জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা কিংবা দলে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে থাকা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এই ম্যাচটি ছিল নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ। তবে ব্যাট হাতে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বলতে গেলে কেউই। একমাত্র জাকের আলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তার ৬১ রানের ইনিংস বাংলাদেশ ইমার্জিং দলকে বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি।
দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ ইমার্জিং। বৃষ্টির কারণে খেলার সময় নষ্ট হওয়ায় ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে।
আগের দিন ম্যাথু ক্যাম্পবেলের সেঞ্চুরির পর তৃতীয় দিন শতরান পূর্ণ করেন আন্তুম নাকভি। তার সেঞ্চুরির সুবাদে ৮ উইকেটে ৩৫৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে জিম্বাবুয়ে ‘এ’। জবাবে দিন শেষে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২০০ রান।
বাংলাদেশের প্রথম আট ব্যাটারের মধ্যে সাতজন দুই অঙ্কে পৌঁছালেও কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। একমাত্র জাকের ফিফটি তুলে নেন, তবে ৬১ রানেই থেমে যায় তার লড়াই।
৬ উইকেটে ২৮৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দ্রুতই সপ্তম উইকেট হারায়। দ্বিতীয় নতুন বলে দিনের তৃতীয় ওভারেই ভিনসেন্ট মাসেকেসাকে বোল্ড করেন এনামুল হক।
তবে ৫৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা নাকভি সহজে থামেননি। মাইকেল ফ্রস্টকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। ফ্রস্ট ২৪ রান করে মুশফিক হাসানের বলে বোল্ড হলেও নাকভি নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন দাপটের সঙ্গে। বাঁহাতি স্পিনার আশরাফুল হাসান রোহানকে লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ৯৪ থেকে তিন অঙ্কে পৌঁছান তিনি। সেঞ্চুরির পর তার উচ্ছ্বসিত উদযাপনও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারেই টিনোটেন্ডা মাপোসার অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন শাহাদাত হোসেন। ১৩ বলে চারটি চারে ১৬ রান করেন তিনি।
তিন নম্বরে নেমে একই ধরনের ভুলে আউট হন ইফতিখার হোসেন ইফতি। মাপোসার বাইরের বলে গালিতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।
প্রিতম কুমার কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে শুরু করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাপোসার ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে করেন ১৭ রান।
অন্য প্রান্তে ধৈর্য ধরে ব্যাট করছিলেন আশিকুর রহমান শিবলি। কিন্তু ভিনসেন্ট মাসেকেসার লেগ স্পিনে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৮৯ বল মোকাবিলা করে ৩৮ রান করেন এই ওপেনার।
বাংলাদেশের হয়ে ১০৮টি সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আফিফ হোসেন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। তবে মাসেকেসার টার্নিং ডেলিভারি ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লিউ হন ১৬ রানে। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা।
জাকের আলির সঙ্গে জুটি গড়ার বদলে বড় শট খেলতে গিয়ে নাকভির স্পিনে আউট হন আশরাফুল হাসান রোহান।
এরপর জাকের আলি ও এনামুল হক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সেটি দীর্ঘ হয়নি। ৬১ রান করা জাকের মাসেকেসার লেগ স্পিনে স্লিপে তারিসাই মুসাকান্দার দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন।
অল্প সময়ের ব্যবধানে মুশফিক হাসানকেও বোল্ড করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন মাসেকেসা। গত বছর চট্টগ্রামে টেস্ট অভিষেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়া এই স্পিনার আবারও কার্যকর বোলিং উপহার দিলেন।
দিনের বাকি সময় উইকেট না হারিয়ে কাটিয়ে দেন এনামুল হক ও নাঈম আহমেদ। এনামুল ৬৭ বলে অপরাজিত ২৩ রান করেন, তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা।
এসকেডি/আইএন
এডমিন 










