০৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেহেরপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

তীব্র তাপদাহের মধ্যেই মেহেরপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে পুরো এলাকাকে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গাংনী ও বামন্দী অঞ্চলের বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুতের এই অনিয়মিত সরবরাহ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দিনে তীব্র গরমে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে, আর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। ফলে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

গাংনী উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, এই সময়টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। জমিতে সেচ দেওয়ার শেষ সময় চলছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না। ডিজেল দিয়ে চালাতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এতে লাভের বদলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একই এলাকার আরেক কৃষক শিহাব উদ্দিন জানান, আমরা এখন দিশেহারা। সার, বীজ, সেচ সব কিছুর খরচ বেড়েছে। তার মধ্যে যদি বিদ্যুৎ না পাই, তাহলে ফসল ফলানোই কঠিন হয়ে যাবে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।

শুধু কৃষকরাই নয়, সাধারণ মানুষের জীবনেও এই লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে।

বামন্দী এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ আবেদা খাতুন বলেন, দিনে গরমে বাচ্চাদের নিয়ে ঘরে থাকা যায় না, আবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। রান্না-বান্না, পানি তোলা— সব কিছুতেই সমস্যা হচ্ছে।

একই এলাকার কলেজ ছাত্র সুমন হোসেন বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া খুব কঠিন হয়ে গেছে। রাতে পড়াশোনা করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। মোবাইল চার্জও থাকে না ঠিকমতো, ফলে অনলাইন পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।

গাংনী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, ফ্রিজে রাখা অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইসক্রিম, দুধ, ঠান্ডা পানীয় এসব রাখতে পারছি না। বিক্রি কমে গেছে, লোকসান বাড়ছে।

অন্যদিকে বামন্দী বাজারের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। গ্রাহকরা অনেক সময় পণ্য দেখতে এসে বিদ্যুৎ না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন। এতে বিক্রি কমে যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

স্থানীয়রা আরও জানান, বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যাচ্ছে না। আগে যেখানে জেনারেটর ব্যবহার করে কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতো, এখন ডিজেলের উচ্চমূল্য ও অপ্রতুলতার কারণে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ-এর জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ জানান, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছি না। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না আসায় নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আসিফ ইকবাল/এনএইচআর

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

মেহেরপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র তাপদাহের মধ্যেই মেহেরপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে পুরো এলাকাকে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গাংনী ও বামন্দী অঞ্চলের বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুতের এই অনিয়মিত সরবরাহ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দিনে তীব্র গরমে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে, আর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। ফলে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

গাংনী উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, এই সময়টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। জমিতে সেচ দেওয়ার শেষ সময় চলছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না। ডিজেল দিয়ে চালাতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এতে লাভের বদলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একই এলাকার আরেক কৃষক শিহাব উদ্দিন জানান, আমরা এখন দিশেহারা। সার, বীজ, সেচ সব কিছুর খরচ বেড়েছে। তার মধ্যে যদি বিদ্যুৎ না পাই, তাহলে ফসল ফলানোই কঠিন হয়ে যাবে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।

শুধু কৃষকরাই নয়, সাধারণ মানুষের জীবনেও এই লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে।

বামন্দী এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ আবেদা খাতুন বলেন, দিনে গরমে বাচ্চাদের নিয়ে ঘরে থাকা যায় না, আবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। রান্না-বান্না, পানি তোলা— সব কিছুতেই সমস্যা হচ্ছে।

একই এলাকার কলেজ ছাত্র সুমন হোসেন বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া খুব কঠিন হয়ে গেছে। রাতে পড়াশোনা করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। মোবাইল চার্জও থাকে না ঠিকমতো, ফলে অনলাইন পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।

গাংনী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, ফ্রিজে রাখা অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইসক্রিম, দুধ, ঠান্ডা পানীয় এসব রাখতে পারছি না। বিক্রি কমে গেছে, লোকসান বাড়ছে।

অন্যদিকে বামন্দী বাজারের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। গ্রাহকরা অনেক সময় পণ্য দেখতে এসে বিদ্যুৎ না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন। এতে বিক্রি কমে যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

স্থানীয়রা আরও জানান, বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যাচ্ছে না। আগে যেখানে জেনারেটর ব্যবহার করে কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতো, এখন ডিজেলের উচ্চমূল্য ও অপ্রতুলতার কারণে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ-এর জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ জানান, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছি না। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না আসায় নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আসিফ ইকবাল/এনএইচআর