শরীয়তপুরে চন্দ্রপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে তিনদিন ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে। পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালেশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের সঙ্গে মোবাইলফোনে পরিচয়ে আট বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় পিরোজপুর জেলার আসমা আক্তার।
এটি তাদের দুজনের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর আসমা আক্তারকে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখেন স্বামী জিয়া সরদার। সবশেষ গত বছর জিয়া সরদার দেশে ফিরলে দুজনে চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়াবাসায় বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি স্ত্রী আসমার সঙ্গে জিয়া সরদারের পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। সেই জের ধরে ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে স্বামী জিয়া সরদারকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন স্ত্রী আসমা। এরপর মরদেহটি লুকিয়ে রাখতে ছুরির সাহায্য দেহটি কয়েক টুকরো করে হাড় মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন তিন দিন।
সবশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়। পরবর্তীতে দেহের মাংসগুলো শহরের পালং এলাকায় পুরাতন ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার বাড়িতে ফ্রিজে রাখতে গেলে বাঁধে বিপত্তি। তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ওই নারীকে আটক শেষে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিভিন্নস্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এছাড়াও একই দিন বিকেলে নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর হতে নিহতের খণ্ডিত চার হাত-পা উদ্ধার করে নড়িয়া থানা পুলিশ। অকপটে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আসমা বেগম।
নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। ভাই দেশে আসার পর আলাদা একটি জায়গায় বাসাভাড়া নিয়ে থাকতো। কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি ভাইকে নাকি ওই নারী হত্যা করে ড্রামে ভরে মরদেহ ফেলে রেখেছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি সত্যিই এমনটা হয়েছে। পুলিশ ওই নারীকে আটক করেছে। আমি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, আমরা স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এতো জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে মরদেহ টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। আমি একটা পিঁপড়াও মারিনি। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেলো বুঝতে পারিনি।
বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আসমা তার স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যার পর মরদেহের হাত-পা টুকরো করে মাংস আলাদা করে ফেলে। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ড্রামে ভরে অটোতে করে মরদেহের বিভিন্ন অংশ কয়েকটি জায়গায় ফেলে রাখেন। পরে মাংসগুলো তার সাবেক ভাড়াবাসায় ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর কল দেয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা ড্রাম খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে জিজ্ঞেস করলে সব কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
বিধান মজুমদার অনি/এনএইচআর
এডমিন 














