বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্সের পাশাপাশি ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হলেও পাচারকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে কিছু সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং কিছু অর্থও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ চুরি বা পাচার হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিকভাবে কোনো তারল্য সংকট নেই। তবে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক তারল্য সমস্যায় রয়েছে, যেগুলো আগে থেকেই সমস্যাগ্রস্ত ছিল। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আগের সরকারের নেওয়া একটি বিশেষ স্কিমের আওতায় বর্তমানে এসব ব্যাংকের পেমেন্ট ও লেনদেন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
করদাতাদের অর্থ দিয়ে ব্যাংক খাতের ক্ষতি পূরণ করা কতটা যৌক্তিক, সেটি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। রিকশাচালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের করের টাকা এনে ব্যাংকের পেছনে ৫ লাখ কোটি টাকা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
ঋণ মওকুফ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, একটি গ্রিন ফ্যাক্টরির বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে কিছুটা দেরি হওয়া আর খেলাপি হওয়া এক বিষয় নয়। কোভিড পরিস্থিতি ও সুদের হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ থেকে ১১ শতাংশ হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের পেমেন্টে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে তারা কোনো ঋণ মওকুফ চায়নি এবং ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে।
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমে একটি টাস্কফোর্স ও ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের অর্থ উদ্ধারের সাফল্যের হার ২ শতাংশেরও কম এবং এতে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। তবে অর্থ পাচারকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গভর্নর জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে পাচারকারীদের কিছু সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং কিছু অর্থ উদ্ধারও সম্ভব হয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে দেশে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন করা যাবে। ভারতের মতো বাংলাদেশেও ফুটপাত থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন চালু হলে কাগুজে নোটের ব্যবহার অনেক কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের তারল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মানুষ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে টাকা রাখতে পারেন।
বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, অর্থ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
ইএআর/এমএএইচ/
এডমিন 















