০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈচিত্র্যে যারা বিভাজন তৈরি করতে চায় তারা দেশদ্রোহী: তথ্যমন্ত্রী

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • 3

দেশ ও জাতির বৈচিত্র্যে যারা বিভাজন তৈরি করতে চায় তারা দেশদ্রোহী বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (১৫ মে) বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিসু ও চাংক্রান পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে এ আয়োজন করা হয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলে বাংলাদেশ। আমরা যদি এটাকে মানব শরীরের কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে একটা শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন সেই মানুষ অনিবার্যভাবে ধারণ করে, তেমনি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সব ধরনের জনগোষ্ঠীকে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ ধারণ করে। কোন অঙ্গ বড়, কোন অঙ্গ ছোট, আমরা যেমন আমাদের শরীরের ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা কখনোই বিবেচনা করি না, সবটা মিলেই যেমন আমাদের একটা শরীর; তেমনই দেশের সব ধরনের জাতিসত্তা, ধর্মীয় সত্তা, ভাষাগত সত্তা, লিঙ্গগত সত্তা- এই সব বৈচিত্র্যের সংমিশ্রণের মধ্য দিয়েই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ।’

‘আমরা সবাই সমতার মধ্যে এই দেশের নাগরিকত্বের সব অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার রাখি, ক্ষমতা রাখি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব ধরনের বৈষম্য নির্বিশেষে এই সব নাগরিকের অধিকারকে নিশ্চিত করা,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি তার বক্তব্যে প্রারম্ভিকভাবে জাতিকে যখন সম্বোধন করেন, তখন পরিষ্কারভাবে বলেছেন, পাহাড়ি এবং সমতলের নাগরিক ভাইয়েরা আমরা সমান। শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই কিন্তু এই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। ফলে সরকারের প্রধান হিসেবে তার এই ঘোষণাকে, আমাদের সরকার ভবিষ্যতের নাগরিক অধিকার চর্চা করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের বৈচিত্র্যকে কেউ যেন বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। আমাদের ভাষার বৈচিত্র্য, আমাদের লিঙ্গের বৈচিত্র্য, আমাদের ধর্মের বৈচিত্র্য এবং আমাদের জাতিসত্তার বৈচিত্র্য- আমরা এই বৈচিত্র্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করতে চাই। সভ্যতা আর ইতিহাস থেকে শিখেছি- যেই দেশ, যেই জাতি যত বেশি বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে জানে, সেই দেশ, সেই জাতি তত বেশি শিখরসম্পন্ন হয়। তার অবদানের ক্ষমতা আরও অনেক বাড়ে।’

এ ক্ষেত্রে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে জানান, বৈচিত্র্যের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তারা একটি শক্তিশালী কাঠামো শুধু অর্জন করেনি, সেই সঙ্গে তারা বিচিত্র উৎস পেয়েছে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার। যার সংমিশ্রণ এই রাষ্ট্রকে অনেক শক্তিশালী করেছে।

‘আমাদের দেশেও প্রকৃতিগতভাবে যে বৈচিত্র্য পেয়েছি, একে ধারণ করা হচ্ছে দেশপ্রেম। এই বৈচিত্র্যকে যারা বিভাজনের ক্ষেত্রে নিয়ে যেতে চায় তারা হচ্ছে দেশদ্রোহী। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা রাখা যাবে না। যারা বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে জানে না, যারা এখানে জোর করে বিভাজন তৈরি করতে চায়, আমরা ধরে নেব তারা দেশবিরোধী। যারা বৈচিত্র্যের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সম্মান দিতে চায় না, সসম্মানে রাখতে চায় না, আমরা তাদেরও মনে করবো দেশবিরোধী,’ যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

এসময় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পশ্চাৎপদ যে জাতিগোষ্ঠী তাদের অগ্রগামী করার জন্য কোনো বিশেষব্যবস্থা থাকবে না? আমি মনে করি অবশ্যই থাকা উচিত। আমাদের এই সব জাতিসত্তাকে মূল জাতীয় স্রোতের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সংহতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবশ্যই কোটা থাকা উচিত। মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হবে যারা সমান্তরাল জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের জন্য। সেখানে অবশ্যই কোনোভাবে মেধা ছাড়া কোনো মানদণ্ড হতে পারবে না। কিন্তু প্রকৃতিগতভাবেই যে বৈচিত্র্য আমাদের আছে, সেই বৈচিত্র্যকে এক করার জন্য, তাদের এগিয়ে আনার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত, যারা একটু পশ্চাৎপদ হয়ে আছেন, সমান্তরাল জাতির স্রোতের সঙ্গে যদি তাদের মিশ্রণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই এই কাঠামোগুলোর মধ্যে তাদের অংশগ্রহণ অনিবার্য করতে হবে। আর তাদের অংশগ্রহণকে অনিবার্য করতে গিয়ে যে কোটা দিতে হবে সেটা কিন্তু মেধার কোটার সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত তৈরি করে না।’

কেআর/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

বৈচিত্র্যে যারা বিভাজন তৈরি করতে চায় তারা দেশদ্রোহী: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দেশ ও জাতির বৈচিত্র্যে যারা বিভাজন তৈরি করতে চায় তারা দেশদ্রোহী বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (১৫ মে) বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিসু ও চাংক্রান পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে এ আয়োজন করা হয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলে বাংলাদেশ। আমরা যদি এটাকে মানব শরীরের কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে একটা শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন সেই মানুষ অনিবার্যভাবে ধারণ করে, তেমনি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সব ধরনের জনগোষ্ঠীকে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ ধারণ করে। কোন অঙ্গ বড়, কোন অঙ্গ ছোট, আমরা যেমন আমাদের শরীরের ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা কখনোই বিবেচনা করি না, সবটা মিলেই যেমন আমাদের একটা শরীর; তেমনই দেশের সব ধরনের জাতিসত্তা, ধর্মীয় সত্তা, ভাষাগত সত্তা, লিঙ্গগত সত্তা- এই সব বৈচিত্র্যের সংমিশ্রণের মধ্য দিয়েই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ।’

‘আমরা সবাই সমতার মধ্যে এই দেশের নাগরিকত্বের সব অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার রাখি, ক্ষমতা রাখি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব ধরনের বৈষম্য নির্বিশেষে এই সব নাগরিকের অধিকারকে নিশ্চিত করা,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি তার বক্তব্যে প্রারম্ভিকভাবে জাতিকে যখন সম্বোধন করেন, তখন পরিষ্কারভাবে বলেছেন, পাহাড়ি এবং সমতলের নাগরিক ভাইয়েরা আমরা সমান। শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই কিন্তু এই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। ফলে সরকারের প্রধান হিসেবে তার এই ঘোষণাকে, আমাদের সরকার ভবিষ্যতের নাগরিক অধিকার চর্চা করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের বৈচিত্র্যকে কেউ যেন বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। আমাদের ভাষার বৈচিত্র্য, আমাদের লিঙ্গের বৈচিত্র্য, আমাদের ধর্মের বৈচিত্র্য এবং আমাদের জাতিসত্তার বৈচিত্র্য- আমরা এই বৈচিত্র্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করতে চাই। সভ্যতা আর ইতিহাস থেকে শিখেছি- যেই দেশ, যেই জাতি যত বেশি বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে জানে, সেই দেশ, সেই জাতি তত বেশি শিখরসম্পন্ন হয়। তার অবদানের ক্ষমতা আরও অনেক বাড়ে।’

এ ক্ষেত্রে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে জানান, বৈচিত্র্যের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তারা একটি শক্তিশালী কাঠামো শুধু অর্জন করেনি, সেই সঙ্গে তারা বিচিত্র উৎস পেয়েছে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার। যার সংমিশ্রণ এই রাষ্ট্রকে অনেক শক্তিশালী করেছে।

‘আমাদের দেশেও প্রকৃতিগতভাবে যে বৈচিত্র্য পেয়েছি, একে ধারণ করা হচ্ছে দেশপ্রেম। এই বৈচিত্র্যকে যারা বিভাজনের ক্ষেত্রে নিয়ে যেতে চায় তারা হচ্ছে দেশদ্রোহী। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা রাখা যাবে না। যারা বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে জানে না, যারা এখানে জোর করে বিভাজন তৈরি করতে চায়, আমরা ধরে নেব তারা দেশবিরোধী। যারা বৈচিত্র্যের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সম্মান দিতে চায় না, সসম্মানে রাখতে চায় না, আমরা তাদেরও মনে করবো দেশবিরোধী,’ যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

এসময় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পশ্চাৎপদ যে জাতিগোষ্ঠী তাদের অগ্রগামী করার জন্য কোনো বিশেষব্যবস্থা থাকবে না? আমি মনে করি অবশ্যই থাকা উচিত। আমাদের এই সব জাতিসত্তাকে মূল জাতীয় স্রোতের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সংহতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবশ্যই কোটা থাকা উচিত। মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হবে যারা সমান্তরাল জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের জন্য। সেখানে অবশ্যই কোনোভাবে মেধা ছাড়া কোনো মানদণ্ড হতে পারবে না। কিন্তু প্রকৃতিগতভাবেই যে বৈচিত্র্য আমাদের আছে, সেই বৈচিত্র্যকে এক করার জন্য, তাদের এগিয়ে আনার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত, যারা একটু পশ্চাৎপদ হয়ে আছেন, সমান্তরাল জাতির স্রোতের সঙ্গে যদি তাদের মিশ্রণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই এই কাঠামোগুলোর মধ্যে তাদের অংশগ্রহণ অনিবার্য করতে হবে। আর তাদের অংশগ্রহণকে অনিবার্য করতে গিয়ে যে কোটা দিতে হবে সেটা কিন্তু মেধার কোটার সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত তৈরি করে না।’

কেআর/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।