ায় এদিন শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল সেন্ট্রাল। ষষ্ঠ ওভারে নাহিদ রানার বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জিসান আলম। এরপরই ক্রিজে আসেন সাইফ ও নাইম। ধৈর্য এবং আগ্রাসনের মিশেলে তারা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। ৮৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে নাইম ছিলেন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সুদৃঢ়। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। অন্যদিকে সাইফ ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ৭৮ বলে ৮৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পথে তিনি হাঁকান ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা।
ক্যারিয়ারের ১১তম লিস্ট-এ সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন সাইফ। কিন্তু জয় যখন হাতের নাগালে, তখন শরিফুল ইসলামের একটি শর্ট ডেলিভারিতে টপ-এজ হয়ে ফেরেন তিনি। মাত্র ১৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় সাইফের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট হতাশা। স্কোর সমান থাকাবস্থায় অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও ইরফান শুক্কুরকে হারিয়ে কিছুটা থমকে গিয়েছিল সেন্ট্রাল। তবে তানজীদ হাসানে তামিমের একটি ওয়াইড ডেলিভারি সেন্ট্রাল জোনের জয় এবং শিরোপা নিশ্চিত করে দেয়।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নর্থ জোন নির্ধারিত ৫০ ওভারের ৩ বল বাকি থাকতেই ২৩৮ রানে গুটিয়ে যায়। তাওহীদ হৃদয়ের ৯৮ বলে ৯৬ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করেই লড়ার পুঁজি পায় নর্থ জোন। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে হৃদয় শুরুতে সাবধানী থাকলেও পরে রানের গতি বাড়ান এবং ৬৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

নর্থ জোনের টপ অর্ডার থেকে হৃদয়কে যোগ্য সঙ্গ কেউ দিতে পারেননি। হাবিবুর রহমান সংগ্রাম করেছেন এবং তানজীদ তামিম ছোট ইনিংসে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েও ফেরেন ২৩ রানে। হৃদয় তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর (৫১ বলে ৩৫) সঙ্গে ৫২ রান এবং চতুর্থ উইকেটে এসএম মেহরাব হাসানের (৩৮ বলে ২৮) সাথে আরও ৩৭ রান যোগ করেন।

পরবর্তীতে ষষ্ঠ উইকেটে সাব্বির রহমানের (৪৩ বলে ২৪) সাথে ৬৩ রান যোগ করেন হৃদয়। তবে ইনিংসের মাত্র ৩ বল বাকি থাকতে রিপন মন্ডলের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থামতে হয় হৃদয়কে। বল হাতে সেন্ট্রাল জোনের রিপন মন্ডল ৪১ রান খরচায় শিকার করেন ৪টি উইকেট। এছাড়া, তাসকিন আহমেদ ও রকিবুল হাসান ২টি করে উইকেট নিয়ে নর্থ জোনকে চাপের মুখে রাখেন।

এসকেডি/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

তুরস্কের জনগণের পক্ষ থেকে নরসিংদীর এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্য উপহার

সাইফ-নাইমের ব্যাটে বিসিএল ওয়ানডের শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো সেন্ট্রাল জোন

আপডেট সময়ঃ ০৬:০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

বাকিদের ব্যর্থতার দিনে তাওহীদ হৃদয় একাই আগলে রেখেছিলেন একপ্রান্ত। মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার আগে নর্থ জোনকে এনে দেন লড়াকু সংগ্রহ। তবে সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাইমের ম্যারাথন জুটিতে সহজেই সেই লক্ষ্য তাড়া করেছে সেন্ট্রাল জোন। একই সঙ্গে ১২তম বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ওয়ানডের শিরোপা ঘরে তুললো বিসিবি সেন্ট্রাল জোন।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সাইফ ও নাঈমের ১৬৪ রানের বিশাল জুটিতে চড়ে নর্থ জোনকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে সেন্ট্রাল জোন। ২৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ৩৮ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। সাইফ ও নাইমের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০২১-২২ মৌসুমের পর আবারও শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো সেন্ট্রাল জোন। অন্যদিকে নর্থ জোনের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

রান তাড়ায় এদিন শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল সেন্ট্রাল। ষষ্ঠ ওভারে নাহিদ রানার বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জিসান আলম। এরপরই ক্রিজে আসেন সাইফ ও নাইম। ধৈর্য এবং আগ্রাসনের মিশেলে তারা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। ৮৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে নাইম ছিলেন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সুদৃঢ়। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। অন্যদিকে সাইফ ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ৭৮ বলে ৮৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পথে তিনি হাঁকান ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা।
ক্যারিয়ারের ১১তম লিস্ট-এ সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন সাইফ। কিন্তু জয় যখন হাতের নাগালে, তখন শরিফুল ইসলামের একটি শর্ট ডেলিভারিতে টপ-এজ হয়ে ফেরেন তিনি। মাত্র ১৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় সাইফের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট হতাশা। স্কোর সমান থাকাবস্থায় অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও ইরফান শুক্কুরকে হারিয়ে কিছুটা থমকে গিয়েছিল সেন্ট্রাল। তবে তানজীদ হাসানে তামিমের একটি ওয়াইড ডেলিভারি সেন্ট্রাল জোনের জয় এবং শিরোপা নিশ্চিত করে দেয়।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নর্থ জোন নির্ধারিত ৫০ ওভারের ৩ বল বাকি থাকতেই ২৩৮ রানে গুটিয়ে যায়। তাওহীদ হৃদয়ের ৯৮ বলে ৯৬ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করেই লড়ার পুঁজি পায় নর্থ জোন। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে হৃদয় শুরুতে সাবধানী থাকলেও পরে রানের গতি বাড়ান এবং ৬৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

নর্থ জোনের টপ অর্ডার থেকে হৃদয়কে যোগ্য সঙ্গ কেউ দিতে পারেননি। হাবিবুর রহমান সংগ্রাম করেছেন এবং তানজীদ তামিম ছোট ইনিংসে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েও ফেরেন ২৩ রানে। হৃদয় তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর (৫১ বলে ৩৫) সঙ্গে ৫২ রান এবং চতুর্থ উইকেটে এসএম মেহরাব হাসানের (৩৮ বলে ২৮) সাথে আরও ৩৭ রান যোগ করেন।

পরবর্তীতে ষষ্ঠ উইকেটে সাব্বির রহমানের (৪৩ বলে ২৪) সাথে ৬৩ রান যোগ করেন হৃদয়। তবে ইনিংসের মাত্র ৩ বল বাকি থাকতে রিপন মন্ডলের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থামতে হয় হৃদয়কে। বল হাতে সেন্ট্রাল জোনের রিপন মন্ডল ৪১ রান খরচায় শিকার করেন ৪টি উইকেট। এছাড়া, তাসকিন আহমেদ ও রকিবুল হাসান ২টি করে উইকেট নিয়ে নর্থ জোনকে চাপের মুখে রাখেন।

এসকেডি/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।