প্রতি এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের শত শত রোগী ও তাদের স্বজনরা। একই অবস্থা বিরাজ করছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও।
শেবাচিম হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গরমের মধ্যে দৈনিক ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ যায়। প্রতিবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে তীব্র গরমের পাশাপাশি পানির সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেবাচিম হাসপাতালের মূল ভবনের সঙ্গে পূর্ব পাশে কয়েক বছর আগে নতুন আরেকটি ৫তলা ভবন হয়েছে। সেখানে মেডিসিনের দুটি ইউনিট এবং দন্ত বিভাগ রয়েছে। এই ভবনে প্রতিদিন ৫ শতাধিক ভর্তি রোগী থাকে।
রোগী ও স্বজনরা জানান, মূল ভবনে তেমন বিদ্যুৎ না গেলেও নতুন ভবনে লোডশেডিং লেগেই থাকে। অথচ জেনারেটর সুবিধা নেই নতুন ভবনে। এতে রোগীদের হাঁসফাঁস অবস্থা। এর মধ্যে টয়লেটে পানি থাকে না।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বানারীপাড়ার রহমান জানান, বিদ্যুৎতো থাকেই না, মাঝে মাঝে আসে। চিকিৎসার পাশাপাশি এখন নতুন ভোগান্তি বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
একই অভিযোগ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের। তারা বলেন, দিনরাত মিলিয়ে কমপক্ষে ৪ বার বিদ্যুৎ যায়। প্রতিবার কমপক্ষে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। তখন কোনো লিফটও চলে না। অনেকেই চিকিৎসা নিতে এসে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, হাসপাতালের পুরাতন ভবনের বিদ্যুতের দুটি ফিডারের সংযোগ থাকায় এই ভবনে দুর্ভোগ কম। মাঝে মাঝে দুটি ফিডারে লোডশেডিং হলে একটি দ্রুত সময়ে চলে আসে। অপরদিকে নতুন ভবনে মাত্র একটি ফিডারের সংযোগ। সেটিতে লোডশেডিংয়ের সময়ে ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়।
বিকল্প ব্যবস্থা প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, জেনারেটর আছে। তবে জ্বালানি খাতে বরাদ্দ নেই। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য গণপূর্ত বিভাগ অন্য খাত থেকে হাসপাতালে অল্প পরিমাণ জ্বালানি দিচ্ছে। ওই জ্বালানি দিয়ে শুধু জরুরি অস্ত্রোপচারে সীমিত সময়ের জন্য জেনারেটর চালানো হয়।
একই অবস্থা বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের। এই হাসপাতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি নেই জেনারেটর। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে রোগী ও তাদের স্বজনরা।
জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বজনরা হাতপাখা নিয়ে রোগীদের বাতাস করছে। রোগীর স্বজনরা জানান, বিদ্যুৎ বন্ধ হলে হাসপাতালটির পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালে জেনারেটরও নেই, একরকম বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নেন।
এ ব্যাপারে জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হাসপাতালে মাত্র একটি ফেজের বিদ্যুৎ সংযোগ। এই ফেজে লোডশেডিংয়ের সময় পুরো হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আরেকটি ফেজের সংযোগ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালে একটি জেনারেটর ছিল। সেটা অনেক আগে থেকেই বিকল হয়ে আছে।
শাওন খান/এফএ/এএসএম
এডমিন 











