রাজধানীর মুগদা এলাকায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়ার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় আটক কিশোরী হালিমা আক্তারকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক মিঠু দুজনকে আদালতে হাজির করেন। পরে হেলেনা বেগম স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানালে তার বক্তব্য রেকর্ডের আবেদন করা হয়।
আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন হেলেনার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
অন্যদিকে, হালিমা আক্তার কিশোরী হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করা হয়। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, নিহত মোকাররম মিয়াকে গত ১৩ মে রাতে মুগদার মান্ডা এলাকার একটি বাসায় হত্যা করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে কালো পলিথিনে মুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
পরদিন দুপুরে মুগদা থানার আব্দুল করিম রোড এলাকার একটি ভবনের নিচতলার ফাঁকা জায়গা থেকে পলিথিনে মোড়ানো শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে হেলেনা বেগম ও হালিমা আক্তারকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগরের বালুর মাঠ এলাকা থেকে নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাও উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হেলেনা বেগমের জবানবন্দি রেকর্ড করা প্রয়োজন ছিল। এ ঘটনায় মুগদা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এমডিএএ/এমএমকে
এডমিন 















