০২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইনফ্যান্তিনোর আচরণ ফিফার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে’

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • 2

২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর হাত থেকে উদ্বোধনী ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ গ্রহণ করেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয় ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়া নিয়ে। কেননা, এই পুরস্কারের বিষয়ে কেউই তেমন কিছু জানতেন না। অন্যদিকে এমন সময়ে পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছিল যখন ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনিতে হামলা চালাচ্ছিল।

এই পুরস্কার দেওয়া নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি ফিফার নিজস্ব রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।

মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’-এর হাতে আসা এক চিঠিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার-এর দায়ের করা অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানান। ওই অভিযোগে ফিফার নৈতিকতা (এথিকস) কমিটিকে অনুরোধ করা হয়েছে, প্রতি বছর ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ চালু করার সিদ্ধান্ত এবং সেই প্রথম পুরস্কার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ইনফ্যান্তিনোর প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি পক্ষপাতমূলক ছিল, যা ফিফার সংবিধানের সেই নীতির পরিপন্থী, যেখানে বলা হয়েছে, ফিফা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকবে।

রিনিউ ইউরোপ-এর এমইপি ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, যিনি ওই চিঠির লেখক তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পুরো বিশ্বকে একত্রিত করা। কিন্তু ইনফ্যান্তিনোর আচরণ ফিফার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনো একজন প্রেসিডেন্টকে অন্যজনের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন, তখন তা শুধু ফিফার নয়, পুরো টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ইনফ্যান্তিনোর হাত থেকে উদ্বোধনী ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ গ্রহণ করেন ট্রাম্প। এর মাত্র তিন দিন পরই ফেয়ারস্কয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। তাদের দাবি, পুরস্কারটি চালু করার আগে ইনফ্যান্তিনো ফিফা কাউন্সিলকে অবহিত করেননি এবং এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনুকম্পা অর্জনের একটি প্রচেষ্টা।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এই গ্রীষ্মে যখন পুরো বিশ্বের নজর ফিফার দিকে, তখন ফেয়ারস্কয়ারের নৈতিকতা-সংক্রান্ত অভিযোগের যথাযথ জবাব দেওয়া সংগঠনটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিযোগ ফিফার জন্য রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রমাণের একটি সুযোগ।’

ফিফা জানিয়েছে, তারা গত ডিসেম্বরেই অভিযোগটি গ্রহণ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের চিঠি কিংবা পলিটিকো-এর মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি। এটি প্রথমবার নয় যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা ফিফার সমালোচনা করেছেন।

এর আগে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব সৌদি আরবকে দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও তারা সমালোচনা করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবকে আয়োজক নির্বাচনের মাধ্যমে ফিফা নিজেদের ঘোষিত নীতিমালাকেই দুর্বল করেছে।

আরআর/এমএমআর

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

প্রথমার্ধে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে নরওয়ে

‘ইনফ্যান্তিনোর আচরণ ফিফার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে’

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর হাত থেকে উদ্বোধনী ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ গ্রহণ করেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয় ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়া নিয়ে। কেননা, এই পুরস্কারের বিষয়ে কেউই তেমন কিছু জানতেন না। অন্যদিকে এমন সময়ে পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছিল যখন ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনিতে হামলা চালাচ্ছিল।

এই পুরস্কার দেওয়া নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি ফিফার নিজস্ব রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।

মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’-এর হাতে আসা এক চিঠিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার-এর দায়ের করা অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানান। ওই অভিযোগে ফিফার নৈতিকতা (এথিকস) কমিটিকে অনুরোধ করা হয়েছে, প্রতি বছর ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ চালু করার সিদ্ধান্ত এবং সেই প্রথম পুরস্কার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ইনফ্যান্তিনোর প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি পক্ষপাতমূলক ছিল, যা ফিফার সংবিধানের সেই নীতির পরিপন্থী, যেখানে বলা হয়েছে, ফিফা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকবে।

রিনিউ ইউরোপ-এর এমইপি ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, যিনি ওই চিঠির লেখক তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পুরো বিশ্বকে একত্রিত করা। কিন্তু ইনফ্যান্তিনোর আচরণ ফিফার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনো একজন প্রেসিডেন্টকে অন্যজনের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন, তখন তা শুধু ফিফার নয়, পুরো টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ইনফ্যান্তিনোর হাত থেকে উদ্বোধনী ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ গ্রহণ করেন ট্রাম্প। এর মাত্র তিন দিন পরই ফেয়ারস্কয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। তাদের দাবি, পুরস্কারটি চালু করার আগে ইনফ্যান্তিনো ফিফা কাউন্সিলকে অবহিত করেননি এবং এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনুকম্পা অর্জনের একটি প্রচেষ্টা।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এই গ্রীষ্মে যখন পুরো বিশ্বের নজর ফিফার দিকে, তখন ফেয়ারস্কয়ারের নৈতিকতা-সংক্রান্ত অভিযোগের যথাযথ জবাব দেওয়া সংগঠনটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিযোগ ফিফার জন্য রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রমাণের একটি সুযোগ।’

ফিফা জানিয়েছে, তারা গত ডিসেম্বরেই অভিযোগটি গ্রহণ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের চিঠি কিংবা পলিটিকো-এর মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি। এটি প্রথমবার নয় যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা ফিফার সমালোচনা করেছেন।

এর আগে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব সৌদি আরবকে দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও তারা সমালোচনা করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবকে আয়োজক নির্বাচনের মাধ্যমে ফিফা নিজেদের ঘোষিত নীতিমালাকেই দুর্বল করেছে।

আরআর/এমএমআর