‘সখী, ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়…’, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখরের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি করতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন!
এদিকে জ্যাকুলিনের মন পেতে সুকেশ ‘প্রেম যে কাঁঠালের আঠা লাগলে ছাড়ে না’- গানের মতোই আঠা হয়ে লেগে আছেন। বর্তমানে সুকেশ চন্দ্রশেখর একাধিক জালিয়াতির মামলায় দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি রয়েছেন। জেলে বসেই প্রায় প্রতিটি বিশেষ দিনে তিনি জ্যাকলিনকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখে আসছেন। দিয়ে যাচ্ছেন হেলিকপ্টারসহ দামি উপহার। তাতেও মন গলেনি প্রেমিকার।
বরং সেই প্রেমিকাই এবার সুকেশের বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী হতে যাচ্ছেন। বলা চলে, ভারতের বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতি মামলায় নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে এই ঘটনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে পারেন জ্যাকুলিন। এর ফলে মামলার গতিপথে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেফতারের পর থেকেই সুকেশ চন্দ্রশেখর বিভিন্নভাবে জ্যাকুলিনের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে আসছেন। চিঠি লিখে তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিনেত্রী তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা চাননি, শুধু ভালোবাসাই চেয়েছিলেন।
সর্বশেষ ভালোবাসা দিবসেও তিনি নিজেদের ভালোবাসাকে রোমিও-জুলিয়েট, হির-রাঞ্জা এবং লায়লা-মজনুর মতো কালজয়ী প্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুকেশ দাবি করেন, কোনো কিছুই তাদের এই বন্ধন ভাঙতে পারবে না।
১৪ ফেব্রুয়ারি লেখা চিঠিতে সুকেশ জ্যাকুলিনকে ‘বেবি বোম্মা’ বলে সম্বোধন করেন। ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী চিঠিতে সুকেশ লিখেছেন, ‘লোহার গরাদ আর এই ঠান্ডা দেয়াল আমাদের আলাদা করে রেখেছে। মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মতো আমি তোমাকে প্রতি মুহূর্তে মিস করছি। আজ আমার প্রতিটি হৃদস্পন্দন আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’
চিঠিতে সুকেশ উল্লেখ করেন, জ্যাকলিনের জন্য তিনি একটি বিশেষ সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। সেটি হলো একটি ‘এয়ারবাস এইচ সিরিজ’ লাক্সারি হেলিকপ্টার। এছাড়া এর আগো কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি উপহার তো দিয়েছেনই। জিজ্ঞাসাবাদে সেইসব বিলাসী উপহারের কথা নায়িকাও স্বীকার করেছেন।
এছাড়া তিনি আরও বলেন, জ্যাকুলিন ও তার পরিবারের জন্য দেওয়া সব উপহারই তিনি স্বেচ্ছায় দিয়েছেন। এমনকি এই মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন।
এখন দেখার বিষয়, আদালতে দাঁড়িয়ে সুকেশকে নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন জ্যাকুলিন। তার সাক্ষ্যই নির্ধারণ করতে পারে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা।
এলআইএ
এডমিন 











