০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডা. সুষমা-কুশাল দম্পতির বিচ্ছেদ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • 2

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দম্পতি সুষমা রেজা ও সাইদুল আশরাফ কুশাল দীর্ঘ ২০ বছরের বৈবাহিক জীবনের ইতি টেনেছেন।

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা তার স্বামী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুশালের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের কথা জানান। ৭টা ১১ মিনিটে একই পোস্ট দিয়েছেন ডা. কুশাল।

ফেসবুক দেওয়া ওই পোস্টে কুশালকে ট্যাগ করে সুষমা রেজা লিখেছেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে, দীর্ঘ আত্মসমালোচনার পর আমরা দুজন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের কথাই আপনাদের জানাচ্ছি।’

ডা. সুষমা ও কুশাল মানসিক স্বাস্থ্য ও সঠিক লাইফ স্টাইলের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তারা দুজনে মিলে ‘লাইফ স্প্রিং’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক কাজ পরিচালনা করতেন। নিজেদের জীবনের নানা সংগ্রামের গল্প সুন্দরভাবে তুলে ধরার কারণে নেটিজেনরা তাদেরকে ‘আইডিয়াল কাপল’ হিসেবেও গ্রহণ করেন।

ফেসবুক পোস্টে সুষমা লিখেছেন, ‘এতদিন ধরে যারা আমাদের ভালোবেসেছেন, আমাদের পথচলার সঙ্গী হয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই এই সংবাদটি কষ্ট, বিস্ময় কিংবা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে—সেটা আমরা বুঝি। সেই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতি সম্মান রেখেই আমরা চেয়েছি, খবরটি অন্য কোথাও থেকে নয়, আমাদের দুজনের কাছ থেকেই আপনারা শুনুন। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আমরা আপনাদের দোয়া কামনা করছি।’

খুব অল্প বয়সে একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. সুষমা রেজা লিখেছেন, ‘দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা একটি পরিবার গড়েছি, আমাদের সন্তানদের বড় হতে দেখেছি আর জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতি একসঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেছি। সেই স্মৃতিগুলো আমাদের জীবনের অমূল্য অংশ হয়ে থাকবে সবসময়।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুজনই উপলব্ধি করেছি, আমাদের সম্পর্ক সেই জায়গাটিতে নেই যেখান থেকে আমরা শুরু করেছিলাম। সময়ের সাথে সাথে আমরা বদলেছি, সম্পর্কটাও বদলেছে। একটা সময় পরিবর্তনগুলো দেখে আমরা বুঝতে পেরেছি, জীবনের এই পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই আমাদের দুজনের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।’

ডা. সুষমা আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতোই আমাদের সম্পর্কেও ছিল আনন্দ, ছিল সংগ্রাম, ছিল সীমাবদ্ধতা, আবার ছিল অসংখ্য আশীর্বাদও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনারা আমাদের জীবনের যে মুহূর্তগুলো দেখেছেন, সেগুলো কখনোই একটি নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা ছিল না। ওগুলো ছিল আমাদের জীবনের সত্যিকারের কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমরা আন্তরিকভাবে বেঁচেছি, ভালোবেসেছি এবং আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী যেভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করেছেন—সেজন্য আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।’

সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘বিদায়ের আগে, আমাদের নিজেদের জীবন থেকেই শেখা একটি ছোট্ট কথা রেখে যেতে চাই—নিজের পরিবারকে সময় দিন। প্রিয় মানুষগুলোর হাত শক্ত করে ধরে রাখুন। জীবন খুবই ভঙ্গুর। আজকের একেবারে সাধারণ, নীরব মুহূর্তগুলোই কখন যে আগামী দিনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিতে পরিণত হয়, আমরা অনেক সময় তা বুঝতেই পারি না। তাই প্রতিটি মুহূর্ত বাঁচুন সচেতনভাবে, কৃতজ্ঞতায় এবং আন্তরিকতায়।’

এসআর

 

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ডা. সুষমা-কুশাল দম্পতির বিচ্ছেদ

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দম্পতি সুষমা রেজা ও সাইদুল আশরাফ কুশাল দীর্ঘ ২০ বছরের বৈবাহিক জীবনের ইতি টেনেছেন।

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা তার স্বামী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুশালের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের কথা জানান। ৭টা ১১ মিনিটে একই পোস্ট দিয়েছেন ডা. কুশাল।

ফেসবুক দেওয়া ওই পোস্টে কুশালকে ট্যাগ করে সুষমা রেজা লিখেছেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে, দীর্ঘ আত্মসমালোচনার পর আমরা দুজন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের কথাই আপনাদের জানাচ্ছি।’

ডা. সুষমা ও কুশাল মানসিক স্বাস্থ্য ও সঠিক লাইফ স্টাইলের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তারা দুজনে মিলে ‘লাইফ স্প্রিং’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক কাজ পরিচালনা করতেন। নিজেদের জীবনের নানা সংগ্রামের গল্প সুন্দরভাবে তুলে ধরার কারণে নেটিজেনরা তাদেরকে ‘আইডিয়াল কাপল’ হিসেবেও গ্রহণ করেন।

ফেসবুক পোস্টে সুষমা লিখেছেন, ‘এতদিন ধরে যারা আমাদের ভালোবেসেছেন, আমাদের পথচলার সঙ্গী হয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই এই সংবাদটি কষ্ট, বিস্ময় কিংবা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে—সেটা আমরা বুঝি। সেই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতি সম্মান রেখেই আমরা চেয়েছি, খবরটি অন্য কোথাও থেকে নয়, আমাদের দুজনের কাছ থেকেই আপনারা শুনুন। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আমরা আপনাদের দোয়া কামনা করছি।’

খুব অল্প বয়সে একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. সুষমা রেজা লিখেছেন, ‘দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা একটি পরিবার গড়েছি, আমাদের সন্তানদের বড় হতে দেখেছি আর জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতি একসঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেছি। সেই স্মৃতিগুলো আমাদের জীবনের অমূল্য অংশ হয়ে থাকবে সবসময়।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুজনই উপলব্ধি করেছি, আমাদের সম্পর্ক সেই জায়গাটিতে নেই যেখান থেকে আমরা শুরু করেছিলাম। সময়ের সাথে সাথে আমরা বদলেছি, সম্পর্কটাও বদলেছে। একটা সময় পরিবর্তনগুলো দেখে আমরা বুঝতে পেরেছি, জীবনের এই পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই আমাদের দুজনের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।’

ডা. সুষমা আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতোই আমাদের সম্পর্কেও ছিল আনন্দ, ছিল সংগ্রাম, ছিল সীমাবদ্ধতা, আবার ছিল অসংখ্য আশীর্বাদও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনারা আমাদের জীবনের যে মুহূর্তগুলো দেখেছেন, সেগুলো কখনোই একটি নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা ছিল না। ওগুলো ছিল আমাদের জীবনের সত্যিকারের কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমরা আন্তরিকভাবে বেঁচেছি, ভালোবেসেছি এবং আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী যেভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করেছেন—সেজন্য আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।’

সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘বিদায়ের আগে, আমাদের নিজেদের জীবন থেকেই শেখা একটি ছোট্ট কথা রেখে যেতে চাই—নিজের পরিবারকে সময় দিন। প্রিয় মানুষগুলোর হাত শক্ত করে ধরে রাখুন। জীবন খুবই ভঙ্গুর। আজকের একেবারে সাধারণ, নীরব মুহূর্তগুলোই কখন যে আগামী দিনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিতে পরিণত হয়, আমরা অনেক সময় তা বুঝতেই পারি না। তাই প্রতিটি মুহূর্ত বাঁচুন সচেতনভাবে, কৃতজ্ঞতায় এবং আন্তরিকতায়।’

এসআর