১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমরা প্রেমে ছিলাম কি না, কেউ জানতে চায়নি’—সাকলায়েন প্রসঙ্গে পরীমনি

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • 2

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর আবারও আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে বহুল আলোচিত সেই ঘটনা।

আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর পরীমনি

২০২৪ সালের ২৫ জুন প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছিলেন পরীমনি। তখনো তিনি দাবি করেছিলেন, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।

সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনের চাকরি হারানোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পরীমনি বলেছিলেন, ‘আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।’
সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।’

চিত্রনায়িকা পরীমনি

নিজেদের সম্পর্কের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে।’
পরীমনি তখন আরও বলেছিলেন, ‘আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে।’

সাক্ষাৎকারে পরীমনি দাবি করেন, সাকলায়েনের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারও বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’

কার সেই ব্যক্তিগত আক্রোশ—এ প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমি জানি না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। কিন্তু এমনটা নয়, প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না।’
সাকলায়েনকে একজন মেধাবী কর্মকর্তা উল্লেখ করে পরীমনি তখন বলেছিলেন, ‘নিঃসন্দেহে সাকলায়েন একজন ট্যালেন্ট ও সফল মানুষ। ওর পেছনেও অনেকে হয়তো লেগেছিল। তার এখনকার বরখাস্ত হওয়ার ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত। এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। সাকলায়েনের প্রতি নিঃসন্দেহে অন্যায় হয়েছে।’

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে পরীমনি বলেন, ‘তবে সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। সে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’

পরীমনি

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য তুরস্কে বড় পর্দায় খেলা দেখা নিষিদ্ধ

‘আমরা প্রেমে ছিলাম কি না, কেউ জানতে চায়নি’—সাকলায়েন প্রসঙ্গে পরীমনি

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর আবারও আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে বহুল আলোচিত সেই ঘটনা।

আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর পরীমনি

২০২৪ সালের ২৫ জুন প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছিলেন পরীমনি। তখনো তিনি দাবি করেছিলেন, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।

সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনের চাকরি হারানোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পরীমনি বলেছিলেন, ‘আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।’
সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।’

চিত্রনায়িকা পরীমনি

নিজেদের সম্পর্কের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে।’
পরীমনি তখন আরও বলেছিলেন, ‘আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে।’

সাক্ষাৎকারে পরীমনি দাবি করেন, সাকলায়েনের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারও বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’

কার সেই ব্যক্তিগত আক্রোশ—এ প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমি জানি না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। কিন্তু এমনটা নয়, প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না।’
সাকলায়েনকে একজন মেধাবী কর্মকর্তা উল্লেখ করে পরীমনি তখন বলেছিলেন, ‘নিঃসন্দেহে সাকলায়েন একজন ট্যালেন্ট ও সফল মানুষ। ওর পেছনেও অনেকে হয়তো লেগেছিল। তার এখনকার বরখাস্ত হওয়ার ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত। এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। সাকলায়েনের প্রতি নিঃসন্দেহে অন্যায় হয়েছে।’

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে পরীমনি বলেন, ‘তবে সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। সে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’

পরীমনি

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।