০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুর নিখোঁজের ২৩ দিন পর পুরোনো কবরে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:২১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • 3

শরীয়তপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর মনু ব্যাপারী নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ পুরোনো একটি কবরের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে চর চটাং এলাকার মাদবর বাড়ির একটি পুরোনো কবর থেকে তার মরদেহের সন্ধান পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ২৫ দিন আগে মনু ব্যাপারী (৬৫) নিখোঁজ হন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৩ এপ্রিল পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বোন মিনারা বেগম।

সোমবার সকালে মিনারা বেগম বাড়ির পাশেই তিন বছর আগে মারা যাওয়া তার মামাতো ভাই সাহেব আলী মাদবরের কবরের ওপর নতুন মাটি দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। একই সময় পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে রহস্যজনক গর্ত দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবর খুঁড়ে মনু ব্যাপারীর মরদেহ পায়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, মনু ব্যাপারীকে হত্যা করে প্রথমে ওই পরিত্যক্ত ঘরে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে পুরোনো কবরের পায়ের কাছে ছোট গর্ত করে মরদেহ কবরের মধ্যে ঢোকানো হয়।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে মনু ব্যাপারীর মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবর ও তার স্ত্রী পারভীন পলাতক রয়েছেন। এতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিহতের মেয়ে মিম আক্তার বলেন, আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী তার কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা নিয়ে তাকে ডিভোর্স দেন। এ ঘটনায় বাবা মামলা করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। ফারুক মাদবর ও তার স্ত্রীকে টাকা দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

মনু ব্যাপারীর বোন মিনারা বেগম বলেন, আমরা অনেক খোঁজ করেছি, কোথাও পাইনি। থানায় জিডি করেছি। আমার ভাইয়ের তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি ছিল। এর আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ বলেন, ১৩ এপ্রিল নিখোঁজের একটি জিডি হয়েছিল। অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে একটি পুরোনো কবরের ভেতর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে পরিত্যক্ত ঘরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। পরে মরদেহটি কবরের ভেতরে সরিয়ে রাখা হয়।

তিনি জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর খনন করে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

শরীয়তপুর নিখোঁজের ২৩ দিন পর পুরোনো কবরে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ

আপডেট সময়ঃ ০৬:২১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর মনু ব্যাপারী নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ পুরোনো একটি কবরের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে চর চটাং এলাকার মাদবর বাড়ির একটি পুরোনো কবর থেকে তার মরদেহের সন্ধান পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ২৫ দিন আগে মনু ব্যাপারী (৬৫) নিখোঁজ হন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৩ এপ্রিল পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বোন মিনারা বেগম।

সোমবার সকালে মিনারা বেগম বাড়ির পাশেই তিন বছর আগে মারা যাওয়া তার মামাতো ভাই সাহেব আলী মাদবরের কবরের ওপর নতুন মাটি দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। একই সময় পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে রহস্যজনক গর্ত দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবর খুঁড়ে মনু ব্যাপারীর মরদেহ পায়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, মনু ব্যাপারীকে হত্যা করে প্রথমে ওই পরিত্যক্ত ঘরে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে পুরোনো কবরের পায়ের কাছে ছোট গর্ত করে মরদেহ কবরের মধ্যে ঢোকানো হয়।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে মনু ব্যাপারীর মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবর ও তার স্ত্রী পারভীন পলাতক রয়েছেন। এতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিহতের মেয়ে মিম আক্তার বলেন, আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী তার কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা নিয়ে তাকে ডিভোর্স দেন। এ ঘটনায় বাবা মামলা করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। ফারুক মাদবর ও তার স্ত্রীকে টাকা দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

মনু ব্যাপারীর বোন মিনারা বেগম বলেন, আমরা অনেক খোঁজ করেছি, কোথাও পাইনি। থানায় জিডি করেছি। আমার ভাইয়ের তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি ছিল। এর আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ বলেন, ১৩ এপ্রিল নিখোঁজের একটি জিডি হয়েছিল। অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে একটি পুরোনো কবরের ভেতর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে পরিত্যক্ত ঘরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। পরে মরদেহটি কবরের ভেতরে সরিয়ে রাখা হয়।

তিনি জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর খনন করে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সালাউদ্দিন/সাএ