০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরওয়ে যখন শেষবার বিশ্বকাপ খেলে, হালান্ডের জন্মও হয়নি

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • 2

নরওয়ে শেষবার যখন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল, তখন আরলিং হালান্ডের জন্মও হয়নি। ২৫ বছর বয়সী এই দীর্ঘকায় স্ট্রাইকার এবার নরওয়েকে বিশ্বকাপে টেনে নিয়ে এসেছেন। নরওয়ের বর্তমান প্রজন্মকে ধরা হয় তাদের সেরা ফুটবল প্রজন্ম। আর সেই প্রজন্মের প্রধান কাণ্ডারি হালান্ড। গোলের পর গোল করে সমর্থকদের মাতিয়ে রেখেছেন গেল কয়েক বছর। এবার তার সামনে বিশ্বকাপে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার পালা।

২০০০ সালে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারের জাতীয় দলের হয়ে গোলের পাল্লাটাও বেশ ভারি। ৫০ ম্যাচে তিনি করেছেন ৫৫ গোল। মানে প্রতি ম্যাচে অন্তত এক গোল করেছেন তিনি। তাই ইরাকের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে দল।

নরওয়ের ক্লাব ব্রায়ানে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে আরেক ক্লাব মলদেতে যোগ দেন। এরপর পাড়ি জমান অস্ট্রিয়ার ক্লাব সালজবুর্গে। সেখানে খেলেই তিনি সবার নজরে চলে আসেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে ২৮টি গোল করেন যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে করেন ১০টি গোল। এরপর যখন জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যান সেখানেও তিনি সবার মধ্যমণি হয়ে ছিলেন।

ডর্টমুন্ডের হয়ে দুই মৌসুমে ৭০ গোল করার পাশাপাশি করেছেন ১৭টি এসিস্ট যা তাকে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজরে নিয়ে আসে। আর সবাইকে তাক লাগিয়ে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি তাকে ৬৩ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনে নেয়।

ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েই যেন নিজের আসল পারফরম্যান্স দেখাতে শুরু করেন। সিটির হয়ে ১৯৮ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৬২টি গোল। প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে দ্রুততম ফুটবলার যিনি ১০০ গোল করেছেন। জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগও।

গেল মৌসুমেই তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ২৭ গোল করে। ইংল্যান্ডের লিডসে জন্ম নেন, কারণ তার বাবা আলফি হালান্ড পেশাদার ফুটবল খেলেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। কিন্তু হালান্ড নরওয়েকে বেছে নিয়েছেন। তিনিই নরওয়ের ৫৫ লাখ মানুষের আশা ভরসার প্রতীক।

ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, ‘এটা অবশ্যই চাপ আমার উপর, কিন্তু আমি এটিকে উপভোগ করি।’

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলটির কোচ স্টালে সোলবাকেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার সম্পর্কে বলেন, ‘অন্য খেলোয়াড়রা জানে হালান্ড আমার দলের ফলাফল নির্ধারণকারী ফুটবলার। তাই আমাদের উচিত তাকে সঠিক জায়গায় খেলানো যাতে সে গোল করে আমাদেরকে সহায়তা করতে পারে। সে আমাদের দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং আমার দৃষ্টিতে সে বর্তমান সময়ের সেরা ফিনিশারও।’

গ্রুপ ‘আই’-তে নরওয়েকে বেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলতে হবে। ফ্রান্স ও আফ্রিকান সেনেগালও এই গ্রুপে রয়েছে। কোচ বলেন, ‘আমরা খুব কঠিন গ্রুপে পড়েছি, ধরতে গেলে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ। তাই ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

আরআর/এমএমআর

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেকে সাড়া জাগানো ফুটবলার ভোজিনহাই!

নরওয়ে যখন শেষবার বিশ্বকাপ খেলে, হালান্ডের জন্মও হয়নি

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নরওয়ে শেষবার যখন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল, তখন আরলিং হালান্ডের জন্মও হয়নি। ২৫ বছর বয়সী এই দীর্ঘকায় স্ট্রাইকার এবার নরওয়েকে বিশ্বকাপে টেনে নিয়ে এসেছেন। নরওয়ের বর্তমান প্রজন্মকে ধরা হয় তাদের সেরা ফুটবল প্রজন্ম। আর সেই প্রজন্মের প্রধান কাণ্ডারি হালান্ড। গোলের পর গোল করে সমর্থকদের মাতিয়ে রেখেছেন গেল কয়েক বছর। এবার তার সামনে বিশ্বকাপে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার পালা।

২০০০ সালে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারের জাতীয় দলের হয়ে গোলের পাল্লাটাও বেশ ভারি। ৫০ ম্যাচে তিনি করেছেন ৫৫ গোল। মানে প্রতি ম্যাচে অন্তত এক গোল করেছেন তিনি। তাই ইরাকের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে দল।

নরওয়ের ক্লাব ব্রায়ানে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে আরেক ক্লাব মলদেতে যোগ দেন। এরপর পাড়ি জমান অস্ট্রিয়ার ক্লাব সালজবুর্গে। সেখানে খেলেই তিনি সবার নজরে চলে আসেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে ২৮টি গোল করেন যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে করেন ১০টি গোল। এরপর যখন জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যান সেখানেও তিনি সবার মধ্যমণি হয়ে ছিলেন।

ডর্টমুন্ডের হয়ে দুই মৌসুমে ৭০ গোল করার পাশাপাশি করেছেন ১৭টি এসিস্ট যা তাকে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজরে নিয়ে আসে। আর সবাইকে তাক লাগিয়ে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি তাকে ৬৩ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনে নেয়।

ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েই যেন নিজের আসল পারফরম্যান্স দেখাতে শুরু করেন। সিটির হয়ে ১৯৮ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৬২টি গোল। প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে দ্রুততম ফুটবলার যিনি ১০০ গোল করেছেন। জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগও।

গেল মৌসুমেই তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ২৭ গোল করে। ইংল্যান্ডের লিডসে জন্ম নেন, কারণ তার বাবা আলফি হালান্ড পেশাদার ফুটবল খেলেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। কিন্তু হালান্ড নরওয়েকে বেছে নিয়েছেন। তিনিই নরওয়ের ৫৫ লাখ মানুষের আশা ভরসার প্রতীক।

ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, ‘এটা অবশ্যই চাপ আমার উপর, কিন্তু আমি এটিকে উপভোগ করি।’

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলটির কোচ স্টালে সোলবাকেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার সম্পর্কে বলেন, ‘অন্য খেলোয়াড়রা জানে হালান্ড আমার দলের ফলাফল নির্ধারণকারী ফুটবলার। তাই আমাদের উচিত তাকে সঠিক জায়গায় খেলানো যাতে সে গোল করে আমাদেরকে সহায়তা করতে পারে। সে আমাদের দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং আমার দৃষ্টিতে সে বর্তমান সময়ের সেরা ফিনিশারও।’

গ্রুপ ‘আই’-তে নরওয়েকে বেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলতে হবে। ফ্রান্স ও আফ্রিকান সেনেগালও এই গ্রুপে রয়েছে। কোচ বলেন, ‘আমরা খুব কঠিন গ্রুপে পড়েছি, ধরতে গেলে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ। তাই ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

আরআর/এমএমআর