০১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে বাজেটের সমালোচনা জামায়াত ও আওয়াম পার্টির

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • 8

পাকিস্তানের বিরোধী নেতারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ফেডারেল বাজেট প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ করেছেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করছে, জনগণের ওপর করের বোঝা চাপাচ্ছে এবং দারিদ্র্য মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে।

ইসলামাবাদে এক বাজেটবিষয়ক সেমিনারে সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, শাসকরা নিজেদেরই প্রতারিত করছে। তিনি সরকারের সেই দাবি সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছে দৈনিক ২৮০ রুপি আয়কারী ব্যক্তি দারিদ্র্যসীমার নিচে নয়।

তিনি বলেন, সরকার বাস্তবতা দেখতে চায় না এবং জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের মানুষ দারিদ্র্যের চাপে পিষ্ট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।

দেশের অর্থনীতিকে একটি পরিবারের বাজেটের সঙ্গে তুলনা করে আব্বাস বলেন, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকলে পরিবার ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয় এবং একসময় সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তার মতে, পাকিস্তানের আয় ব্যয়ের চেয়ে কম হলেও ব্যয় কমানো বা আয় বাড়ানোর জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, একই ব্যবস্থায় পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার ফলাফল হবে সবচেয়ে খারাপ।

তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান জোটের নেতা মুস্তফা নওয়াজ খোখর বলেন, দারিদ্র্য বৃদ্ধি সরকারের অর্থনৈতিক নীতির ব্যর্থতার প্রমাণ।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রকৃত মানদণ্ড হলো মানুষের জীবনমানের উন্নতি। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খোখর বলেন, জনগণকে সেবা না দিয়ে শুধু কর আদায় করলে তা কার্যকর হতে পারে না। দারিদ্র্য কমাতে না পারলে অর্থনৈতিক সাফল্যের কোনো মূল্য নেই।

পিটিআই নেতা সালমান আকরাম রাজা বাজেটকে পাকিস্তানের জন্য অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, অর্থনীতি গভীর সংকট ও ঋণের ফাঁদে আটকে আছে। উন্নয়নের সরকারি দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ক্রমবর্ধমান ঋণ দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।

তিনি ফেডারেল সরকার সুদ পরিশোধের চাপে জর্জরিত। ঋণ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো টেকসই সমাধান নয়।

রাজা আরও বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে ব্যয়ের দিক থেকে পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়াম পাকিস্তান পার্টির নেতা শাহিদ খাকান আব্বাসি বলেন, গত চার বছর পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল।

তিনি বলেন, সরকারের পরিচালন ব্যয় উন্নয়ন ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে, এমনকি পেনশন খাতে ব্যয়ও সরকারের পরিচালন ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সুদ ও ঋণ পরিশোধের পরিমাণ এখন আয়ের চেয়েও বেশি। তার মতে, নতুন কর আরোপের ফলে জনগণের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে, অথচ সরকার ব্যয় মেটাতে নতুন ঋণ নিচ্ছে।

আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা ছাড়া দেশে বিনিয়োগ আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলাম-এর আমির হাফিজ নঈমুর রহমান বলেন, পাকিস্তানে নিষ্ঠুর করব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ প্রায় ৬০ শতাংশ করের বোঝা বহন করছে।

তিনি বলেন, বাজেটে জনগণ কোনো স্বস্তি পায় না, শুধু সংখ্যার অদলবদল হয়।

তিনি পেট্রোলিয়াম লেভি বাতিল, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ এবং সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন তহবিল বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৩০০ সিসির বেশি গাড়ি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।

সূত্র: জিও নিউজ

এমএসএম

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

পাকিস্তানে বাজেটের সমালোচনা জামায়াত ও আওয়াম পার্টির

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের বিরোধী নেতারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ফেডারেল বাজেট প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ করেছেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করছে, জনগণের ওপর করের বোঝা চাপাচ্ছে এবং দারিদ্র্য মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে।

ইসলামাবাদে এক বাজেটবিষয়ক সেমিনারে সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, শাসকরা নিজেদেরই প্রতারিত করছে। তিনি সরকারের সেই দাবি সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছে দৈনিক ২৮০ রুপি আয়কারী ব্যক্তি দারিদ্র্যসীমার নিচে নয়।

তিনি বলেন, সরকার বাস্তবতা দেখতে চায় না এবং জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের মানুষ দারিদ্র্যের চাপে পিষ্ট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।

দেশের অর্থনীতিকে একটি পরিবারের বাজেটের সঙ্গে তুলনা করে আব্বাস বলেন, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকলে পরিবার ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয় এবং একসময় সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তার মতে, পাকিস্তানের আয় ব্যয়ের চেয়ে কম হলেও ব্যয় কমানো বা আয় বাড়ানোর জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, একই ব্যবস্থায় পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার ফলাফল হবে সবচেয়ে খারাপ।

তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান জোটের নেতা মুস্তফা নওয়াজ খোখর বলেন, দারিদ্র্য বৃদ্ধি সরকারের অর্থনৈতিক নীতির ব্যর্থতার প্রমাণ।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রকৃত মানদণ্ড হলো মানুষের জীবনমানের উন্নতি। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খোখর বলেন, জনগণকে সেবা না দিয়ে শুধু কর আদায় করলে তা কার্যকর হতে পারে না। দারিদ্র্য কমাতে না পারলে অর্থনৈতিক সাফল্যের কোনো মূল্য নেই।

পিটিআই নেতা সালমান আকরাম রাজা বাজেটকে পাকিস্তানের জন্য অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, অর্থনীতি গভীর সংকট ও ঋণের ফাঁদে আটকে আছে। উন্নয়নের সরকারি দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ক্রমবর্ধমান ঋণ দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।

তিনি ফেডারেল সরকার সুদ পরিশোধের চাপে জর্জরিত। ঋণ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো টেকসই সমাধান নয়।

রাজা আরও বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে ব্যয়ের দিক থেকে পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়াম পাকিস্তান পার্টির নেতা শাহিদ খাকান আব্বাসি বলেন, গত চার বছর পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল।

তিনি বলেন, সরকারের পরিচালন ব্যয় উন্নয়ন ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে, এমনকি পেনশন খাতে ব্যয়ও সরকারের পরিচালন ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সুদ ও ঋণ পরিশোধের পরিমাণ এখন আয়ের চেয়েও বেশি। তার মতে, নতুন কর আরোপের ফলে জনগণের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে, অথচ সরকার ব্যয় মেটাতে নতুন ঋণ নিচ্ছে।

আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা ছাড়া দেশে বিনিয়োগ আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলাম-এর আমির হাফিজ নঈমুর রহমান বলেন, পাকিস্তানে নিষ্ঠুর করব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ প্রায় ৬০ শতাংশ করের বোঝা বহন করছে।

তিনি বলেন, বাজেটে জনগণ কোনো স্বস্তি পায় না, শুধু সংখ্যার অদলবদল হয়।

তিনি পেট্রোলিয়াম লেভি বাতিল, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ এবং সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন তহবিল বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৩০০ সিসির বেশি গাড়ি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।

সূত্র: জিও নিউজ

এমএসএম