বায়ুদূষণের পর শব্দদূষণেও রাজধানী ঢাকা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শহরের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে। শুধু রাজধানীতে নয়, সারাদেশেই শব্দদূষণ ক্রমে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অতিমাত্রায় শব্দ শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত করছে। একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়: বর্তমান সরকারের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক লাইভ টকশোতে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে ও সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মিঠুনের সঞ্চালনায় আয়োজনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স ট্রাস্টের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহ ইসরাত আজমেরী, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের স্বাস্থ্য বিভাগের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার মো. বাবুল মিয়া।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ সংশোধন করে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশকে জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। শুধু আইন-বিধিমালা থাকলেই হবে না, এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫- এ জনপরিসরে লাউডস্পিকার, মাইক, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বনভোজন, নীরব এলাকায় আতশবাজি, পটকা, হর্নসহ সব ধরনের উচ্চ শব্দসৃষ্টিকারী পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়াও সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দসীমা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবেল রাখা এবং অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করা, রাতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে।
শাহ ইসরাত আজমেরী বলেন, শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক। এটি যেমন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য ক্ষতিকর তেমনি শিশুদের মধ্যেও মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। অতিমাত্রায় শব্দ শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। অমনযোগিতা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, নেতিবাচক মনোভাব দেখা দেয়।
মো. বাবুল মিয়া বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকা শহরের শব্দদূষণের মাত্রা পরিমাপের জন্য ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৫ ঢাকার ২০টি স্থানে শব্দদূষণ পরিমাপ করা হয়। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন স্থানে শব্দদূষণ পরিমাপ করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বরাবর দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে গাউস পিয়ারী বলেন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ২০০৬ সাল থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। নাগরিক হিসেবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। ব্যক্তিগত ও নিজের প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালকদের যথাসম্ভব হর্ন কম বাজিয়ে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে আমরা উৎসাহিত করতে পারি।
ইএইচটি/এএসএ
এডমিন 













