আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার মহোৎসব। পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরেই সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পেরে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই বিপুল পরিমাণ ধান জেলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বৈশাখের প্রথম দিনে জেলার অন্তত ২৫টি হাওরে লক্ষাধিক কৃষক সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কাঁচি হাতে মাঠে নামেন। একদিকে পুরুষরা ধান কাটছেন, অন্যদিকে কৃষাণিরা খলায় সেই ধান মাড়াই ও রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তারমধ্যে বৈশাখের প্রথম দিনে এই অঞ্চলের ২৫টি হাওরে লক্ষাধিক কৃষক সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে হাতে কাচি নিয়ে ধান কাটতে মাঠে নামেন।
করচার হাওরের কৃষক জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, কষ্ট করে বোরো ধান রোপণ করেছিলাম। সেই ধান বৈশাখীর প্রথম দিনেই ঘরে তুলতে পারছি। সত্যি অনেক আনন্দ লাগছে।

করচার হাওরের আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, হাওরের ধান ঘরে তুলতে পারলেই কৃষকদের আনন্দ শেষ হয় না। মূলত বৈশাখের প্রথম দিনে কষ্টের ফলানো সোনালী ধান ঘরে তোলার আনন্দটা অন্য রকম।
দেখার হাওরের কৃষক সাজু মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল মনে করেছিলাম, এই বছর ধান ঘরে তুলতে পারব না। কিন্তু অবশেষে আজকে শ্রমিক নিয়ে হাওরের ধান কেটে ঘরে তুলছি।
দেখার হাওরের আরেক কৃষক শাফি মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, হাওরর কৃষকদের স্বপ্ন বুনে এই ধানকে ঘিরে। মূলত এই কষ্টের ফলানো ধান ঘরে তুলতে পারলেই হাসি ফুটে জেলার ১০ লাখ কৃষকের মুখে।
তবে জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোর চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। যেখান থেকে এই বছর ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, হাওরের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা আনন্দের সাথে হাওরের ধান কাটছেন। কৃষি বিভাগও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তবে পুরো হাওর এলাকার ধান ঘরে তুলতে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লাগতে পারে।
লিপসন আহমেদ/কেএইচকে
এডমিন 


















