রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির র্যাম্প ভেঙে বাস নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি।
বুধবার (১৭ জুন) রাতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে।
তদন্ত প্রতিবেদনে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটির ভিন্ন রুট ব্যবহার, যান্ত্রিক ত্রুটি, ফিটনেস না থাকাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ফেরিঘাটের আধুনিকায়ন, অ্যাপ্রোচ সড়কের উন্নয়ন, ঘাট ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, এআই প্রযুক্তি নির্ভর ঘাট ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে জানান, গত ১১ জুন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয় এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। বাসটি ভিন্ন রুট ব্যবহার, যান্ত্রিক ত্রুটি, ফিটনেস না থাকাসহ বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনারোধে ফেরিঘাটের আধুনিকায়ন, অ্যাপ্রোচ সড়কের উন্নয়ন, ঘাট ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, এআই প্রযুক্তি নির্ভর ঘাট ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত ৫ জুন মেহেরপুরের গাংনী থেকে প্রায় ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে ‘এসবি সুপার ডিল্যাক্স’ এর যাত্রীবাহী বাসটি। এ দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সব যাত্রীকে নামিয়ে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে অবস্থানরত ‘করবী’ ফেরিতে ওঠার পস্তুতি নেয়। তবে পন্টুনে ওঠার আগে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে ফেরিতে উঠে অপর প্রান্তের র্যাম্প ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এসময় চালকের সহকারী লাফ দিয়ে নেমে যান। পরে নদী থেকে উদ্ধারকৃত চালকসহ আহতদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়।
এর আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে ডুবে যায় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাস। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
রুবেলুর রহমান/এনএইচআর/এএসএম
এডমিন 










