১০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাল কার্ডের রেকর্ডে ব্রাজিল, বিশ্বকাপে কার কত?

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • 2

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই স্মরণীয় গোল, শিরোপা জয়ের উল্লাস আর ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তবে এই টুর্নামেন্টের আরেকটি ইতিহাস গড়ে উঠেছে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও লাল কার্ডকে ঘিরে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা দল ব্রাজিল, যাদের খেলোয়াড়রা এখন পর্যন্ত মোট ১১ বার মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

ব্রাজিলের পরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা, যাদের লাল কার্ডের সংখ্যা ১০। উরুগুয়ে ও ক্যামেরুন যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে, দুই দলেরই রয়েছে ৯টি করে লাল কার্ড। এরপর জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস—এই তিন ইউরোপীয় পরাশক্তির প্রত্যেকের খেলোয়াড় বিশ্বকাপে ৮ বার করে লাল কার্ড দেখেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, সাফল্যের পাশাপাশি বড় দলগুলোকেও বারবার শৃঙ্খলাভঙ্গের মূল্য দিতে হয়েছে।

বিশ্বকাপে তুরস্কের লাল কার্ডের ইতিহাস খুব বড় না হলেও তা বেশ স্মরণীয়। দেশটির দুটি লাল কার্ডই এসেছিল ২০০২ বিশ্বকাপের একই ম্যাচে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে আলপাই ওজালান ও হাকান উনসাল—দুজনকেই লাল কার্ড দেখান রেফারি। নাটকীয় সেই ম্যাচটি তুরস্কের দুর্দান্ত বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে রেফারিরা মোট ১৭৭টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি কঠোর হয়েছে রেফারিংও।

লাল কার্ডের বিচারে সবচেয়ে উত্তপ্ত বিশ্বকাপ ছিল ২০০৬ সালের জার্মানি আসর। সেই টুর্নামেন্টে রেকর্ড ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল একটি লাল কার্ডও ছাড়াই। তখনকার ফুটবলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ধরন ছিল বর্তমান সময়ের চেয়ে ভিন্ন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে। এই ব্যবস্থা রেফারিদের জন্য শাস্তির বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও মানসম্মত করে তোলে। তবে অবাক করার বিষয়, যে বিশ্বকাপে এই নিয়ম চালু হয়েছিল, সেই ১৯৭০ আসরে কোনো ফুটবলারই লাল কার্ড দেখেননি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে লাল কার্ডের নতুন যুগের সূচনা হয় চার বছর পর। ১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপে ইতিহাসের প্রথম লাল কার্ড দেখান তুরস্কের রেফারি দোগান বাবাজান। বার্লিনে পশ্চিম জার্মানি ও চিলির গ্রুপ ম্যাচে ৬৭তম মিনিটে চিলির ফরোয়ার্ড কার্লোস কাসেলিকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন তিনি। বিশ্বকাপে নতুন শাস্তি ব্যবস্থার প্রথম প্রয়োগ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ আবার শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্যই স্মরণীয় হয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ২০০৬ সালের শেষ ষোলোর পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। রুশ রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানভ সেই ম্যাচে মোট চারটি লাল কার্ড দেখান, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। পর্তুগালের কস্তিনিয়া ও ডেকো এবং নেদারল্যান্ডসের খালিদ বুলাহরুজ ও জিওভান্নি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মানিশের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল পর্তুগাল, কিন্তু ম্যাচটি বেশি মনে রাখা হয় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার জন্য।

বিশ্বকাপের ফাইনালও লাল কার্ডের ঘটনা থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। যদিও অধিকাংশ ফাইনালই ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ, তবে প্রথম লাল কার্ড দেখা যায় ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালে। রোমে পশ্চিম জার্মানি ও আর্জেন্টিনার সেই ম্যাচে ৬৫তম মিনিটে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার পেদ্রো মনসন লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচের শেষদিকে গুস্তাভো দেজোত্তিও বহিষ্কৃত হলে নয়জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ৮৫তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টির গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা জেতে পশ্চিম জার্মানি।

এসকেডি/এএসএম

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ফল রপ্তানিতে চাঙা হচ্ছে আফগানিস্তানের অর্থনীতি, ডালিম-আঙুরে বাজিমাত

লাল কার্ডের রেকর্ডে ব্রাজিল, বিশ্বকাপে কার কত?

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই স্মরণীয় গোল, শিরোপা জয়ের উল্লাস আর ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তবে এই টুর্নামেন্টের আরেকটি ইতিহাস গড়ে উঠেছে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও লাল কার্ডকে ঘিরে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা দল ব্রাজিল, যাদের খেলোয়াড়রা এখন পর্যন্ত মোট ১১ বার মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

ব্রাজিলের পরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা, যাদের লাল কার্ডের সংখ্যা ১০। উরুগুয়ে ও ক্যামেরুন যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে, দুই দলেরই রয়েছে ৯টি করে লাল কার্ড। এরপর জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস—এই তিন ইউরোপীয় পরাশক্তির প্রত্যেকের খেলোয়াড় বিশ্বকাপে ৮ বার করে লাল কার্ড দেখেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, সাফল্যের পাশাপাশি বড় দলগুলোকেও বারবার শৃঙ্খলাভঙ্গের মূল্য দিতে হয়েছে।

বিশ্বকাপে তুরস্কের লাল কার্ডের ইতিহাস খুব বড় না হলেও তা বেশ স্মরণীয়। দেশটির দুটি লাল কার্ডই এসেছিল ২০০২ বিশ্বকাপের একই ম্যাচে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে আলপাই ওজালান ও হাকান উনসাল—দুজনকেই লাল কার্ড দেখান রেফারি। নাটকীয় সেই ম্যাচটি তুরস্কের দুর্দান্ত বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে রেফারিরা মোট ১৭৭টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি কঠোর হয়েছে রেফারিংও।

লাল কার্ডের বিচারে সবচেয়ে উত্তপ্ত বিশ্বকাপ ছিল ২০০৬ সালের জার্মানি আসর। সেই টুর্নামেন্টে রেকর্ড ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল একটি লাল কার্ডও ছাড়াই। তখনকার ফুটবলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ধরন ছিল বর্তমান সময়ের চেয়ে ভিন্ন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে। এই ব্যবস্থা রেফারিদের জন্য শাস্তির বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও মানসম্মত করে তোলে। তবে অবাক করার বিষয়, যে বিশ্বকাপে এই নিয়ম চালু হয়েছিল, সেই ১৯৭০ আসরে কোনো ফুটবলারই লাল কার্ড দেখেননি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে লাল কার্ডের নতুন যুগের সূচনা হয় চার বছর পর। ১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপে ইতিহাসের প্রথম লাল কার্ড দেখান তুরস্কের রেফারি দোগান বাবাজান। বার্লিনে পশ্চিম জার্মানি ও চিলির গ্রুপ ম্যাচে ৬৭তম মিনিটে চিলির ফরোয়ার্ড কার্লোস কাসেলিকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন তিনি। বিশ্বকাপে নতুন শাস্তি ব্যবস্থার প্রথম প্রয়োগ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ আবার শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্যই স্মরণীয় হয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ২০০৬ সালের শেষ ষোলোর পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। রুশ রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানভ সেই ম্যাচে মোট চারটি লাল কার্ড দেখান, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। পর্তুগালের কস্তিনিয়া ও ডেকো এবং নেদারল্যান্ডসের খালিদ বুলাহরুজ ও জিওভান্নি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মানিশের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল পর্তুগাল, কিন্তু ম্যাচটি বেশি মনে রাখা হয় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার জন্য।

বিশ্বকাপের ফাইনালও লাল কার্ডের ঘটনা থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। যদিও অধিকাংশ ফাইনালই ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ, তবে প্রথম লাল কার্ড দেখা যায় ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালে। রোমে পশ্চিম জার্মানি ও আর্জেন্টিনার সেই ম্যাচে ৬৫তম মিনিটে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার পেদ্রো মনসন লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচের শেষদিকে গুস্তাভো দেজোত্তিও বহিষ্কৃত হলে নয়জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ৮৫তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টির গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা জেতে পশ্চিম জার্মানি।

এসকেডি/এএসএম