চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে অভিযুক্ত যুবক মো. মনিরকে আটক করে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে চাইলে শত শত ক্ষুব্ধ মানুষ তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে বলেন, ধর্ষককে আমাদের হাতে দেন, আমরা মেরে ফেলব। বাংলাদেশের আইনে ধর্ষকের বিচার হয় না।
পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডের বিসমিল্লাহ ম্যানশন ভবনে দুপুরের দিকে তিন বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত মনিরকে আটক করেন। পরে তাকে একটি মাদরাসার গেটের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনতা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এক বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা চিৎকার করে বলেন, আপনারা নিলেই ছাড়েন, বিচার হয় না। তাকে আমাদের হাতে দেন।
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, উত্তেজনায় থমথমে এলাকা
পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে জনতা বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তি ও ঠেলাঠেলির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ ও জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাইকিং করে বারবার ঘোষণা দেন, বিচার আইনের মাধ্যমে হবে। কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল ফজল বলেন, এমন ঘটনার বিচার দেশে ঠিকমতো হয় না। শাস্তি পায় না অপরাধীরা।
এ ধরনের অবিশ্বাস ও ক্ষোভ থেকেই জনতার উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন।
শিশুর অবস্থা শঙ্কাজনক
এদিকে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলাইমান বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনতার আবেগকে সম্মান করি, কিন্তু তারা যেন আইন নিজের হাতে না নেয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, ক্ষুব্ধ জনতা কিছুতেই অভিযুক্তকে নিয়ে যেতে দিচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা জনতাকে বুঝানোর চেষ্টা করছি।
এমআরএএইচ/জেএইচ
এডমিন 


















