ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের চোখ এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে। উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা) মাটিতে হতে যাওয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে সামনে রেখে নিজের স্বপ্ন, মানসিকতা এবং ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
বিশ্বকাপে শেষবার কাতার ২০২২ আসরে ইংল্যান্ডের বিদায় এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় কেইনকে। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি মিস করে দলের ২-১ গোলের হারের অন্যতম কারণ হয়েছিলেন তিনি। ম্যাচে গোল করলে সমতায় ফিরতে পারতো ইংল্যান্ড; কিন্তু সেই হতাশা তাকে ভেঙে দেয়নি, বরং আরও শক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন কেইন।
ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে সেটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল। ওই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাকে মানসিকভাবে অনেক শক্ত হতে হয়েছে এবং আমি সেটা পেরেছি। শেষ পর্যন্ত আমার মনে হয়, ওই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও ভালো খেলোয়াড় বানিয়েছে।’
কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই যেন নতুন রূপে দেখা গেছে কেইনকে। বিশ্বকাপের মাত্র তিনমাস পরই ওয়েম্বলিতে ইতালির বিপক্ষে গোল করে ওয়েইন রুনির ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। ৫৪তম গোল করে ইতিহাস গড়া সেই কেইন এরপর আরও ২৪ গোল যোগ করেছেন নিজের নামের পাশে।
শুধু জাতীয় দল নয়, ক্লাব ফুটবলেও দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন এই স্ট্রাইকার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোলের পর গোল করে যাচ্ছেন তিনি। চলতি মৌসুমে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নদের জার্সিতে ৫০টির বেশি গোল করেছেন হ্যারি কেইন।
সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর অবস্থায় বিশ্বকাপে যেতে চান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তার বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে থ্রি লায়ন্সরা, আর সেই স্বপ্নপূরণের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত কেইন।
বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কেইন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই মঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। অনেক সময় বিশ্বকাপে এসে খেলোয়াড়রা পরিস্থিতিকে ভয় পায় কিংবা ব্যর্থতার ভয় কাজ করে। কিন্তু এটাই তো জীবনের অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটার জন্যই বাঁচি। প্রতিদিন অনুশীলন করি, মাঠে নামি, যেন এই মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে পারি। ক্যারিয়ার খুব ছোট। জীবনে খুব বেশি বড় টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ আসে না। তাহলে ভয় নিয়ে সময় নষ্ট কেন? মাঠে গিয়ে নিজেকে প্রকাশ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তরুণ ফুটবলারদের পাশে থাকার কথাও বলেছেন কেইন। তার মতে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দায়িত্ব হলো নতুনদের চাপমুক্ত রাখা এবং আত্মবিশ্বাস জোগানো।
ইংল্যান্ডের অধিনায়কের বিশ্বাস, ভয়কে জয় করেই বিশ্বমঞ্চে সফল হওয়া সম্ভব। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন হ্যারি কেইন।
আইএইচএস/
এডমিন 














