টাঙ্গাইল জেলার শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে গত ১৪ এপ্রিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার প্রান্তিক কৃষক কবির হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণ করেন এবং এ উপলক্ষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। কিন্তু ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণের পর থেকেই তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ডিপফেইক ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক তথ্য প্রচার শুরু হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ কৃষি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।
মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়েদুর রহমান মন্ডলের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে এক কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকও এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন ধাপে যাচাই-বাছাই করে যথাযথভাবে কৃষক নির্ধারণ করা হয়েছে—উভয় কমিটির তদন্তে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দুটিতে টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ কৃষি ব্লকের অন্তর্গত উত্তর তারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন (পিতা: মো. আবু সাইদ তালুকদার) একজন প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষি হিসেবে প্রমাণিত হন। তার নিজস্ব জমির পরিমাণ ১৩ শতাংশ এবং চলতি বছর তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেছেন।
কবির হোসেন একজন প্রকৃত কৃষক এবং সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই তিনি ‘কৃষক কার্ড’ পেয়েছেন বলে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত করেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় মনে করে, সরকারের উন্নয়নমূলক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমকে ব্যাহত করার হীন উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার চালিয়েছে। এ বিষয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এনএইচ/কেএএ/
এডমিন 










