০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাস থেকে হজ পালন করলে ফরজ হজ আদায় হবে?

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

প্রশ্ন: প্রবাস থেকে হজ পালন করলে ফরজ হজ আদায় হবে? আমার মূল আবাস বাংলাদেশে, জীবিকা উপার্জনের প্রয়োজনে কুয়েতে থাকি, মাঝে মাঝে দেশে যাই। আমি যদি কুয়েত থেকে সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন করি, তাহলে কি আমার ফরজ হজ আদায় হবে? সৌদি আরব প্রবাসীরা হজ করলে তাদের ফরজ হজ আদায় হবে?

উত্তর: ফরজ হজ আদায় করার জন্য মাতৃভূমি বা নিজের মূল আবাস থেকে সফর করে মক্কায় যাওয়া জরুরি নয়, বরং পৃথিবীর যে কোনো জায়গা থেকে মক্কায় পৌঁছে যথানিয়মে হজ পালন করলেই ফরজ হজ আদায় হয়ে যায়। কেউ যদি কুয়েতে, কাতারে বা সৌদি আরবেও অন্য কোনো কাজের সূত্রে যায়, এবং হজের মৌসুমে সুযোগ পেয়ে যথাযথভাবে হজ পালন করে, তাহলে তার ফরজ হজ আদায় হয়ে যাবে।

হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিধানের অন্যতম। হজের মৌসুমে মক্কায় গিয়ে হজ করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে, এমন মুসলমানদের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

পবিত্র কোরআনে হজ আবশ্যক করে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হিদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য। তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহিম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। (সুরা আলে ইমরান: ৯৬, ৯৭)

যাদের হজ পালন করার সামর্থ্য আছে তাদের কর্তব্য দ্রুত হজ পালন করে নেওয়া। অযথা দেরি করা ঠিক নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস হারিয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়। (সুনানে ইবনে মাজা: ২৮৮৩)

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার যে বান্দার শরীর আমি সুস্থ রেখেছি, তার রিজিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করেছি, সে যদি এ অবস্থায় পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমার ঘরে হজের উদ্দেশ্যে না আসে, তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত। (সহিহ ইবনে হিববান: ৩৬৯৫)

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, হজ পালনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কোনো গুরুতর সংকট, কোনো জুলুমকারী শাসকের বাধা কিংবা চলাচলে অক্ষম করে দেওয়া কোনো রোগ, এরপরও সে হজ না করে মারা যায়, সে চাইলে ইহুদি হয়ে মরুক, কিংবা চাইলে খ্রিস্টান হয়ে মরুক! (সুনানে দারেমি: ১৮২৬)

তাই প্রবাসে থাকা অবস্থায় হজ পালনের সুযোগ পেলে হজ পালন করে ফেলা কর্তব্য। অযথা দেরি করা ঠিক নয়।

ওএফএফ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

প্রবাস থেকে হজ পালন করলে ফরজ হজ আদায় হবে?

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রশ্ন: প্রবাস থেকে হজ পালন করলে ফরজ হজ আদায় হবে? আমার মূল আবাস বাংলাদেশে, জীবিকা উপার্জনের প্রয়োজনে কুয়েতে থাকি, মাঝে মাঝে দেশে যাই। আমি যদি কুয়েত থেকে সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন করি, তাহলে কি আমার ফরজ হজ আদায় হবে? সৌদি আরব প্রবাসীরা হজ করলে তাদের ফরজ হজ আদায় হবে?

উত্তর: ফরজ হজ আদায় করার জন্য মাতৃভূমি বা নিজের মূল আবাস থেকে সফর করে মক্কায় যাওয়া জরুরি নয়, বরং পৃথিবীর যে কোনো জায়গা থেকে মক্কায় পৌঁছে যথানিয়মে হজ পালন করলেই ফরজ হজ আদায় হয়ে যায়। কেউ যদি কুয়েতে, কাতারে বা সৌদি আরবেও অন্য কোনো কাজের সূত্রে যায়, এবং হজের মৌসুমে সুযোগ পেয়ে যথাযথভাবে হজ পালন করে, তাহলে তার ফরজ হজ আদায় হয়ে যাবে।

হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিধানের অন্যতম। হজের মৌসুমে মক্কায় গিয়ে হজ করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে, এমন মুসলমানদের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

পবিত্র কোরআনে হজ আবশ্যক করে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হিদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য। তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহিম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। (সুরা আলে ইমরান: ৯৬, ৯৭)

যাদের হজ পালন করার সামর্থ্য আছে তাদের কর্তব্য দ্রুত হজ পালন করে নেওয়া। অযথা দেরি করা ঠিক নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস হারিয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়। (সুনানে ইবনে মাজা: ২৮৮৩)

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার যে বান্দার শরীর আমি সুস্থ রেখেছি, তার রিজিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করেছি, সে যদি এ অবস্থায় পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমার ঘরে হজের উদ্দেশ্যে না আসে, তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত। (সহিহ ইবনে হিববান: ৩৬৯৫)

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, হজ পালনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কোনো গুরুতর সংকট, কোনো জুলুমকারী শাসকের বাধা কিংবা চলাচলে অক্ষম করে দেওয়া কোনো রোগ, এরপরও সে হজ না করে মারা যায়, সে চাইলে ইহুদি হয়ে মরুক, কিংবা চাইলে খ্রিস্টান হয়ে মরুক! (সুনানে দারেমি: ১৮২৬)

তাই প্রবাসে থাকা অবস্থায় হজ পালনের সুযোগ পেলে হজ পালন করে ফেলা কর্তব্য। অযথা দেরি করা ঠিক নয়।

ওএফএফ