১২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাস্তা শেষে শিশুকে রেখেই কক্সবাজারের পথে পাকিস্তানি পরিবার

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • 5

বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে অসাবধানতাবশত দুই বছরের এক শিশুকে কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে রেখেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয় পাকিস্তানি একটি পরিবার। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছানোর পর শিশুটির নিখোঁজের বিষয়টি টের পান তারা। পরে প্রশাসনের সহায়তায় বিকেল ৩টার দিকে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তাফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে শুনেছিলাম শিশুটির পরিবার কাশ্মীরের। কিন্তু পরিবারের লোকজন শিশুটিকে নিতে এলে জানতে পারলাম তারা পাকিস্তানি। পাকিস্তান থেকে পরিবারের সদস্যরা এসেছেন বাংলাদেশে ঘুরতে। শনিবার দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন তারা। সকালে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেন। নাস্তা শেষ করে পাকিস্তানি পরিবারটি দুটি গাড়িযোগে যাচ্ছিলেন। একটিতে শিশুর বাবা-মা এবং অপরটিতে শিশুর দাদা-দাদি ছিলেন। বাবা-মায়ের ধারণা ছিল দাদা-দাদির গাড়িতে শিশু নাফিসা এবং দাদা-দাদির ধারণা ছিল শিশু নাফিসা তার বাবা-মায়ের গাড়িতে উঠেছে। উভয়ের ভুলে পাকিস্তানি শিশু নাফিসা হোটেল জাইতুনে রয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় গিয়ে শিশু নাফিসাকে দেখতে না পেয়ে কুমিল্লার দিকে রওনা দেয় পাকিস্তানি পরিবারটি। পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিস সেই পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করলে তারা জাইতুন রেস্টুরেন্টে এসে বিকেল ৩টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে পুনরায় কক্সবাজারের দিকে রওনা দেন।

জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, পরিবারটি চলে যাওয়ার পর তারা শিশুটিকে রেস্টুরেন্টে একা দেখতে পান। পরে দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সমাজসেবা অফিসের সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে/এমএস

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

নাস্তা শেষে শিশুকে রেখেই কক্সবাজারের পথে পাকিস্তানি পরিবার

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে অসাবধানতাবশত দুই বছরের এক শিশুকে কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে রেখেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয় পাকিস্তানি একটি পরিবার। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছানোর পর শিশুটির নিখোঁজের বিষয়টি টের পান তারা। পরে প্রশাসনের সহায়তায় বিকেল ৩টার দিকে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তাফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে শুনেছিলাম শিশুটির পরিবার কাশ্মীরের। কিন্তু পরিবারের লোকজন শিশুটিকে নিতে এলে জানতে পারলাম তারা পাকিস্তানি। পাকিস্তান থেকে পরিবারের সদস্যরা এসেছেন বাংলাদেশে ঘুরতে। শনিবার দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন তারা। সকালে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেন। নাস্তা শেষ করে পাকিস্তানি পরিবারটি দুটি গাড়িযোগে যাচ্ছিলেন। একটিতে শিশুর বাবা-মা এবং অপরটিতে শিশুর দাদা-দাদি ছিলেন। বাবা-মায়ের ধারণা ছিল দাদা-দাদির গাড়িতে শিশু নাফিসা এবং দাদা-দাদির ধারণা ছিল শিশু নাফিসা তার বাবা-মায়ের গাড়িতে উঠেছে। উভয়ের ভুলে পাকিস্তানি শিশু নাফিসা হোটেল জাইতুনে রয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় গিয়ে শিশু নাফিসাকে দেখতে না পেয়ে কুমিল্লার দিকে রওনা দেয় পাকিস্তানি পরিবারটি। পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিস সেই পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করলে তারা জাইতুন রেস্টুরেন্টে এসে বিকেল ৩টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে পুনরায় কক্সবাজারের দিকে রওনা দেন।

জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, পরিবারটি চলে যাওয়ার পর তারা শিশুটিকে রেস্টুরেন্টে একা দেখতে পান। পরে দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সমাজসেবা অফিসের সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে/এমএস